কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

আমজাদ হোসেনের মরদেহ আসছে শুক্রবার

আমজাদ হোসেনের বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল প্রিয়.কমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিয়.কম
প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪২ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৭
প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪২ আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৭


কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, অভিনয়শিল্পী ও লেখক আমজাদ হোসেনের মরদেহ ২১ ডিসেম্বর, শুক্রবার দেশে আনা হচ্ছে। তার মরদেহ নিয়ে ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট ব্যাংকক সময় বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে। সব ঠিকঠাক থাকলে সাড়ে ছয়টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছাবে।

১৯ ডিসেম্বর, বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ তথ্য প্রিয়.কমকে জানিয়েছেন আমজাদ হোসেনের বড় ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল।

সাজ্জাদ হোসেন দোদুল বলেন, ‘সবকিছু ঠিক থাকলে ব্যাংকক থেকে আব্বার মরদেহ পরশুদিন বিকাল সোয়া ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দেশে আসবে। আর বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে হয়তো সোয়া দুই ঘণ্টার মতো লাগবে। এরপর আব্বাকে আদাবরের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর বারডেম মরচুয়ারিতে (হিমাগারে) রাখা হবে।’

দোদুল জানান, শনিবার সকালে শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমজাদ হোসেনের মরদেহ নেওয়া হবে। শ্রদ্ধা জানানোর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি), চ্যানেল আই ও বিটিভির কার্যালয়ে নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘তবে বাবাকে কোথায় দাফন করা হবে, সেটা এখনো নিশ্চিত না। পারিবারিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে মা চান, বাবাকে যেন মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা সারা জীবনের জন্য ঋণী হয়ে রইলাম। এই ঋণ শোধ করার মতো না, শোধ করতে পারবও না। এ জন্যই তিনি ১৬ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী, তাকে স্যালুট জানাই। তিনি আমজাদ হোসেনকে এত এত সম্মান দিলেন, আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।’

এদিকে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে, আমজাদ হোসেনের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে তার পরিবার। ওই খবরে বলা হয়েছে, এই নির্মাতার মৃত্যুর পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

এ নিয়ে দোদুল বলেন, ‘ব্যাংককে ১৬ ডিসেম্বরসহ টানা তিন দিন সরকারি বন্ধ গেছে। যার কারণে বাবার মরদেহ আনতে দেরি হলো। এখানে অন্য কোনো বিষয় নেই। এখানে যারা বলে, অন্য কোনো কারণ আছে, তারা নিউজ করার জন্য কিংবা খোঁচানোর জন্যই বলে।’

ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমজাদ হোসেন ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

ওই হাসপাতালে আমজাদ হোসেন প্রখ্যাত নিউরো সার্জন ডা. টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আমজাদ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৭ নভেম্বর দিবাগত রাতে ব্যাংককে নিয়ে যাওয়া হয়। তার সঙ্গে ছিলেন দুই ছেলে সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও সোহেল আরমান।

বর্ষীয়ান এ নির্মাতা ১৮ নভেম্বর সকালে ব্রেন স্ট্রোক করেন। এরপরই তাকে তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার খবর শুনে হাসপাতালে ভর্তির তিন দিনের মাথায় তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাস ছয়েক আগে থাইল্যান্ডের সুকুমভিত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আমজাদ হোসেন। সেখানে তার ক্ষুদ্রান্ত্রে দুটি অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

আমজাদ হোসেন ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসেন। পরে চিত্রনাট্য রচনা ও নির্মাণে মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৭ সালে আমজাদ ‘আগুন নিয়ে খেলা’ নামে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পরে তিনি ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘ভাত দে’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া শিল্পকলায় অবদানের জন্য সরকার তাকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে।

আমজাদ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আজীবন সদস্য। সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।

আমজাদ হোসেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এবং গল্পকার জহির রায়হানের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬৭ সালে ২৫ বছর বয়সে তিনি নিজেই চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

প্রিয় বিনোদন/মিজান

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

অনন্ত-বর্ষার রাতাড্ডা

প্রিয় ৪ ঘণ্টা, ৫৬ মিনিট আগে

loading ...