কাঙালিনী সুফিয়া। ছবি: প্রিয়.কম

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, হাসপাতালে ভর্তি, অর্থ সংকটে কাঙালিনী

বাংলা লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:১১
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:২৬


কাঙালিনী সুফিয়া। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বাংলা লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

৬ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে প্রিয়.কমকে এ তথ্য জানিয়েছেন কাঙালিনী সুফিয়ার একমাত্র মেয়ে পুষ্প বেগম।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লে কাঙালিনীকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুরুতে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) রাখা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে কেবিনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পুষ্প বেগম বলেন, ‘ওই দিন রাত ৭টার দিকে মা বাড়িতে হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তখন আসলে বুঝতে পারছিলাম না কী হয়েছে। এরপরই আমি মাকে নিয়ে হাসপাতালে যাই। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানান, মা ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন, হার্ট আর কিডনিতেও সমস্যা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন মায়ের চিকিৎসার এত খরচ কীভাবে জোগাড় করব তা বুঝতেছি না। ভীষণ চিন্তার মধ্যে আছি। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু বুঝতে পেরেছি মায়ের চিকিৎসা করার জন্য অনেক টাকার দরকার। আমি কিন্তু ঋণ করে মাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। এখন বুঝতেছি না কীভাবে টাকা জোগাড় করব।’

‘প্রধানমন্ত্রী যে সঞ্চয়পত্র মাকে দিয়েছিলেন, সেখান থেকে যে টাকা পাই তার থেকে চিকিৎসা খরচ অনেক গুণ বেশি। জীবনটা অনেক কঠিন, এখন বুঝতেছি।’

জামসিং এলাকায় তিন শতাংশ জমির ওপর একটি টিনশেড ঘরে মেয়ে পুষ্প ও নাতনিকে নিয়ে থাকেন শিল্পী কাঙালিনী। বার্ধ্যকের কারণে খুব একটা বাড়ির বাইরে যেতে পারতেন না। এ ছাড়া গান গাওয়ার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখন আর আগের মতো তার ডাকও পড়ে না। তাই সাভারের বাড়িতেই সময় কাটত তার।

১৯৬১ সালে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দির রামদিয়া গ্রামে জন্ম কাঙালিনীর। টুনি হালদার থেকে কাঙালিনী সুফিয়া হয়ে ওঠার আগেই বাবা খোকন হালদার আর মা টুলু হালদারের ইচ্ছায় সুধীর হালদার নামের এক বাউলের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। কিন্তু সংসার করার স্বপ্ন কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়।

বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে একমাত্র মেয়ে পুষ্পকে কোলে নিয়ে ঘর ছাড়েন কাঙালিনী। প্রথমে ভেবেছিলেন বাবার বাড়িতে যাবেন। কিন্তু অভিমান করে সেখানেও যাননি। বেছে নেন ভবঘুরে জীবন। এ সময় পরিচয় হয় বেলগাছির লালনসাধক দেবেন ক্ষ্যাপার সঙ্গে।

দেবেনের কাছেই গানের প্রথম তালিম নেন সুফিয়া। এটা ছিল অন্য রকম জীবনযুদ্ধ। তারপরই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের রানাঘাটের লালগুলা ক্যাম্পে আশ্রয় নেন সুফিয়া। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে এলেও কপাল ফেরেনি তার। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকায় পাড়ি জমান।

প্রথমে হাইকোর্ট আর শাহ আলীর মাজারই ছিল কাঙালিনীর ঘরবাড়ি। এখানে-ওখানে গান গাওয়ার ডাক এলে ছুটে যেতেন। ওই সময় একদিন শিল্পকলা একাডেমির একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে যান তিনি। সেখানে গিয়েই সুফিয়া হয়ে যান কাঙালিনী সুফিয়া। ঘুরে যায় তার শিল্পী জীবনের মোড়।

প্রিয় বিনোদন/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
হৃদরোগে আক্রান্ত, লাইফ সাপোর্টে সাইদুল আনাম টুটুল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
হয়ে গেল সিয়াম-অবন্তীর বিয়ে
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮
দীর্ঘদিনের প্রেমিকার সঙ্গে সিয়ামের বিয়ে
তাশফিন ত্রপা ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
গল্পের প্রসঙ্গ অফিসে যৌন হয়রানি
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
কাঙালিনী সুফিয়ার পাশে প্রধানমন্ত্রী
মিঠু হালদার ১১ ডিসেম্বর ২০১৮