সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফাইল ছবি

চলে গেলেন সৈয়দ আশরাফ

এর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকমাস ধরে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৮ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৮
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৮ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৮


সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

৩ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব ইমরুল কায়েস রানা। 

এর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকমাস ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। 

সৈয়দ আশরাফ হাসপাতালে থাকাকালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৩ থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। ওই অনুষ্ঠানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, শপথের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছেন এই সংসদ সদস্য।

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এমএ ডিগ্রী লাভ করেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। স্বাধীনতার পর তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে পিতা সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর তিনি যুক্তরাজ্য চলে যান। প্রবাস জীবনে তিনি যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং কিশোরগঞ্জ সদর আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের ১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তিনি এলাকায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এক কন্যার জনক। তার স্ত্রী শিলা ইসলাম ২০১৭ সালের অক্টোবরে মারা যান।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...