নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন ভবন, ছবি: প্রিয়.কম।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন: ধোঁয়াশা কাটেনি

কমিশন বলছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা (ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার) দেওয়ার এখতিয়ারই নেই ইসির।

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩২
আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩২


নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন ভবন, ছবি: প্রিয়.কম।

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা (ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার) দিয়ে মোতায়েনের দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আর ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোট বলছে, নির্বাচনে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করতে। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছে রাজনৈতিক জোটগুলো।

এরকম বাস্তবতায় গত ১৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, ভোটের দুই থেকে তিন দিন অথবা সাত থেকে ১০ দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। যদিও এর কয়েক ঘণ্টা পরই বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে ভিন্ন কথা বলেন ইসি সচিব।

তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মূলত এর পর থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। নির্বাচনে সেনাবাহিনী কবে মোতায়েন হবে, হলে স্ট্রাইকিং ফোর্স নাকি ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে মোতায়েন করা হবে—এ ব্যাপারে জানতে ১৬ নভেম্বর, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রিয়.কম তিন জন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে কথা বলে।

কমিশন বলছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়ার এখতিয়ারই নেই ইসির। অন্যদিকে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে কি না, এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। আর যদি সেনা মোতায়েন হয়ও তবে কবে মোতায়েন হবে, সে ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়নি সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠান।

ইসি সচিব একবার সেনা মোতায়েনের কথা বললেও পরে তা পরিবর্তন করে নেওয়ায় নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম  এই ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। আর কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরীকে ফোন করা হলেও তা রিসিভ হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় কমিশনার মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে।

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, হলে কবে মোতায়েন হবে তা জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যেটুকু সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটুকু সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) মহোদয়ের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের মধ্যেই ছিল।’

৮ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে জাতির উদ্দেশে ভাষণে সরাসরি সেনাবাহিনী মোতায়েনের কথা বলেননি সিইসি কে এম নূরুল হুদা। ওই দিন সিইসি বলেছিলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী থেকে ছয় লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাদের মধ্যে থাকবে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ... আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অসামরিক প্রশাসনকে যথা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।’

আজ কথার এক পর্যায়ে কমিশনার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আছে। তিনি বলেন, ‘তবে কীভাবে, কতদিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে, এটা পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

১৫ নভেম্বর বিকেলে একই কথা বলেছিলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ; তিনি ওই দিন সকালে এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের দুই থেকে তিন দিন, এক সপ্তাহ বা ১০ দিন পূর্বে সেনা মোতায়েন থাকবে, বিজিবি মোতায়েন হবে।’ তবে একই দিন বিকেলে ওই বক্তব্য অস্বীকার করেন তিনি।

অস্বীকার করে সচিব ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয় নাই। আমি ওভাবে বলি নাই। আমি বলেছি যে, যেহেতু ইউএনওরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী যখন যাবে তখন যাতে একোমোডেশনটা রাখা হয়, ওই জন্য আমি বলেছি যে, ওটা দুই দিন আগেও যেতে পারে, সাতদিন আগেও যেতে পারে, ১০ দিন আগেও যেতে পারে। সুতরাং তাদের জন্য যাতে পর্যাপ্ত একোমোডেশন রাখা হয়।’

সচিবের বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিদ্ধান্তগুলো একপক্ষ (সচিবকে উদ্দেশ্য করে) থেকে নিয়ে নিলে হবে না। সিদ্ধান্ত নিতে হলে অন্যদের (সিইসি ছাড়াও অন্য তিন কমিশনার) সঙ্গে বসতে হবে।’

সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেস্টি পাওয়ার দেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের নেই বলেও জানান রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রিয়াল পাওয়ার দেওয়ার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের না। ফার্স্ট ক্লাস ম্যাজিস্ট্রেসি দিতে গেলে একটা প্রক্রিয়া আছে। আইনি প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না করলে কাউকে এটা দিয়ে দেওয়া যায় না।’

‘সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রিয়াল পাওয়ার দেওয়া যায় কি না, সেই ব্যাপারটা আইনের মাধ্যমে সিদ্ধ হতে হবে। এটা সিদ্ধ কি না, সেটাই একটা বড় প্রশ্ন’ উল্লেখ করেন এই কমিশনার।

রফিকুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার চাওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ইতোমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। তার ভাষ্য, ‘ইতোমধ্যে আমরা তাদেরকে (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) বলেছি যে, আইনে এরকম কোনো সুযোগ নাই। কারণ সেনাবাহিনী আর বিজিবি কোনোদিনই তাদের আইনে ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া কোথাও মুভ (যাতায়াত) করতে পারে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা বিজিবি মোতায়েন করেছি। তারা ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া মুভ করতে পারেনি।’

তিনি আরও জানান, ভোটের কয় দিন আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে সেই পরিকল্পনা কমিশন ‘করেনি, তা নয়’। রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেই পরিকল্পনা আমাদের মাথার মধ্যে আছে। সিইসিকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমরা এমপাওয়ার্ড করে দিয়েছি। এ বিষয়ে সিইসি যা বলবেন, তা চূড়ান্ত হবে।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট

loading ...