দ্বিতীয়দিন বল হাতে রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা। ছবি: সংগৃহীত

বিসিএলে বোলারদের দাপটে কোণঠাসা ব্যাটসম্যানরা

দ্বিতীয় দিন দেখা গেল প্রথম দিনের সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫১ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৪
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫১ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৪


দ্বিতীয়দিন বল হাতে রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বেশকিছু নতুন নিয়ম সঙ্গী করে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) সপ্তম আসর।

২১ নভেম্বর, বুধবার থেকে মাঠে গড়ানো বিসিএলের প্রথম দিন দাপট দেখিয়েছেন ব্যাটসম্যানরা। দ্বিতীয় দিনে দেখা গেল তার উল্টো চিত্র। এদিন বল হাতে রীতিমতো ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররা। আর ব্যাটসম্যানদের দিন কেটেছে হতাশায়, অল্পের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে।

টুর্নামেন্টের এবারের আসরে প্রথম দিন তিনটি সেঞ্চুরি এলেও দ্বিতীয় দিনে সেঞ্চুরির দেখা পাননি কোনো ব্যাটসম্যান। বরং অল্পের জন্য সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়েছেন ফজলে মাহমুদ রাব্বি ও মিজানুর রহমান। এদিন বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন মোশাররফ হোসেন রুবেল, হাসান মাহমুদ ও এনামুল হক জুনিয়র।

প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোন-ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোন

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২১৯ বলে ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ওয়ালটন সেন্ট্রাল জোনকে ২৮২ রানের লড়াইয়ের সংগ্রহ এনে দিয়েছিলেন আব্দুল মজিদ। এই পুঁজি নিয়েও ১ রানের লিড পেয়েছে তারা। সেটা সম্ভব হয়েছে বোলারদের নৈপূণ্যে। একাই চার উইকেট তুলে নিয়ে প্রাইম ব্যাংক সাউথ জোনের ব্যাটিং লাইনআপ এলোমেলো করে দেন মোশাররফ হোসেন রুবেল। তাতে ২৮১ রানে গুটিয়ে যায় সাউথ জোনের প্রথম ইনিংস।

প্রথম ইনিংসে সেন্ট্রাল জোনের ২৮২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ২৯ রান নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছিল সাউথ জোন। ২৫৩ রান পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে দলীয় সংগ্রহকে ৭২ পর্যন্ত নিয়ে যান আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান শাহরিয়ার নাফিস ও এনামুল হক বিজয়। ৩১ রানে বিজয় ফিরলে ভাঙে তাদের উদ্বোধনী জুটি।

১৯৪ বলে ১৩ চারে ৯৪ রান করে আউট হন ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ছবি: সংগৃহীত

এরপর ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৭ রানের জুটি গড়েন নাফিস। দলীয় ১৪৯ রানে বিদায় নেন ৭১ রান করা নাফিস। আউট হওয়ার আগে ১২৪ বলে ১২ চারে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

এরপর শুরু হয় সাউথ জোনের ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিল। ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল ফজলে মাহমুদ। উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে গেলেও তাকে মাঠ ছাড়তে হয় সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে। ১৯৪ বলে ১৩ চারে ৯৪ রান করে আউট হন তিনি। শেষ দিকে ৩০ রান করে দলীয় সংগ্রহকে ২৮১ রান পর্যন্ত টেনে নেন রুবেল হোসেন।

মোশাররফ রুবেল ছাড়াও সেন্ট্রাল জোনের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন রবিউল হক ও শহিদুল ইসলাম। আবু হায়দার রনি ও শুভাগত হোম নেন একটি করে উইকেট।

ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন-বিসিবি নর্থ জোন

রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে নাঈম ইসলাম ও জহুরুল ইসলাম অমির জোড়া সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে যাচ্ছিল বিসিবি নর্থ জোন। কিন্তু দ্বিতীয় দিন বল হাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদেরকে ৪৪৫ রানে গুটিয়ে দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক ইস্ট জোন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে স্বস্তিতে নেই ফরহাদ রেজার দল। ১২৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার ৩৩৫ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে নর্থ জোন। কিন্তু স্কোরকার্ডে মাত্র ৪ রান যোগ হতেই ফিরে যান আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান জহুরুল ইসলাম। আগের দিন চোট পেয়ে মাঠছাড়া মিজানুর রহমান ক্রিজে ফিরেও বিদায় নেন সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ৯২ রানে থামান এনামুল হক জুনিয়র।

এরপর মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় সাড়ে ৪০০ রানের কাছাকাছি গিয়ে গুটিয়ে যায় নর্থ জোনের ইনিংস। ৭ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বোল্ড হন সাব্বির রহমান। প্রথম দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত থাকা নাঈম বিদায় নেন ১৩৭ রানে। বাকিদের কেউ সেভাবে প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।

সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে থাকতে আউট হন মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ইস্ট জোনের হয়ে ৮৪ রানে ৪ উইকেট নেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ। বাঁহাতি স্পিনার এনামুল জুনিয়র ১২২ রানে নেন ৩ উইকেট।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শামসুর রহমানের সঙ্গে ৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন রনি তালুকদার। শামসুরকে ব্যক্তিগত ২৪ রানে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন সানজামুল ইসলাম। জাকির হাসান ও আফিফ হোসেন ফিরেছেন দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করার আগেই।

উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া রনি তালুকদারকে দিনের শেষ বলে ফেরান সানজামুল। ১৭৪ বলে ৮ চারে ৫৪ রান করে ফেরেন রনি। ২৪ রানে অপরাজিত আছেন তাসামুল হক। দ্বিতীয় দিন শেষে নর্থ জোনের চেয়ে ৩২০ রান পিছিয়ে আছে ইস্ট জোন।

নর্থ জোনের হয়ে এবাদত হোসেন ও সানজামুল ইসলাম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।    

প্রিয় খেলা/শান্ত  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...