প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির পর সৌম্য সরকারের উদযাপন। ছবি: প্রিয়.কম

‘৩০০ রান কোনো ব্যাপার হবে না’

উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আরও অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৭ আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৭
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৭ আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:২৭


প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির পর সৌম্য সরকারের উদযাপন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটকে নিজের হয়ে কথা বলাচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। এই সুবাদে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে সুযোগ পেয়ে যান সৌম্য সরকার। বাঁহাতি টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান সুযোগটি নষ্ট করেননি। দারুণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ফিরে আসেন জাতীয় দলে। জাতীয় দলে ফিরেও একই রাস্তায় হেঁটেছেন সৌম্য। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে খেলেন ১০২ রানের অসাধারণ এক ইনিংস।

উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগেও প্রস্তুতি ম্যাচে সৌম্যর ব্যাটিং ধামাকা। বৃহস্পতিবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে বিসিবি একাদশের হয়ে ৮৩ বলে ১০৩ রানের অপরাজিত এক ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আর এই ধারাবাহিকতা উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও ধরে রাখতে চান তিনি। সেটা পারলে ৩০০ রানও কোনো বাঁধা হবে না বলে মনে করেন সৌম্য। উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে আরও অনেক বিষয় নিয়েই কথা বলেছেন বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যান। প্রিয়.কমের পাঠকদের উদ্দেশে সেটা তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: দারুণ একটি ইনিংস খেলেছেন। সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন ছক্কা মেরে। এমন একটি ইনিংস খেলা এবং রানের মধ্যেই থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

সৌম্য সরকার: দুটিই আসলে গুরুত্বপূর্ণ। যদি শটটি ভালোমতো না হতো তাহলে হয়তো বাজে শট খেলে আউটও হয়ে যেতে পারতাম। চেষ্টা করেছি ঠিক রাস্তায় যাওয়ার। আর শেষ সময় পর্যন্ত যেন উইকেটে থাকা যায়, ওদের বোলারকে খেলা যায় সেই চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: বড় লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে হয়েছে। কী পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন?

সৌম্য: শুরুতে আমার তেমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তামিম ভাই অনেক ভালো করছিলেন। প্রত্যেক ওভারে অনেক রান আসছিল। যতটুকু সময়ই থাকি, আমি চেষ্টা করেছি তাকে সাপোর্ট দেওয়ার আর বোলারগুলোকে দেখার। উনি আমাকে কিছু কথা বলছিল যেগুলো আমার জন্য হেল্পফুল ছিল। তো সেই অনুসারেই ব্যাটিং করেছি। একটা ভুল শট খেলেছি। এর মধ্যে উনি একটি কথা বলেছেন, তখন আরও মাথা খুলেছে। উইকেটের মধ্যে কিছু কিছু কথাও আসলে অনেক সাহায্য করেছে। আমারও উচিত ছিল পরিস্থিতি বোঝা। রান অনেক আসছিল। প্রথম দশ ওভারে প্রায় ৮০-৯০ এর মতো রান ছিল। সেই অনুসারেই খেলছিলাম যে, ইনিংসটি বড় করি। আর শেষের দিকে গিয়ে মনে হয়েছিল যে আমি যদি উইকেটে থাকি তাহলে অবশ্যই ম্যাচটি জিতব। সুতরাং ওই আত্মবিশ্বাসটি নিয়েই শেষ পর্যন্ত থাকার চেষ্টা।

প্রশ্ন: এমন একটি ইনিংসে প্রস্তুতিটা কেমন হলো? ব্যাটিংয়ের এই ধারাবাহিকতা উইন্ডিজদের বিপক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হবে কি না?

সৌম্য: অবশ্যই। তামিম ভাই যেভাবে ইনজুরি থেকে ফিরে ব্যাটিং করছিলেন, মনে হচ্ছিল না উনি বাইরে ছিলেন। ওনার আত্মবিশ্বাস দেখে নন স্ট্রাইক থেকে আমারও মনে হয়েছিল যে যেহেতু উনি ভালো করছে আমি যদি ওনাকে সাপোর্ট দিয়ে যেতে পারি তাহলে আরও সহজ হবে রান করা। কারণ দুই সাইড থেকে যদি রান আসতে থাকে তাহলে অনেক এগোতে থাকে রান। আমি চেষ্টা করেছি ওনাকে সাপোর্ট দিয়ে যাওয়ার।

প্রশ্ন: আত্মবিশ্বাস যোগানোর দিক থেকে এই ইনিংসটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

সৌম্য: এই ধারাবাহিকতা যদি সবাই ধরে রাখতে পারি কিংবা এই আত্মবিশ্বাস যদি সবার মধ্যে থাকে, তাহলে তা সবাইকে সাহায্য করবে পরবর্তী ম্যাচগুলোর জন্য। প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ৩০০’র উপরে রান তাড়া করতে গিয়েছি, প্রায় আট-নয় ওভার বাকি ছিল, এর মধ্যে আমরা ম্যাচটি শেষ করতে পেরেছি। তো মূল ম্যাচেও যদি আমরা এভাবে ভালো শুরু করতে পারি তাহলে ৩০০ রান কোনো ব্যাপার হবে না।

প্রশ্ন: ঘরোয়া ক্রিকেটে আপনি বেশ কিছুদিন ধরে রান করে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতা এখানেও নিয়ে এসেছেন। কোন বিষয়গুলোর ওপর বেশি জোর দিয়েছেন?

সৌম্য: তেমন কিছু না। যেটা বললাম যে, উইকেটে বেশিক্ষণ থাকার চেষ্টা করছি। প্ল্যান ছিল উইকেটে যতক্ষণ থাকতে পারব, চেষ্টা করব। তামিম ভাই যেমন একটি কথা বলেছিল উইকেটের ভেতরে। এই কথাটি হয়তো বাইরে ওনার কাছে পেতাম না। উইকেটে থেকে এই কথাগুলো শেখা সহজ। আর আমি এখন চেষ্টা করছি উইকেটে বেশিক্ষণ থাকার। নিজের শটগুলো আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলার।

প্রশ্ন: অনেকদিন পর তামিম ইকবাল ব্যাটিং করলেন। অন্য পাশ থেকে তার ব্যাটিং কেমন দেখলেন? কী মনে হলো?

সৌম্য: আমার কাছে ওনার ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি যে, উনি বাইরে থেকে এলেন কিংবা কয়েকটি ম্যাচ বাইরে ছিলেন। আমার দেখে খুব ভালো লেগেছে যে, উনি অনেক আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। আর একটি ভালো স্টার্ট পেয়েছেন। এমন স্টার্ট সব সময় হয় না। আমি চাইব যে, এমন স্টার্ট যেন সব সময় উনি দিতে পারেন। এটি বাংলাদেশের জন্যও ভালো, ওনার জন্যও ভালো।

প্রশ্ন: উইন্ডিজ সিরিজে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান? কোনো গোল সেট করেছেন?

সৌম্য: আশা তো সবসময় বড়ই থাকে। আর স্বপ্ন বড় থাকাই ভালো। স্বপ্ন আমারও বড় থাকে। যে ম্যাচগুলোতে সুযোগ পাব, চেষ্টা করব ধারাবাহিকতা বজায় রাখার। যেমনটা যাচ্ছে এমনটা রাখতে। সব সময় তো সবার সবকিছু হয় না। শেষ ম্যাচটি যেভাবে খেলেছি, তেমনভাবে আত্মবিশ্বাসী হয়ে খেলতে চাই।

প্রশ্ন: তামিমের সাথে ব্যাটিংয়ে কী কী পার্থক্য দেখতে পান? কখনও এভাবে ভেবে দেখেছেন কী না?

সৌম্য: তামিম ভাই তো দলের জন্য সব সময়ই একটি অনুপ্রেরণা। উনি থাকলে সবার একটি আত্মবিশ্বাস থাকে। উনি থাকলে ভালো একটি শুরু এলে পেছনের দিকে আমাদের যে ব্যাটসম্যানেরা আছে তারা সহজেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...