শিশু ফাতেমাকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন মা জেসমিন আক্তার। ছবি: প্রিয়.কম

৯ দিনের শিশু বিক্রি: ফিরে পেতে মায়ের আর্তনাদ

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলে যান জেসমিন। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী এলাকার এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রবিউল।

কাঞ্চন কুমার
কন্ট্রিবিউটর, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৪১ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৪১
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৪১ আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৪১


শিশু ফাতেমাকে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন মা জেসমিন আক্তার। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি পাইকপাড়ায় পরপর তিন কন্যা সন্তানকে জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মাত্র ৯ দিনের কন্যা শিশুকে বিক্রি করেছেন বাবা রবিউল ইসলাম। নিজের সন্তানকে ফিরে পেতে এখন আর্তনাদ করছেন মা জেসমিন আক্তার।

স্থানীয়রা জানান, দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে রবিউল ইসলামের সঙ্গে একই এলাকার রেজাউল হকের মেয়ে জেসমিনের ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। এর আগে জেসমিনের আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় রবিউল ইসলামের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জেসমিন। পরে দুজনে পালিয়ে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে জন্ম হয় সালেকী নামের এক কন্যা সন্তান। এর কয়েক বছর পর আবারও কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জেসমিন। পরপর দুই কন্যা সন্তান হওয়ায় জেসমিনের ওপর নির্যাতন চালাতেন রবিউল।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একাধিকবার বাবার বাড়িতে চলে যান জেসমিন। এরই মধ্যে পার্শ্ববর্তী এলাকার এক গৃহবধূর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রবিউল। বিয়ে করে ঘরে তুলে আনেন ওই নারীকে। এরই মধ্যে গত ৭ নভেম্বর তৃতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জেসমিন। এ নিয়ে জেসমিনের সঙ্গে রবিউলের মনোমালিন্য শুরু হয়। তৃতীয় সন্তান ফাতেমাকে পিতৃ পরিচয় দিতে অস্বীকার করেন রবিউল। এমনকি জেসমিনকে তালাক দিয়ে ৯ দিনের শিশু ফাতেমাকে বিক্রি করে দেন রবিউল।

জেসমিনের পরিবারের দাবি, গত শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শরিফুল, মাতব্বর শহিদুল ইসলাম এবং খলিসাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান আসলামের সহযোগিতায় সালিশ করেন রবিউল। সালিশে জেসমিনকে তালাক দেওয়ার কথা বলেন রবিউল। তবে স্ত্রীকে তালাক দিতে দেনমোহরের টাকা দিতে হয়। দেনমোহরের টাকা দিতে জেসমিনের কোল থেকে শিশু ফাতেমাকে কেড়ে নেন রবিউল। পরে ঈদগাহ পাড়ার আইয়ুব আলীর কাছে শিশুটিকে বিক্রি করে দেন। এ ঘটনার পর শিশুটিকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েন জেসমিন।

মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে জেসমিন জানান, রবিউল জোর করে তার কোল থেকে বাচ্চাকে কেড়ে নেয়। পরে তারা ফাতেমাকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে। 

যারা তার মেয়েকে কেড়ে নিয়েছে তাদের বিচার দাবি করেছেন জেসমিন।

রেজাউলের প্রতিবেশি রোজিনা জানান, যেদিন বাচ্চাটা মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নেয় সেদিন খুব কান্নাকাটি করেছিল জেসমিন। তবে সালিশের সময় কেউ তার কথা শোনেননি।

এদিকে মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) রবিউলের বাড়িতে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রবিউলের মা জানান, তিনি ছেলেকে অনেকবার নিষেধ করেছেন, তবে রবিউল শোনেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। বিচারে আমি ছিলাম না।’

শিশু বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে মাতব্বর শহিদুল ইসলাম জানান, ‘দুই পরিবারের মধ্যে একটা মনোমানিল্য ছিল। আমরা সেটা ২ লাখ টাকার বিনিময়ে সমাধান করে দিয়েছি।’

শিশুটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বাচ্চা বিক্রি করে দেইনি।’

খলিসাকুন্ডি ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি শুনেছি সালিশের মাধ্যমে মাত্র ৯ দিনের বাচ্চাকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। তবে কত টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে আমি সেটা জানি না। এবং কীভাবে তার তালাক হলো সেটাও জানি না।’

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আজগার আলী বলেন, ‘আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। পারিবারিক অশান্তি ও পরপর তিনটি মেয়ে হওয়ায় তালাক দেওয়া হয়েছে এবং বাচ্চাটি নিয়ে গেছে। আমি রবিউলের বাড়িতে গিয়ে দেখি সবাই পালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি বাচ্চাটিকে তারা রবিউলের ফুপুর কাছে রেখেছিল। তবে এখন কোথায় জানি না।’

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার জানান, কোনো শিশুকে বিক্রি করে দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রিয় সংবাদ/নোমান/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...