রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

আপিল নিষ্পত্তির সময় কমাতে বলছে ঐক্যফ্রন্ট

এত সংখ্যক আপিল নিষ্পত্তির বিপরীতে ইসির হাতে তিনদিন থাকা সত্ত্বেও আরও অল্প সময়ে তা নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

প্রদীপ দাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৪
আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৪


রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাচাই-বাছাইয়ের সময় ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন ৫৪৩ প্রার্থী। এত সংখ্যক আপিলের বিপরীতে আগামী তিন দিনে (৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর) তা নিষ্পত্তি করবে ইসি। এত সংখ্যক আপিল নিষ্পত্তির বিপরীতে ইসির হাতে তিনদিন থাকা সত্ত্বেও আরও অল্প সময়ে তা নিষ্পত্তির আবেদন জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

৫ ডিসেম্বর, বুধবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইসির কাছে জমা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল। এ সময় এই প্রতিনিধি দল আশাবাদ ব্যক্ত করে জানায়, খালেদা জিয়াকে নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবে তারা।

বিএনপি অনেক আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে কি না জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী পছন্দ করতে কোনো অসুবিধা হবে না।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিএনপি নেতা আলাল আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি এ জন্য যে, ফরমালিটিসগুলো (অানুষ্ঠানিকতা)…। আপনারা দেখেছেন যে, মহাসচিব বলার পরও কোনো একটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা বারবার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আবার একইসঙ্গে আমরা যদি দেখি, বিদেশে হাসপাতালে থাকা একজনের টিপসই, সেটাকে কোনো পর্যবেক্ষণ ছাড়াই গ্রহণ করা হয়েছে। এত ছোট ব্যাপারে যেহেতু এত বড় বৈষম্য, আমরা বৈষম্যের শিকার হতে পারি। এই আশঙ্কা আমাদের মধ্যে রয়েছে।’

খালেদা জিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বশেষ সময়সীমা পর্যন্ত আশাবাদী, মুক্ত খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করব।’

৫ ডিসেম্বর ইসিতে আপিল নিষ্পত্তির সময় কমানোর কথা জানাচ্ছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দল। ছবি: প্রিয়.কম

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের সময় আজ (৫ নভেম্বর) শেষ হয়েছে। আপিলের নিষ্পত্তির জন্য শুনানির দিন ৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। এ ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি দেরির জন্য ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দলের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে জটিলতা তৈরি হবে এবং তা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে কষ্টসাধ্য হবে।’

‘চলছে’ গ্রেফতার-হয়রানি

প্রধানমন্ত্রী ও নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দলের নেতা, কর্মী, সমর্থকদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় ঐক্যজোট। লিখিতভাবে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে এই জোট।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, খুলনায় রাস্তার পার্শে একটি পুরনো গাড়ি রেখে, তাতে আগুন লাগিয়ে জোটের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে মহিলা দলের নেত্রী ও তার মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দাগনভূইয়ায় অজ্ঞাত অভিযোগে ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জমিন নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত অভিযোগে আবার তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়াও মহানগর, জেলা ও উপজেলা থেকে প্রতিদিনই নেতা-কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জানতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

এ সময় আরেকটি চিঠিতে কিছু বিষয়ে পরিষ্কার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৬-এর ২ অনুচ্ছেদ অনুসারে একটি আসনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের দুই বা ততোধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদানের জন্য কোন নির্দিষ্ট ফরম/ ছক আছে কি না? ফরম না থাকলে দলের প্যাডে পত্র আকারে প্রদান বৈধ/ গ্রহণযোগ্য হবে কি না?

আরপিওর ২০-এর ১ অনুচ্ছেদের শর্তাংশের বর্ণনা মতে দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একক প্রতীক বরাদ্দের চিঠির কোনো নির্দিষ্ট ছক আছে কি না? না থকালে একক প্রতীক বরাদ্দের পত্র কমিশনে দিতে হবে, না সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দিতে হবে?

কোনো কোনো আসনে দুই বা ততোধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের একাধিক বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। দলগুলো যৌথভাবে একক প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য যথাসময়ে কমিশনে পত্র দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আরপিও’র ২০-এর ১ অনুচ্ছেদের বিধানমতে, যেকোনো একটি বৈধ প্রার্থীকে প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য পত্র দিলে জোটভুক্ত অন্য দলগুলোর বৈধ প্রার্থীর প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে কি না? অথবা জোটভুক্ত দলগুলোর যেকোনো একজন বৈধ প্রার্থীকে জোটের প্রধান দল হিসাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর জোটভুক্ত অন্যান্য দলের বৈধ প্রার্থীকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে কি না?

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট