সংবাদ সম্মেলনে জনসভার কথা জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

সোহরাওয়ার্দীতে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা ১০ ডি‌সেম্বর

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানিয়েছেন।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৭
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৫৩


সংবাদ সম্মেলনে জনসভার কথা জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

(‌প্রিয়.কম) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যা‌নে জাতীয় ঐক্যফ্র‌ন্টের উদ্যো‌গে জনসভার কথা জানিয়েছে বিএন‌পি।

৬ ডি‌সেম্বর, বেলা সা‌ড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্ট‌নে দ‌লের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এ কর্মসূ‌চির ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাস‌চিব রুহুল ক‌বির রিজভী ব‌লেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর, সোমবার বেলা ২টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।’

রিজভী বলেন, ‘জনসভা উপলক্ষে আমরা পুলিশ কমিশনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি ১০ ডিসেম্বর, সোমবার ঐক্যফ্রন্টের এই জনসভা সার্থক হবে, সাফল্যমণ্ডিত হবে।’

বিএনপির এ নেতা ব‌লেন, ‘একাদশ নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে আবারও ক্ষমতায় থাকার জন্য নানা কলাকৌশল ও নীলনকশা তৈরি করেছে এই অবৈধ সরকার। আর এই প্রহসনের অংশ হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে সরকার গায়ের জোরে দূরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।’

‘বিপুল জনপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম জিয়া ও জনগণকেই শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় ভয়। তাই আইন-ন্যায়বিচারের তোয়াক্কা না করে সরকার বেগম জিয়াকে কারাগারে আটকে রেখেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা বসে বসে কষছেন নির্বাচনে কারচুপির অভিনব মহাফন্দি। তারা জানেন, অন্যায় পথে নির্বাচন অনুষ্ঠান ছাড়া জনসমর্থনশূন্য আওয়ামী লীগের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের অন্য কোনো উপায় নেই। তাই নির্বাচনি ব্যবস্থা এবং আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আবার ক্ষমতায় যেতে চান। সে জন্য বিরোধী দলের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন এবং যত রকম কৌশল আছে সরকার প্রয়োগ করছে।’

‘শেখ হাসিনার নির্দেশনায় “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” কথাটা তামাদি করে ফেলেছে আওয়ামী সরকারের মদদপুষ্ট নূরুল হুদা কমিশন। সরকারের পক্ষে ইসির নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্ব ভোটারদেরকে হতাশ ও ক্ষিপ্ত করে তুলছে।’

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী গ্রেফতারের মহোৎসব চলছে বলে মন্তব্য করেন সা‌বেক এই ছাত্রনেতা। তিনি ব‌লেন, ‘নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী গ্রেফতারের মহোৎসব চলছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে গ্রেফতারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গতকাল পর্যন্ত দুই হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া শত শত মামলার বোঝায় নির্বাচনের মাঠ দূরে থাক, ঘরে পর্যন্ত থাকতে পারছে না ধানের শীষের প্রার্থীর নেতা-সমর্থকরা। যারা ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং প্রার্থী হয়ে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, এ ধরনের ২৭ জন নেতা মিথ্যা মামলায় এখন কারাগারে আটক আছেন।’

‘নির্বাচনের মাঠে বিএনপিকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নামে-বেনামে, গায়েবি মামলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বন্দিত্বের লাল দেয়ালের ভেতরে ঘিরে রাখা হয়েছে। মামলা আর পুলিশি হয়রানির কারণে নেতাকর্মীরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এরপরও ক্ষান্ত হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী; পরিবারের অন্য সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। পুলিশি হেনস্তার ভয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারবেন কি না, সে নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন তারা।’

ইসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা ব‌লেন, ‘সারা দেশে যারা ভোট গ্রহণ করবেন, সেই ডিসি, এসপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড গঠনের নির্দেশনা নির্বাচন কমিশন তো দেনইনি, উল্টো তাদের পক্ষপাতিত্বের দিকেই উসকে দিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনে দফায় দফায় ডেকে এনে সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সংলাপের নামে বিএনপি প্রার্থীদের হয়রানি করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ রিটার্নিং অফিসার আওয়ামী অনুমোদিত মনোবৃত্তির দ্বারা প্রণোদিত।’

‘আমরা খবর পেয়েছি, আইন মন্ত্রণালয়ে জেলা, দায়রা জজদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে। সেখানে আইন সচিব নির্দেশ দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পূর্বে তারা যেন বিএনপির কাউকে জামিন না দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গ্রেফতার বাড়াতে মনিটরিং সেলও খোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বদলে আসন্ন নির্বাচন আবর্জনাময় হয়ে উঠতে পারে।’

আদালতে বিএনপির বিচারপ্রার্থীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ঢাকার হাইকোর্ট অঙ্গন থেকে শুরু করে পুরান ঢাকার জজ কোর্ট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টসহ সারা দেশের জেলা পর্যায়ের আদালতগুলোর আঙিনায় ‘‘ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই’’ অবস্থা। কোথাও ধানের শীষের প্রার্থীরা জামিনের আবেদন নিয়ে হাজির হচ্ছেন, কোথাও কর্মীরা জামিন চেয়ে আবেদন করছেন, কোথাও গ্রেফতার ঠেকাতে আগাম জামিনের আবেদন, কোথাও স্বামী-স্ত্রী-পুত্র-কন্যাদের পুলিশি গ্রেফতার ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। কোর্ট-কাচারিগুলোয় হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীদের বিচারপ্রার্থীর উপস্থিতির নজিরবিহীন এমন দৃশ্য অতীতে কোনো ভোটের সময় দেখা যায়নি।’

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করে রিজভী ব‌লেন, ‘আপনারা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন, আওয়ামী লীগের অবৈধ মন্ত্রী লোটাস কামালের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতির ভয়াবহ পরিকল্পনা ফাঁস করেছেন। প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করার হুমকি দিয়ে শেয়ার বাজার ও ব্যাংক লুটেরাদের অন্যতম আ হ ম মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল বলছেন, একটা একটা করে খুঁজবেন, ২৮ তারিখের আগে যদি এলাকা ছেড়ে না যায়, তাহলে আর ছাড় নাই। তাদের চৌদ্দগোষ্ঠী পর্যন্ত উৎখাত করব।’

‌‘আমি লোটাস কামালদের বলতে চাই, এইসব হুমকি-ধমকি, ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবার আর লাভ হবে না। যখন জনগণ ভোটের মাঠে নেমে আসবে, তখন কোন ফন্দি কাজে দিবে না; কাঁচের মতো সব কিছু চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। অপেক্ষা করুন, যারা দুঃশাসনের বিরোধী সেই জনগণের বিজয়ের দিন খুবই নিকটবর্তী। সরকারের অবরোধী কৌশলে জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না।’

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘সিইসি শব্দটি উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে সাবেক সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদের নাম। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে তার ভূমিকা দেশ-বিদেশে নিন্দিত-কলঙ্কিত। ক্ষমতাসীনদের “নাচের পুতুল” ওই কাজী রকিব এখন ইতিহাসের পাতায় ১৭৫৭ সালের বিশ্বাসঘাতক মীর জাফর আলী খাঁর সঙ্গে তালিকাভুক্ত।’

‘জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে কাজী রকিব যে পথে হেঁটেছেন, বর্তমান সিইসি কে এম নূরুল হুদাও যেন সে পথেই চলতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, সেটাকে এক ডিগ্রি বৃদ্ধি করে নৈতিকতার মাথা খেয়ে নিজের ভাগিনাকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী করেছেন। তার সাথে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বসে বৈঠকও করছেন।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনে রদ-বদল হয়নি দাবি করে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রশাসনের সচিব-বিভাগীয় কমিশনার-ডিসি-এসপি এমন ৯২ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তাদের বদলি ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচিতি, কর্মকাণ্ডের তথ্যও দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনে।’

‘এদের মধ্যে মাত্র একজন এসপি (নারায়ণগঞ্জ) বদলি করে সেখানে আরও কট্টর আওয়ামীপন্থী ও বিতর্কিত এসপি হারুনকে পদায়ন করা হয়। আমি আবারও বলছি, অবিলম্বে পক্ষপাতদুষ্ট ৯২ জনকে বদলি করুন; না হয় নির্বাচনে কোনো গ্রহনযোগ্যতা আসবে না।’

প্রিয় সংবাদ/হাসান/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
ইসি’র সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট
ইসি’র সঙ্গে বৈঠকে ঐক্যফ্রন্ট
বাংলা ট্রিবিউন - ২ দিন, ৫ ঘণ্টা আগে
ঐক্যফ্রন্ট জিতলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কে?
ঐক্যফ্রন্ট জিতলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কে?
বিবিসি বাংলা - ২ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অ্যাপ
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অ্যাপ
বাংলা ট্রিবিউন - ২ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে

loading ...