কোকা-কোলা চেনেন না এমন মানুষ কমই রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পরিচিত এই পানীয়ের যে তথ্যগুলো আপনার অজানা

আপনি কি জানেন, কোকা-কোলায় একসময় কোকেইন মেশানো হতো?

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৮ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৯
প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৮ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১০:০৯


কোকা-কোলা চেনেন না এমন মানুষ কমই রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) কোকা-কোলা চেনেন না এমন মানুষ কমই পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্যের কথা ভেবে অনেকেই কোক পান করা কমিয়ে দিয়েছেন, বা একেবারেই বাদ দিয়েছেন। কিন্তু জীবনে কখনো না কখনো তারাও এই পানীয়ের স্বাদ নিয়েছেন।  এমনও মানুষ আছেন, কোক ছাড়া তাদের চলেই না! দৈনিক কোক পান করেন তারা। কিন্তু কোকের ইতিহাসে এমন অনেক তথ্য আছে, কোকের একনিষ্ঠ ভক্তরাও সেসব তথ্য জানেন না! আজ জেনে নিন কোকা-কোলার মজার ৭টি তথ্য।

১) প্রতিযোগিতা কমাতে তৈরি হয় এই বোতল

কোকা-কোলার দেখাদেখি অনেক কোম্পানিই কোলা উৎপাদন শুরু করে। প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবার জন্য কোকা-কোলা এমন একটি বোতল তৈরির চিন্তা করে যা অন্য সবার বোতলের চেয়ে আলাদা হবে। অন্ধকারে এমনকি ভেঙে গেলেও এই বোতল চেনা যাবে। এই চিন্তা থেকে ১৯১৫ সালে এক ডিজাইন কম্পিটিশন হয়। বিজয়ী ডিজাইনটিকে আরেকটু পরিবর্তন করে তৈরি হয় কোকের বোতল, যার ডিজাইন এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে।

২) ডিজাইন করা হয়েছিল ভুল গাছের কথা ভেবে

কোকের বোতলের ডিজাইন যে ব্যক্তি করেছিলেন, তিনি কোকোয়া গাছের বীজের মতো করে বোতলটি ডিজাইন করেন। আসলে কোকা-কোলার নামটি এসেছে কোকা গাছ থেকে, কোকোয়া গাছ থেকে নয়। তবে ভুল হলেও সেই ডিজাইনটিই এখনো টিকে আছে।

৩) কোকা-কোলায় কোকেইন দেওয়া হতো

কোকা-কোলাকে নিয়ে এই গুজবটি যুক্তরাজ্যের কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করলেও আসলে এক সময়ে কোকেইন বৈধ ছিল, আর কোকে তা মেশানো হতো।  ১৯৮৮ সালে এই কথা স্বীকার করেন কোকা-কোলার এক মুখপাত্র। ১৯২৯ সাল পর্যন্ত কিছু পরিমাণে কোকেইন পাওয়া যায় কোকা-কোলায়।

৪) কোকা-কোলা ওষুধ হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছিল

১৮৯০ এর দশকে কোকা-কোলাকে শুধু সুস্বাদু পানীয় হিসেবে নয়, ওষুধ হিসেবেও বাজারজাত করা হয়। এর কিছু বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়, তা মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দূর করে, মানসিক ও শারীরিক অবসাদ কমায়।

৫) শুধুই রাশিয়ার জন্য কোকা-কোলা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সোভিয়েত নেতা মার্শাল গিওর্গি ঝুকভ কোকা-কোলা পছন্দ করে বসেন। কিন্তু তখন ক্ষমতায় ছিলেন জোসেফ স্টালিন। তিনি কোকা-কোলাকে আমেরিকান প্রতীক হিসেবে দেখবেন বলে তা পান করতে ভয় পেতেন এই নেতা।  এই ইস্যুতে কোকা-কোলার ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম হয়। পরে কোম্পানিটি ঝুকভের জন্য বিশেষ একটি পানীয় তৈরি করে, যার নাম ছিল হোয়াইট কোক।  স্প্রাইটের মতো সাদা এই পানীয়ের বোতলটাও ছিল আলাদা, এর ওপরে সোভিয়েত প্রতীক হিসেবে লাল একটি তারা আঁকা ছিল।

৬) কোকা-কোলা তৈরিতে প্রচুর পানি অপচয় হয়

এক লিটার কোক তৈরি করতে ২.৭ লিটার পানি দরকার হয়।  এ কারণে কোকের বটলিং প্ল্যান্ট বা কারখানাগুলো কৃষকের ক্ষতি করছে বলে অভিযোগ করা হয় ভারত ও ল্যাটিন আমেরিকায়। একটি কোকের কারখানা বেশি পানি ব্যবহার করছিল বলে ২০১৪ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।  

৭) ডায়েট কোকের আগেও একটি সুগারফ্রি কোক ছিল

ক্যালোরি কম, চিনি নেই বলে ডায়েট কোক পছন্দ করেন অনেকে।  কিন্তু ডায়েট কোকের আগেও একটি কম ক্যালোরির পানীয় এনেছিল কোকাকোলা, যার নাম ট্যাব ক্লিয়ার।  ডায়েট কোলা আসার ২০ বছর আগে এই কোলাটি জনপ্রিয় ছিল।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

প্রিয় লাইফ/ আর বি