সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও রাজনৈতিক ও গায়েবী মামলা হয়েছে উল্লেখ করেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ। ছবি: প্রিয়.কম

নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব: অলি

সরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বললেও মাঠে ময়দানে মন্ত্রীদের এখনও পুলিশ পাহারায় চলতে দেখা যায় বলে জানান অলি আহমদ।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৪০ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৪০
প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৪০ আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:৪০


সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও রাজনৈতিক ও গায়েবী মামলা হয়েছে উল্লেখ করেন এলডিপি সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ

১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অলি আহমদ বলেন, ‘বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব এবং সে ক্ষেত্রে বলতে চাই ২০ দল নির্বাচনে আসুক সরকার সেটা চায় কি না তাতে সন্দেহ আছে?’

‘নির্বাচন হবে কি না, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো কিনা সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে সরকারের ওপর। কারণ এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নাই। গত পরশু নির্বাচন কমিশন আইজিকে এক নির্দেশে বলেছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় কোনো মিছিল যাতে না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে ১৪ নভেম্বর, বুধবার দুপুর ১টার পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই প্রসঙ্গে এলডিপির সভাপতি অলি বলেন, ‘বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মনোয়নপত্র জমা দিতে আসা সারা দেশের লাখ নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। এতে নারী কর্মীসহ বিএনপির প্রায় ৬০/৭০ জন মারাত্মক আহত হন।’

‘সে সময় খালেদা জিয়ার মনোয়নয়নপত্র জমা দিতে আসা তার উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুজ্জামান খান বাবু, খুলনা জেলা বিএপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানসহ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে।’

সংঘর্ষের সময় গাড়িতে অগ্নিসংযোগের বিষয়ে কর্নেল অলি বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপি কার্যালয় যখন জনশূন্য তখন একদল হেটমেটধারী লোক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।’

‘এই হেলমেট বাহিনী নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোর ছাত্র-ছাত্রীদের ওপরও হামলা চালিয়েছিল। তখন কর্তব্যরত সাংবাদিকদের অত্যাচার করেছিল। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া যার ছবি পাওয়া গেছে সে ছেলেটি ছাত্রলীগের কর্মী বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।’

দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য গত ৯ নভেম্বর মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের কাছে ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ। মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের শোডাউনের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

কর্নেল অলি বলেন, ‘মাত্র কয়েকদিন আগে ক্ষমতাসীন দল চার হাজারেরও বেশি মনোনয়নফরম বিক্রি করেছে। কেউ কেউ হাতি নিয়ে ঢাকঢোল বাজিয়ে মিছিল সহকারে এসেছেন। নির্বাচন কমিশন তখন কোনো নির্দেশনা বা কোনো আদেশ জারি করেনি। প্রশাসন ও পুলিশ কোনো বাধা দেয়নি, কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।’

‘অন্যদিকে বিএনপির জনসমাগম দেখে তারা শঙ্কিত, কম্পমান, তারা হয়তো মনে করছে এবার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। গদি ছাড়তে হবে। এই ভয়ে তারা নিরাপরাধ নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হলো। এর দুদিন আগে লাখ লাখ নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে এমন কি হলো যে গতকাল হামলা চালাতে হলো?’

ঢাকা-১৩ আসনের জন্য গত ১১ নভেম্বর ফরম কিনতে যান বর্তমান সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। পথে মোহাম্মদী হোমস লিমিটেড এলাকায় আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষে দুই জন নিহত হয়।

অলি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন মারা গেছে। তাতে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার বল‌ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা। কিন্তু মাঠে ময়দানে যখন আমরা যাই তখন দেখি মন্ত্রীরা এখনও পুলিশ পাহারায় চলে।’

‘কয়েক দিন আগে এরশাদ রংপুরে গিয়েছিল, সেখানে তাকে পুলিশের এসপি নিরাপত্তা দিয়েছে। তাহলে বিএনপি ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরও পুলিশের নিরাপত্তা দিতে হবে। অন্যথায় এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে এক সময় জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে দুই দফা সংলাপ করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম দফা সংলাপে বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার, নেতা-কর্মীদের হয়রানি না করার আশ্বাস দেন।

অলি আহমদ বলেন, ‘জাতীয় রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক মামলা দেওয়া যাবে না, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হবে না এবং গায়েবী ও মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।’

‘কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি একথা বলার পরও শতশত রাজনৈতিক ও গায়েবী মামলা হয়েছে এবং হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে আসামি করে ঘর-বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/রুহুল