যশোর জেলার মানচিত্র

১৯৭১ সালে প্রথম শত্রুমুক্ত হয় যশোর

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলার সাবেক কমান্ডার রবিউল আলম বলেন, ‘৬ ডিসেম্বরই আমরা যশোর শহর থেকে শত্রু সেনাদের বিতাড়িত করি। কিন্তু, সেদিন যশোর শহর ছিল জনশূন্য। ফলে পরদিন ৭ ডিসেম্বর বিজয় মিছিল বের হয়।’

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:১৩
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৭


যশোর জেলার মানচিত্র

(ইউএনবি) আজ ৬ ডিসেম্বর। যশোর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে দেশের প্রথম জেলা হিসেবে যশোর পাক হানাদারমুক্ত হয়।

গৌরবময় এই দিনটি পালনে যশোর জেলা প্রশাসন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সি মেহেরুল্লাহ ময়দান (টাউন হল মাঠ) থেকে একটি শোভাযাত্রা শহরের মণিহার এলাকায় অবস্থিত বিজয়স্তম্ভে যায়। সেখানে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী যশোরের চৌগাছার সলুয়া বাজারে তৈরি করে অগ্রবর্তী ঘাঁটি। অন্যদিকে যশোর সেনানিবাসের তিন দিকেই মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী শক্তিশালী অবস্থান নেয়। প্রতিরোধ যুদ্ধের শেষ অভিযান চলে ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর। এ তিনদিন যশোর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ হয়।

সীমান্ত এলাকা থেকে মিত্রবাহিনী যশোর সেনানিবাসসহ পাক আর্মিদের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় ও গোলা নিক্ষেপ করে। ৫ ডিসেম্বর থেকে পর্যুদস্ত পাকবাহিনী পালাতে শুরু করে। এদিন সকাল ও দুপুরে পাকিস্তানের নবম ডিভিশনের সঙ্গে ভারতীয় নবম পদাতিক ও চতুর্থ মাউন্টেন ডিভিশনের প্রচণ্ড লড়াই হয়।

বিকেলেই পাক সেনা অফিসাররা বুঝতে পারেন, যশোর দুর্গ আর কোনোভাবেই রক্ষা করা সম্ভব নয়। বেনাপোল অঞ্চলে দায়িত্বরত লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামসকে নওয়াপাড়ার দিকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার হায়াত। নিজের ব্রিগেড নিয়ে রাতের আঁধারে গোপনে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে হায়াত নিজে পালান খুলনার দিকে। পালানোর সময় ৫ ও ৬ ডিসেম্বর শহরতলীর রাজারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে তাদের মুখোমুখি লড়াই হয়। ৬ ডিসেম্বর বিকেলে মিত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল বারাতের নেতৃত্বে মিত্র ও মুক্তিবাহিনী সেনানিবাসে ঢুকে তা দখলে নেয়।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ‘যশোর গেজেটিয়ার’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, ‘৬ তারিখ সন্ধ্যা হতে না হতেই পাকবাহিনীর সবাই যশোর ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ আট নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক মেজর মঞ্জুর ও মিত্র বাহিনীর নবম ডিভিশনের কমান্ডার মেজর জেনারেল দলবীর সিং যশোরে প্রবেশ করেন। তখনো তারা জানতেন না যে, যশোর ক্যান্টনমেন্ট শূন্য। তারা বিস্মিত হন কোনো প্রতিরোধ না দেখে।’

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যশোর জেলার সাবেক কমান্ডার রবিউল আলম বলেন, ‘৬ ডিসেম্বরেই আমরা যশোর শহর থেকে শত্রু সেনাদের বিতাড়িত করি। কিন্তু, সেদিন যশোর শহর ছিল জনশূন্য। ফলে পরদিন ৭ ডিসেম্বর বিজয় মিছিল বের হয়।’

১০ ডিসেম্বর প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক ওয়ালিউল ইসলাম। ১১ ডিসেম্বর টাউন হল মাঠে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোরে হয় জনসভা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, যশোরের এমপিএ অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
এনটিভি - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
‘বিজেপি-মুক্ত ভারত’ সম্ভব
‘বিজেপি-মুক্ত ভারত’ সম্ভব
ইনকিলাব - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
ইনকিলাব - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
জকিগঞ্জে ৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন
জকিগঞ্জে ৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন
দৈনিক সিলেট - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
বিজয় দিবস হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা শুরু
বিজয় দিবস হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা শুরু
সময় টিভি - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে