রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

প্রশাসনে বদলি ঠেকাতে ইসিতে ১৪ দল

ইসি সচিবের মতো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বদলি চাওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়, তুলে ধরা হয় দলিল-দস্তাবেজ। তবে ১৪ দলীয় জোট এসব বানোয়াট দাবি করলেও তারা কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৮
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৩


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বদলি ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া অভিযোগ ‘বানোয়াট’ দাবি করে ১৪ দলের পক্ষ বলা হয়, রদবদল হলে শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।

২৩ নভেম্বর, শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনে ইসির সঙ্গে এই বৈঠক হয় ১৪ দলীয় জোটের। ১৪ দলের পক্ষ থেকে সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া নেতৃত্বে ১২ সদস্যের এক প্রতিনিধি দল একটি চিঠিও তুলে দেয় ইসির কাছে। এ সময় কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই বৈঠক।

এর আগে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ‘দলবাজ’ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও বদলির দাবি জানায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ২০ নভেম্বর সারা দেশে নিয়োগ দেওয়া রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চেয়ে পদমর্যাদায় ঊর্ধ্বতন ৪৫ জনকে মেনটরের (উপদেষ্টা) নিয়োগ বাতিলের দাবি করে এই জোট। এরপর ২২ নভেম্বর র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমেদ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৭০ কর্মকর্তা এবং জনপ্রশাসনের শীর্ষ ২২ কর্মকর্তার বদলি চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের দেওয়া দুই দিনের তালিকাতেই নাম রয়েছে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের। ২২ নভেম্বরের অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে হেলালুদ্দীন আহমদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিবের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার (জেলা প্রশাসক) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বৈঠক হয়।

ইসি সচিবের মতো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বদলি চাওয়া কর্মকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধে এ রকম সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়, তুলে ধরা হয় দলিল-দস্তাবেজ। তবে ১৪ দলীয় জোট এসব অভিযোগ ‘বানোয়াট’ দাবি করলেও কোনো তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরেননি।

বৈঠক শেষে ১৪ দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের (এমএল) নেতা দিলীপ বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে ৯২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও বাস্তবতা বিবর্জিত অভিযোগ এনে প্রশাসনে রদবদলের দাবি জানানো হয়েছে। যা প্রশাসনকে মানসিকভাবে কোণঠাসা করে নিজেদের সুপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি অপকৌশল মাত্র। এ ধরনের রদবদল হলে শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে। যার মধ্য দিয়ে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিজেদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো অপরিহার্য।’

১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কথা বলছেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। ছবি: প্রিয়.কম

ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের যৌক্তিকতা নেই উল্লেখ করে দিলীপ বড়ুয়া আরও বলেন, ‘ইসি সচিবসহ প্রশাসনের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিসহ দেশের গোটা প্রশাসনে রদবদলের দাবি ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়। আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচালের ষড়যন্ত্রেও মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা গ্রহণের জন্যই বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের বাস্তবতা বিবর্জিত দাবি করা হচ্ছে।’

ঐক্যফ্রন্টের অভিযোগ, রিটার্নিং কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। ক্ষমতাসীন দলের হয়ে কাজ করার জন্য তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে কাজ করতে বলা হয়। ঐক্যফ্রন্টের এমন অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ১৪ দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘প্রকৃতপক্ষে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কাউকেই ডেকে পাঠানো হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক। তারা ঢাকায় আসলে দাপ্তরিক প্রয়োজনে, প্রাক্তন সহকার্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বিভিন্ন কার্যালয়ে যেয়ে থাকেন। এ রকম দুই-একজন কর্মকর্তা তাদের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে যেতেই পারেন। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ডাকা হয়নি এবং কাউকে নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিং করা হয়নি।’

আদালতের রায়ে প্রমাণিত মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামির প্রায় অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তি বিএনপির মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে। এতে দেশবাসীর মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায় ক্ষমতাসীন জোট।

ড. কামাল হোসেন নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বলেও অভিযোগ এই ১৪ দলের। তারা বলছে, ১৭ নভেম্বর কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সুপ্রিম কোর্টের অডিটোরিয়ামে আইনজীবীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভা হয়। ওই সভায় কামাল হোসেনসহ অন্য নেতারা নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে ভোট চান। তফসিলের পর এই সভা আচরণবিধির লঙ্ঘন।

নির্বাচন কমিশনে ১৪ দলীয় জোট। ছবি: প্রিয়.কম

একই সভায় কামাল হোসেন আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন বলেও জানায় এই জোট। তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলা আদালত অবমাননা উল্লেখ করে বলা হয়, ‘৩১ অক্টোবর আদালত বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদনে স্থগিতাদেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির আগের গঠনতন্ত্রই কার্যকর রয়েছে। এ রকম বাস্তবতায় তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাবি করা উচ্চ আদালতের রায়ের লঙ্ঘন বলেও দাবি করা হয়।’

তারেক রহমানের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া বেআইনি দাবি করে বলা হয়, ‘পলাতক আসামিকে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার মতো বিএনপির এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

সংখ্যালঘুরা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং আতঙ্কমুক্ত থাকতে পারে সে লক্ষে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকারও অনুরোধ করা হয় ১৪ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলেও জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
১৪ দল-বিএনপি মুখোমুখি
১৪ দল-বিএনপি মুখোমুখি
সমকাল - ২ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
১৪ দল-বিএনপি মুখোমুখি
১৪ দল-বিএনপি মুখোমুখি
সমকাল - ২ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে
ভোট বানচালে জাতীয় ঐক্য: ১৪ দল
ভোট বানচালে জাতীয় ঐক্য: ১৪ দল
বিডি নিউজ ২৪ - ২ মাস, ৩ সপ্তাহ আগে

loading ...