ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। ছবি: সংগৃহীত

অরিত্রীর আত্মহত্যার জন্য ভিকারুননিসার ৩ শিক্ষক দায়ী: তদন্ত কমিটি

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১৮ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১৯
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১৮ আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১৯


ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভিকারুননিসা স্কুলের ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনার জন্য অধ্যক্ষসহ অভিযোগ উঠা তিন শিক্ষকই দায়ী বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

আর ওই শিক্ষকরা হলেন- ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরা এবং নবম শ্রেণির শিক্ষিকা হাসনা হেনা।

৫ ডিসেম্বর, বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী জানান, ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে শিক্ষকদের তিরস্কারের শিকার হয়ে গত সোমবার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারী রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করে।

গত মঙ্গলবার আত্মহত্যার ঘটনাটি তদন্ত করতে ঢাকা আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মাদ ইউসুফকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন- ঢাকা আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক শাখাওয়াত হোসেন এবং জেলা শিক্ষা অফিসার বেনজীর আহমেদ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই কমিটি সারা দিন-রাত কাজ করে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করে ফেলেছে।

তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, অভিযুক্ত তিন শিক্ষক অরিত্রীর বাবা-মাকে হুমকি দিয়েছিল এবং দেখা করার সময় তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছিল। মেয়েটি তার বাবা-মার অপমান সহ্য করতে পারেনি এবং আত্মহত্যা করে। 

নাহিদ বলেন, ‘আমরা তিন শিক্ষককে চাকরি থেকে বহিষ্কারের জন্য ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ম্যানিজিং কমিটির কাছে সুপারিশ করেছি। এছাড়া তাদের মাসিক পে অর্ডার (এমপিও) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

তিনি জানান, অভিযুক্ত তিন শিক্ষকের এমপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে।

‘আমরা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ নিতে ম্যানেজিং কমিটির কাছেও সুপারিশ করেছি’, যোগ করেন মন্ত্রী।

ভর্তি প্রক্রিয়া ও কোচিং বাণিজ্যসহ ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত কমিটি খুঁজে পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এসব অনিয়ম অনেক বছর ধরে চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া প্রত্যেক শ্রেণিতে অতিরিক্ত বিভাগ ও নতুন শাখা খুলেছে। এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একজন শিক্ষার্থীর ভর্তির জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।’

প্রিয় সংবাদ/শান্ত

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...