কোথাও কেউ নেই

কোথাও কেউ নেই

তুষ্টি একটু নড়েচড়ে বসল। তারপর বলল। কান্নাটা ওরই।

এ এইচ এম আতিউল্লাহ খান
লেখক
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২১ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২১
প্রকাশিত: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২১ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:২১


কোথাও কেউ নেই

গত রাত ছিল কৃষ্ণপক্ষের। ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিজের চেহারাও অস্পষ্ট। জানালা দিয়ে কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। কেমন সাদা, সাদাটে। কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। কান্নার শব্দ যেন অমসৃণ, কোনো পেলবতা নেই। বেশ জোরেই কোনো একজন কাঁদছে। কান্নার অধিকারিণী একজন নারী। রাত প্রখর হলো। জানালা থেকে সরে আসলাম। আধো আধো ভয় নিয়ে শুয়ে পড়লাম। আমার রুমমেট অন্য খাটে ঘুমাচ্ছে। আমাদের দুজনের মধ্যে গভীর সখ্য। ও আমার স্কুল জীবনের বান্ধবী।

ভোর হলো। রুমমেট তুষ্টির সাথে ব্রেকফাস্টে বসলাম। সকালের নাশতা প্রায়ই একসাথে করি। ওর সাথে ঘটনাটা শেয়ার করলাম। তুষ্টি একটু নড়েচড়ে বসল। তারপর বলল। কান্নাটা ওরই। গত রাতে ও একটু ভয় পেয়েছিল। কষ্টও পেয়েছিল। বলল, দেখলাম তুই সাদা চাদর পরে ঘুমাচ্ছিস আর তোর দিকে অশরীরীমতো কে একজন তাকিয়ে আছে। তোকে না মেরে ফেলে সেই ভয়ে আমিই কাঁদছিলাম।

আমি তুষ্টির দিকে তাকালাম। ওকে অচেনা লাগছে। তুষ্টি হাসল। মনে হলো হাসিটাও অদ্ভুত! সেখানে হাসির অনাবিল নেই। সেখানে হাসির ফুরফুরানি নেই। ওর ঠোঁটে অচেনা সুর। এ সুরকে আমি চিনি না। মনকে ধমকালাম, কি আবোলতাবোল ভাবছে সে। এত বছরের চেনা বন্ধু! একসাথে বড় হয়েছি। স্কুল জীবনের দীর্ঘ সময় বলতে গেলে একসাথে পার করেছি।

হকার খবরের কাগজ দিয়ে গেল। সেখানে একটা মেয়ের আত্মহত্যার একটা ঘটনা ছাপা হয়েছে। ছবিটা চেনা চেনা লাগছে। নিচে নামটা পড়তে পড়তে দু’চোখে কান্নার নদী নামল। আত্মহত্যাকারিণীর নাম তুষ্টি।এবার ছবিটা চিনতে অসুবিধা হলো না। হুহু কান্নার বেগ আরও বেগবান হলো।

গা বেয়ে একটা শিরশিরানিও নামল। তাহলে এতক্ষণ কার সাথে ব্রেকফাস্ট করছিলাম! তাকিয়ে দেখি রুম ফাঁকা। কোথাও কেউ নেই।

প্রিয় সাহিত্য/আজাদ চৌধুরী