ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: প্রিয়.কম

চার ওপেনার খেলানোর ব্যাখ্যা দিলেন মাশরাফি

চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে মধুর সমস্যাতেই ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সমাধানটাও হলো মধুর।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১৯ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১৯
প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১৯ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:১৯


ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) আড়াই মাস পর মাঠে ফিরেই প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তামিম ইকবাল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকানো সৌম্য সরকার উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও করেছেন সেঞ্চুরি।স্কোয়াডের আরেক ওপেনার ইমরুল কায়েস সবশেষ সিরিজে তিন ম্যাচে করেছেন ৩৪৯ রান, ছিল দুটি সেঞ্চুরি। একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ইমরুলের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন লিটন দাস।

এর আগে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে লিটন খেলেছিলেন ১২১ রানের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস। বলা যায়, উইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মাঠে নামার আগে স্কোয়াডের চার ওপেনারই রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। এমন অবস্থায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে মধুর সমস্যাতেই ছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সমাধানটাও হলো মধুর। উইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে খেললেন চার জনই।

শুরুর তিন পজিশনে ছিলেন তামিম-লিটন দাস-ইমরুল। ছয়ে খেলেছেন সৌম্য। ইমরুল (৪) ছাড়া সবাই পেরিয়েছেন দুঅঙ্কের ঘর। তামিম ১২, লিটন ৪১, সৌম্য ১৯। তিন ক্রিকেটারই ছিলেন ২২ গজে সপ্রতিভ। অবশ্য লিটন ছাড়া ইনিংস টেনে নিতে পারেননি অন্যরা। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও তাই একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল চার ওপেনারের প্রসঙ্গ। চার ওপেনার খেলানোর ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি ছন্দে থাকা মোহাম্মদ মিঠুনকে একাদশের বাইরে রাখার কারণও জানান মাশরাফি।

মাশরাফির ভাষ্য, ‘সৌম্যর আসলে ছয়ে সাতে ব্যাট করার অভ্যাস আছে। কাজেই ইমরুল হয়ত রেয়ার কেইস। সৌম্য করেছে, এশিয়া কাপ ফাইনালে সাতে খেলেছে। আবার ওর হাতে শটস খেলার সামর্থ্য আছে। পেস বল সামলাতে পারে। ইনফর্ম আছে। লাস্ট তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছে। যদিও একটা আনঅফিসিয়াল। মিঠুনও ভালো ফর্মে আছে। বাট ডিউ ফ্যাক্টর সব কিছু চিন্তা করে। যদি স্পিনাররা স্ট্রাগল করে, সৌম্যর কাছ থেকে কিছু ওভার পাওয়া যায় কিনা এসব চিন্তা করে আসলে সৌম্যকে খেলানো। আর ও নিজেও তো ফর্মে আছে।’

‘নম্বর তিন পর্যন্ত ইমরুল আছে। সাকিব পাঁচে নেমে এসেছে। সৌম্য আর ইমরুলের কথা আগেও যেটা ব্যাখ্যা করলাম। সৌম্য ছয়, সাতে নামবে। ছয়, সাতে যারা নামে শটস খেলার সামর্থ্য থাকে, মিঠুনের নাই তা না। কিছুটা সহজ হয়েছে সাকিব পাঁচে ব্যাট করাতে। যেহেতু সাকিব পাঁচে ব্যাট করছিল। সেহেতু মিঠুন এবং সৌম্যের ভেতর এবিলিটির ক্ষেত্রে হয়তো সৌম্যর কাছ থেকে কিছু ওভার যদি পাওয়া যায়। আর শেষ দিকে লেফট রাইট কম্বিনেশন করা ছিল। সাকিব আউট না হলে রিয়াদ যেত,’ যোগ করেন মাশরাফি।

ইমরুল এশিয়া কাপে ব্যাট করেছিলেন মিডল অর্ডারে। মিডল অর্ডারে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা আছে লিটন-সৌম্যরও। মাশরাফি মনে করেন, তাই চার ওপেনার খেলানোয় কোনো ঝুঁকি ছিল না।

এ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘চার জন ওপেনার খেলানো হলেও ওদের এক বা দুই জনের এই সামর্থ্য আছে যে অন্য জায়গায় ব্যাটিং করতে পারবে। সৌম্যর ছয়, সাতে ব্যাট করার অভ্যাস আছে। ও এশিয়া কাপ ফাইনালে সাতে খেলেছে। ওর শট খেলার সামর্থ্য আছে। লিটন টেস্টে ছয় নম্বরে বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছে।  বিভিন্ন পজিশনে খেলার এই সামর্থ্য দলের ফ্লেক্সিবিলিটি বাড়ায়। ওপেনিংয়ের বাইরেও খেলার সামর্থ্য আছে বলে ওকে খেলানো হচ্ছে।’

বিশ্বকাপের জন্য ধীরে ধীরে একটা কম্বিনেশন গুছিয়ে আনছে বাংলাদেশ। মাশরাফি জানান, তামিম-ইমরুল-লিটন-সৌম্য এই চার জনের যে কোনো তিন জনকে দেখা যাবে টপ অর্ডারের ব্যাটিংয়ে। এ নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘চিন্তা করা যায় কিন্তু এমন ভাবার সুযোগ থাকেও না। ম্যাচ হারলে কিংবা কারো ফর্ম না থাকলে তাকে অনেক সময় বসতে হয়। সেটাও স্বাভাবিক। তবে আমার মনে হয়, সৌম্য দুই জায়গায় খেলতে পারে বলে ওকে ওই সুযোগটা দেওয়া হয়েছে।’

‘সৌম্যর জন্য আদর্শ হচ্ছে যদি তিন বা ওপেনিংয়ে খেলতে পারে। ওর এই সামর্থ্য আছে বলে ওকে খেলানো হচ্ছে। কিন্তু কোনো কিছুই আসলে নিশ্চয়তা দেয় না। তবে টপ তিনে এদের চার জনের তিন জনেরই খেলার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু এই মুহূর্তে বাইরে ওইরকম কেউ নাইও। বেশির ভাগ ম্যাচই এরা খেলে আসছে। এদের চার জন থেকে তিন জন খেলার সম্ভাবনাই বেশি,’ যোগ করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

নিজেকে মেলে ধরার পরও মোহাম্মদ মিথুনের বাদ পড়াটা স্রেফ দুর্ভাগ্য অধিনায়ক মাশরাফির কাছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়কের ভাষ্য, ‘মিথুনের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। যে ফর্মে ছিল সেখান থেকে খেলতে না পারা, আমি বলবো ও খুব দুর্ভাগা। ও পাঁচে ব্যাটিং করেছে, ছয়ে পারবে না তাও না। কোনোভাবেই ওকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই। ও এশিয়া কাপে খুব ভালো কয়েকটি ইনিংস খেলেছে। জিম্বাবুয়ের সাথেও ও ভালো খেলেছে। ও তো দলের সাথে আছেই। ওকে আমরা এমনভাবে রাখতে চাই যেন ও নিজের জায়গায় ফিরে আসতে পারে। আমার মনে হয় মানসিকভাবে ও ঠিক আছে।’

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...