শিশু সিয়ামের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার মিঠু মিয়া (২৬)। ছবি: প্রিয়.কম

‘থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে শিশুকে নদীতে ফেলে হত্যা’

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারে পর আসামি মিঠু  হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করেছে।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২৫
আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:২৫


শিশু সিয়ামের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার মিঠু মিয়া (২৬)। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ ছয় বছরের শিশু সিয়ামকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। তবে সিয়ামকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার কারণে তার লাশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিহত সিয়ামের অপহরণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত মিঠু মিয়াকে (২৬) গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এমন দাবি করেছে র‌্যাব-১।

৭ ডিসেম্বর, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩) পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রূপগঞ্জের বিরাব খালপাড় এলাকায় বসবাসকারী মো. মোফাজ্জল হোসেনের শিশু সন্তান সিয়াম নিখোঁজ হয়েছিল। নিহত সিয়াম স্থানীয় স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সিয়াম নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পরে (১৭ সেপ্টেম্বর) সিয়ামের মা ফারজানা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে র‌্যাব ঘটনার সঙ্গে সিয়ামের বাবার কর্মচারী মিঠুর সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পায়। আর ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক ছিল। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার গন্ধবপুর এলাকা থেকে অভিযান  চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১।

আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, গত চার মাস আগে নিহত সিয়ামের বাবা মোফাজ্জল হোসেনের ইটের ট্রলিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত গ্রেফতার মিঠু মিয়া। সে মোফাজ্জল হোসেনের বাসাতেই থাকত। কিন্তু কিছু দিন পর মিঠুর সঙ্গে অপর এক শ্রমিকের ঝগড়া হওয়ার কারণে মালিক মোফাজ্জল রেগে গিয়ে মিঠুকে চড় থাপ্পড় মারেন।

সে কারণে আসামি মিঠু এর প্রতিশোধ নিতে মোফাজ্জলের ছেলে শিশু সিয়ামকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে সুযোগ বুঝে সিয়ামকে কাঞ্চনব্রিজের ওপর থেকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করে মিঠু। এরপর সে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারের পর মিঠু হত্যার ঘটনাটি স্বীকার করেছে। সিয়ামের বাবার দেওয়া চড় থাপ্পড় ও গালাগালির প্রতিশোধ নিতেই সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে।

এই বিষয়ে নিহত সিয়ামের মা ফারজানা বলেন,  ‘ঘটনার দিন বিকেলে মিঠু বাসা থেকে সিয়ামকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। ওই সময় তার আচরণে আমার কোনো প্রকার সন্দেহ হয় নাই। কিন্তু যখন সন্ধ্যা পার হয়ে রাত হয়, তবুও মিঠু সিয়ামকে নিয়ে আর ফিরে আসে না। তখনি আমাদের সন্দেহ শুরু হয়। এরপর আমি ও আমার স্বামী দুজনে সিয়ামকে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। তখন মিঠুর ফোনটি বন্ধ ছিল। একদিন পার হয়ে যাওয়ার পরে হঠাৎ মিঠু আমাদের ফোন করে বলে, “তোর ছেলেকে  নদীতে ফেলে দিয়েছি।” এমন কথা শোনার পরে আমরা থানায় গিয়ে একটি অপহরণের মামলা দায়ের করি।’

প্রিয় সংবাদ/হিরা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট