গোলপাতার নয়নাভিরাম দৃশ্য এখন চোখে পড়ে না, আর দুস্প্রাপ্য হয়েছে খেজুরের রস। ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় হারিয়ে যাচ্ছে গোলপাতা ও খেজুর গাছ

ইট ভাটায় জ্বালানি কাঠ হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহার এবং গাছ পাচারকারীদের অবাধে গোলপাতা কাটার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৯
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৪৯


গোলপাতার নয়নাভিরাম দৃশ্য এখন চোখে পড়ে না, আর দুস্প্রাপ্য হয়েছে খেজুরের রস। ছবি: সংগৃহীত

(বাসস) দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় খেজুর এবং গোলপাতার গাছ অর্থকরী সম্পদ। যা দিয়ে এক সময়ে স্থানীয় লোকজনের বেশ ভালো অংকের টাকা আয় হতো। বর্তমানে অযত্নে আর অবহেলার কারণে দিন দিন গোলপাতা ও খেজুর গাছ হারিয়ে যাচ্ছে।

বরগুনাসহ উপকূলীয় এলাকায় শীতকালীন খেজুর গাছে রস এখন দুস্প্রাপ্য হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইটের ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার, ঠিকভাবে পরিচর্যা না করা ও গাছ কাটার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে প্রতি বছর হাজার হাজার খেজুর গাছ মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ইট ভাটায় জ্বালানি কাঠ হিসেবে খেজুর গাছ ব্যবহারের কারণে দেদারছে কেটে ফেলা হচ্ছে। প্রতি বছরের মতো এবছরও উপকূলীয় এলাকায় শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পোশাদাররা খেজুর গাছ কাটা (বিশেষ পদ্ধতিতে কান্ডে খাঁজ কাটা) শুরু করেছে। সাধারণত সকাল-বিকেল দুবেলাই রস সংগ্রহ করা হয়। রস দিয়ে পিঠা ও পায়েস তৈরি হয়।

আলমাছ খান নামে রস সংগ্রহকারী এক ব্যক্তি জানান, এক যুগ আগেও শীত শুরু হলে গড়ে ২০-২৫টি খেজুর গাছ কেটেছেন। এ থেকে প্রতিদিন ৮-১০ কলস রস সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতেন। এখন সর্বোচ্চ ৪-৫টি গাছ কাটছেন। খেজুর গাছ পাওয়াই মুশকিল হয়ে পড়েছে এখন।

জেলা কৃষি বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা বদরুল আলম জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকায় ইটের ভাটায় খেজুর গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বন্ধ না করা হলে এ এলাকা থেকে এক সময় এ গাছগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

উপকূলীয় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী গোল গাছ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ, খাল-জলাশয় ভরাট, পানিতে লবণাক্ততার তীব্রতা ও চাষাবাদের অভাবে ক্রমান্বয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের খাল-বিল ও নদীর তীরে এক সময় প্রচুর নয়নাভিরাম দৃশ্য জুড়ে গোলপাতার গাছ দেখতে পাওয়া যেত। কালের বিবর্তনে এখন আর সেই গোলপাতার গাছ আগের মতো দেখা যায় না।

গাছের নাম গোল হলেও আকৃতি অনেকটা নারিকেল পাতার মতো। এর উচ্চতা প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুটের বেশি। সাধারণত স্বল্প লবণাক্ত পলিযুক্ত মাটিতে ভালো জন্মায়। এই জনপদের সর্বত্র রাখাইন উপজাতি এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে ঘরের ছাউনি হিসেবে গোলপাতা ব্যবহার করা হতো। এ ছাড়া গোল গাছের রস দিয়ে সুস্বাদু গুড় উৎপাদন হয়। উপজাতি সমপ্রদায়ের লোকজন গোল গাছের রস দিয়ে চোলাই মদ তৈরি করে থাকে। গাছের নিম্নাংশ দিয়ে নিউজপ্রিন্ট, হার্ডবোর্ড ও আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন করা সম্ভব।

গোল গাছ চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক, সহজসাধ্য এবং ব্যয়ও কম। গোল গাছ ভাইরাসজনিত রোগ থেকে নিরাপদ। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয় না। কোনো পরিচর্যা করতে হয় না। মোটা অংকের অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজনও হয় না। শুধু বীজ (গাবনা) সংরক্ষণ করে তা নিচু জমিতে পুঁতে রাখলেই চারা গজায়। এর এক একটি গাবনায় একশ’ থেকে দেড়শ’টি পর্যন্ত বীজ থাকে। এ বীজ থেকেই গাছ জন্মায়। এতে ব্যয়ের চেয়ে আয় অনেক গুণ বেশি। নদী বা মাটি ক্ষয় রোধেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। মাটি কামড়ে বা আঁকড়ে রাখে। গোলগাছ নদী ভাঙ্গনরোধে বিশেষ অবদান রাখছে। উপকূলীয় এলাকায় যে সকল গোলপাতার গাছের বাগান রয়েছে তা প্রকৃতির অশেষ দান।

গাছ পাচারকারী ও বনাঞ্চল উজাড়কারীরা অবাধে কেটে নিয়ে যাচ্ছে এসব বাগান। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বন বিভাগ নতুন করে গোলপাতার গাছ আবাদের কোনো উদ্যোগ আজও নেয়নি।

বরগুনার কৃষি বিভাগের উপপরিচালক শাহী নূর আজম জানান, উপকূলীয় এলাকার হাজার হাজার একর জমি অব্যবহৃত অথবা অনাবাদী না রেখে এসব জমি ব্যরহার করা যেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় গুড়ের চাহিদা মেটানো এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গোলপাতার গাছ বিরাট সহায়ক হতে পারে।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ
পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ
বাংলা ট্রিবিউন - ১ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ
৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ
https://www.prothomalo.com/ - ১ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফেথাই যাচ্ছে অন্ধ্রের দিকে
প্রবল ঘূর্ণিঝড় ফেথাই যাচ্ছে অন্ধ্রের দিকে
বিডি নিউজ ২৪ - ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে
ভিশন ২০২১-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ
ভিশন ২০২১-এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ
ইনকিলাব - ৫ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে

loading ...