এই দিনে আমলার সাগরখালী ব্রিজটি ভেঙে দিয়ে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। প্রতীকী ছবি

আমলা সদরপুর পাক হানাদার মুক্ত দিবস আজ

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আমলা হানাদার মুক্ত দিবসটি পালিত না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন সেখানকার বীর ‍মুক্তিযোদ্ধারা।

কাঞ্চন কুমার
কন্ট্রিবিউটর, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৩
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৩


এই দিনে আমলার সাগরখালী ব্রিজটি ভেঙে দিয়ে কুষ্টিয়ার দিকে পালিয়ে যায় পাক হানাদাররা। প্রতীকী ছবি

(প্রিয়.কম) আজ ৭ ডিসেম্বর। আজকের এই দিনে কুষ্টিয়ার মিরপুরের ঐতিহাসিক আমলা সদরপুর পাকহানাদার মুক্ত দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের অর্জন হিসেবে মুক্ত হয় এই জনপদ। ১৯৭১ সালের এ দিনে বহু ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে আমলা সদরপুর পাকহানাদার মুক্ত হয়েছিল।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মধ্যে যুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন এই এলাকার বীর সন্তানরা। বিএলএফ প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছিনিয়ে আনে বিজয়। এই দিনটির কথা মনে করে আজো গৌরবের সেই স্মৃতি বুকে নিয়ে চলছে। তারা চান নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে।

বীর মুক্তযোদ্ধা লুৎফর রহমান জানান, কুষ্টিয়া জেলার পাক বাহিনীর প্রধান অ্যাকশন ক্যাম্প গঠিত হয় আমলায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাক হানাদার বাহিনীরা এখানে এসে থাকতো। বর্তমানে যেটা আমলা সরকারি কলেজ সেখানে ছিলো পাক হানাদার বাহিনীদের ঘাঁটি। বীর মুক্তিযোদ্ধা মারফত আলীর নেতৃত্বে এই অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নেয়।

তিনি আরও জনান, ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর যশোরের মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কারণে সেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা তাদের অস্ত্র, গোলাবারুদ, ট্যাংক, রকেট লাঞ্চারসহ ভারী ভারী অস্ত্র নিয়ে সেখান থেকে ঝিনাইদহ দিয়ে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আবুরী-মাগুরা এলাকা দিয়ে আমলা হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে আসে। ৬ ডিসেম্বর মারফত আলীর নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত হয় চারিদিক থেকে ওই ক্যাম্পে আক্রমণ করার।

লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমাদের এ আক্রমণের খবর টের পেয়ে যায় আমলা ক্যাম্পে অবস্থানরত হানাদার বাহিনীরা। আমরা সে সময় মুক্তিযোদ্ধারা প্রায় ১৭টি ভাগে ভাগ হয়ে যাই। কমান্ডার আ স ম মুসা (চাঁদ), নুরুজ্জামান খাঁন, আফতাব উদ্দিন খাঁন, গেরিলা কমান্ডার আব্দুর রশিদ ফুরকান, আশকর আলী, রাহাত আলী, আফসার আলী, সাদেক আলীসহ আমরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে যাই।’

‘৭ ডিসেম্বর আমরা একযোগে চারিদিক থেকে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিই। তবে এই খবর পেয়ে হানাদার বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত আমলার সাগরখালী ব্রিজটি ভেঙে দেয় এবং আমলা থেকে পালিয়ে কুষ্টিয়ায় চলে যায়। সেই সঙ্গে আমলায় মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত বিজয় লাভ করে। বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং মুক্তিকামী সাধারণ মানুষ উল্লাস করে। আমলায় উদীত হয় স্বাধীনতার সূর্য।’

গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ ফুরকান বলেন, ‘মহান এই মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হলো আমরা যে হাত দিয়ে পাকিস্থানিদের হত্যা করতাম আবার সেই হাত দিয়েই আমাদের সহযোগীদের সেবা করতাম। দেখেছি হাজারো মানুষকে মরতে। পেরেছি শত্রুতের মারতে। দেখেছি মেয়েদের আহাজারি। তারা আমার আপন কেউ ছিল না, তবে সেদিন মনে হয়েছিল এরা সকলেই আমাদের আপনজন। এমন নির্মমভাবে মা-বোনদের হত্যা করা হয়েছিল তা দেখে আমাদের যুদ্ধের অনুপ্রেরণা আরও বেড়ে গিয়েছিল।’

‘আমাদের আত্মবিশ্বাস আর সাধারণ মানুষের কষ্টের আহাজারি আমাদের দেশকে স্বাধীন করতে সাহায্য করেছিল। সেদিনের সেই ভয়াবহ ঘটনার কথা আমার আজো কানে বাজে। মা-বোনদের আহাজারি, শিশুর কান্না আজো আমার মনে পড়ে। আমি মনে করি এই স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে সেদিনের শত্রু রাজাকার ও তাদের সহযোগিদের বিচার করে তাদের ফাঁসিতে ঝুলানো হোক। এতে সেদিনের শহিদদের আত্মার শান্তি পাবে। এদেশ একেবারে রাজাকার মুক্ত হবে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা আশকর আলী ও রাহাত আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমলা হানাদার মুক্ত হওয়ার ৪৭ বছর পার হয়ে গেলেও এই দিবসটি পালিত হয় না। এই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথার কথা নতুন প্রজন্মকে জানানোর কোনো মাধ্যম নেই। কুষ্টিয়া মুক্ত দিবস, মিরপুর, ভেড়ামারা, দৌলতপুর, খোকসা, কুমারখালী হানাদার মুক্ত দিবস পালন করি। অনুরূপ আমরা আমলা মুক্ত দিবস পালন করার দাবি জানাই। সেই সাথে আমলায় মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ফলকেরও দাবি জানাই।’

আমলা সদরপুরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি আমলার বদ্ধভূমি সংরক্ষণের দাবিও জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাম্মদ আলী।

প্রিয় সংবাদ/শিরিন/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শপথ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শপথ
জাগো নিউজ ২৪ - ২ দিন, ২২ ঘণ্টা আগে
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
এনটিভি - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
‘বিজেপি-মুক্ত ভারত’ সম্ভব
‘বিজেপি-মুক্ত ভারত’ সম্ভব
ইনকিলাব - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ
ইনকিলাব - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
জকিগঞ্জে ৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন
জকিগঞ্জে ৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালন
দৈনিক সিলেট - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে
বিজয় দিবস হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা শুরু
বিজয় দিবস হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা শুরু
সময় টিভি - ৩ দিন, ২ ঘণ্টা আগে