বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

নাইকো মামলায় শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজিরের দাবি খালেদার

খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত।’

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৬ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৬
প্রকাশিত: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৬ আপডেট: ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:২৬


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয় কম) নাইকো মামলার কার্যক্রমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে আদালতে হাজির করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া

৮ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার নাইকো মামলার শুনানির সময় আদালতে খালেদা জিয়া এ দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ছিল।

শুনানি শেষে বিচারক মাহমুদুল কবির আগামী ১৪ নভেম্বর বুধবার এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। ঢাকার বিশেষ আদালত-৯-এ মামলাটির বিচারকাজ চলছে।

শুনানিতে খালেদা জিয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও নাইকো দুর্নীতি মামলায় আসামি ছিলেন। কাজেই তাকেও এখানে হাজির করা উচিত।’

এ সময় বিচারক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার আসামি নন। কাজেই তাকে এখানে হাজির করানোর কোনো প্রশ্ন ওঠে না।’

এরপর এই মামলার অন্যতম আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। প্রথমে মওদুদ আহমদ শুনানি না করার জন্য আদালতে একটি দরখাস্ত করেছিলেন। কিন্তু আদালত সে দরখাস্ত নামঞ্জুর করে তাকে শুনানিতে অংশ নিতে নির্দেশ দেয়।

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়া হয়। খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল থেকে আজই তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল খেকে কারাগারে নেওয়ার ব্যাপারে হাইকোর্টকে জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট বার। সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি-সম্পাদকসহ অধিকাংশ আইনজীবী বিএনপিপন্থি। অনুমতি ব্যতিরেকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে নেওয়া আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী নেতারা। 

নাইকো মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছিলেন। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনটি গ্যাসক্ষেত্র পরিত্যক্ত দেখিয়ে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর হাতে ‘তুলে দেওয়ার’ মাধ্যমে আসামিরা রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। আসামি পক্ষ এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।

শুনানি শেষে আদালত ২০০৮ সালের ৯ জুলাই এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন। এরপর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে। পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ডিসেম্বরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক আমিনুল ইসলাম ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয় আদালত। সেই দিন থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...