সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: প্রিয়.কম

ইসি সচিব আওয়ামী লীগ শাখার প্রধান নেতা: রিজভী

‘আওয়ামী লীগপন্থী আমলা হিসেবে তার পরিচিতি ব্যাপক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি। প্রশাসনের ভেতরে সরকারের প্রভাবশালী একজন আমলা।’

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:১৭
আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:১৮


সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীনের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী আহমেদ। ২৬ ন‌ভেম্বর, সোমবার রাজধানীর নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ স‌ম্মেল‌নে রিজভী তার সমালোচনা করেন।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নীলনকশার পাতানো নির্বাচনের মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের ভাষায় কথা বলে আসছেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন সাহেব, দ্রুত দলবাজ ইসি সচিবকে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারদের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে বিরামহীন রাজনৈতিক বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।’

‘একতরফা ও নীলনকশার পাতানো নির্বাচনের মূল ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন ইসি সচিব। সরকার পরিকল্পিতভাবে সাজানো ভোটারবিহীন আরেকটি নির্বাচন করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনে হেলালুদ্দীন সাহেবকে নিয়োগ দিয়েছে। ইসি সচিব মূলত নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করছে। বাকি পাঁচ সদস্যের কমিশনারদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে তোড়জোড় চালাচ্ছেন তিনি।’

রিজভী বলেন, ‘বিগত ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের রুপকার ইসির তৎকালীন সচিব বর্তমান পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের পরামর্শে নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করেন হেলালুদ্দীন। ক্ষমতাসীন মহলের অন্দরে অবাধ বিচরণ নির্বাচন কমিশন সচিবের। ভোটারবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুগ্রহভাজনদের সমমর্যাদা বহন করে চলছেন তিনি।’

‘গত শনিবার নির্বাচন ভবনে বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসি সচিব ভবিষ্যতে সতকর্তার সাথে কথা বলতে বলেছেন। তার এই বক্তব্য প্রমাণ করে তিনি নির্বাচন কমিশনের সচিব নন। তিনি নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ শাখার প্রধান নেতা। ইসি সচিব গোপনে সবচেয়ে অজনপ্রিয় একটি সরকারকে আবার অবৈধ পন্থায় ক্ষমতায় আনার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।’

ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে ইসি সচিব সম্পৃক্ত ছিলেন জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘বিশেষ সুবিধাভোগী হেলালুদ্দীন আহমদ ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে যোগদান করে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ পূর্ণ সচিব পদে সরকার তাকে পদোন্নতি দেয়। অথচ ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি জেলা প্রশাসক ছিলেন।’

‘অল্প সময়ের মধ্যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে নির্বাচন কমিশনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকার সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন আহমদের একান্ত সচিব ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।’

হেলালুদ্দীন আওয়ামী লীগের অন্ধ অনুসারী মন্তব্য করে রুহুল কবির বলেন, ‘আওয়ামী লীগপন্থী আমলা হিসেবে তার পরিচিতি ব্যাপক। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি। প্রশাসনের ভেতরে সরকারের প্রভাবশালী একজন আমলা। প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাসছে।’

‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশংসামূলক পোস্ট দেওয়া আছে। এসবে প্রমাণিত হয় তিনি নিরপেক্ষ নন, চরম দলবাজ এবং আওয়ামী লীগের অন্ধ অনুসারী। সরকারের ইচ্ছে অনুযায়ী দক্ষ ও নিরপেক্ষদের বদলি করে নির্বাচন ভবনটি তিনি আওয়ামীপন্থী ক্যাডারদের দিয়ে সাজিয়েছেন। এ ধরনের চিহ্নিত, দলবাজ ও সরকারের চরম সুবিধাভোগী ইসি সচিব স্ব-পদে বহাল থাকলে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

ইসি সচিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে রিজভী বলন, ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দাখিল করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অবিলম্বে ইসি সচিবকে প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের জন্য তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হামলা, গ্রেফতার ভয়-ভীতি প্রদর্শন, নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশে নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। এ সময় নেতাকর্মীদের খোঁজ করার নামে তল্লাশি ও ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে।’

‘অনেক সময় নেতাকর্মীদের না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো বাড়িতে পরিবারের মহিলা সদস্যদের অকথ্য গালিগালাজ ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে পুলিশ। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনী সদস্যরাই নয়, কোথাও কোথাও ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ শাসক দলের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা করছে। এই মুহূর্তে পুলিশি শক্তির ব্যবহার ছাড়া আওয়ামী ঝুলিতে এখন আর কিছু নেই।’

প্রিয় সংবাদ/মিজান/প্রান্তিক

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
দেশপ্রেম প্রমাণের সুবর্ণ সুযোগ হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর: রিজভী
মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮
নির্বাচনের ৭ দিন আগে ব্যালট পৌঁছে যাবে
প্রিয় ডেস্ক ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮
২৪ ডিসেম্বর থেকে সেনা মোতায়েন
আবু আজাদ ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮
নির্বাচনী রাজনীতি ও সাংবাদিকতা!
নির্বাচনী রাজনীতি ও সাংবাদিকতা!
https://www.prothomalo.com/ - ২০ ঘণ্টা আগে
ইসি কি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে?
ইসি কি নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে?
নয়া দিগন্ত - ১ দিন, ১৫ ঘণ্টা আগে
গণতন্ত্র : সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধচক্র ও নির্বাচন
গণতন্ত্র : সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধচক্র ও নির্বাচন
নয়া দিগন্ত - ১ দিন, ১৭ ঘণ্টা আগে
বিএনপির ৩ প্রার্থীর নির্বাচন আটকে গেলো
বিএনপির ৩ প্রার্থীর নির্বাচন আটকে গেলো
নয়া দিগন্ত - ১ দিন, ১৯ ঘণ্টা আগে
মরে গেলেও নির্বাচন বর্জন করবো না : ড. কামাল
মরে গেলেও নির্বাচন বর্জন করবো না : ড. কামাল
নয়া দিগন্ত - ১ দিন, ১৯ ঘণ্টা আগে

loading ...