বল হাতে একটু পর পরই এমন উল্লাস করেছেন সাকিব, সোহান, মিজানুররা । ছবি: প্রিয়.কম

দাপুটে জয়ে শুরু সাকিবের ঢাকার

সাকিব আল হাসানের দলের বিপক্ষে পাত্তাই পেল না বিপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের রাজশাহী কিংস।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪২ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৮
প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৪২ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৮


বল হাতে একটু পর পরই এমন উল্লাস করেছেন সাকিব, সোহান, মিজানুররা । ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) উদ্বোধনী ম্যাচের ম্যাড়মেড়ে ভাব দূর করার দায়িত্ব যেন একাই নিয়েছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের ওপেনার হজরতউল্লাহ জাজাই। নেমেই খুনে স্টাইলে রাজশাহী কিংসের বোলারদের ওপর দিয়ে তিনি যে ঝড় বইয়ে দেন, তাতে অনেকেই হয়তো ভুলেই গিয়েছিল এই উইকেটেই আগের ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে মাত্র ৯৮ রানে অলআউট হয়েছে রংপুর রাইডার্স। মূলত তার ব্যাটেই ব্যবধান গড়ে নেয় ঢাকা। তাই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের প্রথম ম্যাচে রাজশাহীকে ৮৩ রানের বড় ব্যবধানে হারাতে কোনো সমস্যাই হলো না সাকিব আল হাসানের দলের।  

শনিবার মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা ঢাকা ডায়নামাইটস দাপুটে শুরু করলেও মাঝের ব্যর্থতায় ২০০ ছাড়ানো স্কোর গড়তে পারেনি। মিরপুরের ২২ গজে ঝড় বইয়ে দেওয়া আফগান ব্যাটসম্যান হজরতউল্লাহ জাজাইয়ের ৪১ বলে করা ৭৮ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৮৯ রান তোলে ঢাকা। জবাবে শুরু থেকেই নড়বড়ে ব্যাটিং করতে থাকা রাজশাহী কিংস থেমে যায় ১০৬ রানেই।

১৯০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা রাজশাহীর শুরু দেখে মনে হয়েছিল লড়াইটা জমবে বেশ। যদিও মোহাম্মদ হাফিজ ও মুমিনুল হকের জুটিটা লম্বা হয়নি। ২৪ রানের মাথায় বিদায় নেন মুমিনুল হক। এরপর অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে যান সৌম্য সরকার, লরি ইভান্স ও জাকির হাসান। ঢাকার রুবেল হোসেন, আন্দ্রে রাসেল, সাকিব আল হাসানদের বোলিংয়ের বিপক্ষে তাদেরকে অনেকটা অসহায়ই মনে হয়েছে।

এক পাশ আগলে রাখা হাফিজও দলীয় ৫৬ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন। তার করা ২৯ রানই রাজশাহীর ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। ৫৬ রানেই ৫ উইকেট হারানো রাজশাহীর বাকি ব্যাটসম্যানরা উইকেটে গেছেন আর ফিরেছেন। দলের দুঃসময়ে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পারেননি বিপিএল ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক মিরাজও। এক রান করেই থামতে হয় তাকে। শেষের দিকে মুস্তাফিজুর রহমান ও আরাফাত সানির মারা কয়েকটি চার-ছক্কা দর্শকদের বিনোদন দিয়েছে মাত্র। ঢাকার রুবেল হোসেন সর্বোচ্চ ৩টি ও বিপিএলে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মোহর শেখ ২টি উইকেট নেন।
এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা ঢাকা ডায়নামাইটসকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন ম্যাচসেরা হজরতউল্লাহ জাজাই ও সুনীল নারিন। অবশ্য নারিনকে কিছু করতে হয়নি। যা করার একাই করেছেন হজরতউল্লাহ। নারিনকে এক পাশে রেখে রাজশাহী কিংসের বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দেন আফগানিস্তানের তরুণ বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

প্রথম দুই ওভার করা রাজশাহীর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও মুস্তাফিজুর রহমান কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন। তৃতীয় ওভার থেকে রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দেন হজরতউল্লাহ। মিরাজের করা এই ওভার থেকে ২১ রান তুলে নেন হজরতউল্লাহ। চতুর্থ ওভারে মুস্তাফিজ কিছুটা সফল হলেও পরের ওভারে আলাউদ্দিন বাবুকে দিক ভুলিয়ে দেন ঢাকার এই ওপেনার।

আলাউদ্দিন বাবুর করা পঞ্চম ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২০ রান তুলে নেন হজরতউল্লাহ। তার এমন খুনে ব্যাটিংয়ে ৫ ওভারেই ৬৫ রানে পৌঁছে যায় সাকিব আল হাসানের দল। সপ্তম ওভারে হজরতউল্লাহকে থামানোর সুযোগ পায় রাজশাহী। কিন্তু মোহাম্মদ হাফিজের বলে হজরতউল্লাহর তোলা ক্যাচ মাটিতে ফেলে দেন রাজশাহীর উইকেটরক্ষক জাকির হাসান।

জীবন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছেন ঢাকার এই ওপেনার। একই স্টাইলে খেলে গেছেন তিনি। সুযোগ বুঝে নারিনও সপাটে ব্যাট চালিয়েছেন। ১১তম ওভারে ক্যাচ তুলে ফিরে যাওয়ার আগে ক্যারিবীয় এই অলরাউন্ডার ২৮ বলে ৩৮ রান করেন। এরপর হজরতউল্লাহও আর টিকতে পারেননি। তবে ১২তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪১ বলে ৪টি চার ও ৭টি ছক্কায় ৭৮ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেন আফগানদের হয়ে ২টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি খেলা মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

নারিন ও হজরতউল্লাহকে হারিয়ে যেন দিক ভুলে যায় ঢাকা। ৯ রানের ব্যাবধানে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, কাইরন পোলার্ড ও নুরুল হাসান সোহানকে হারায় তারা। এতে স্বভাবতই রান তোলার গতি কমে যায় ঢাকার। যদিও ঢাকার এই দুঃখ আর থাকেনি। শুভাগত হোমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ঠিকই বড় সংগ্রহ পেয়ে যায় তারা।

শুভাগত ১৪ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া আন্দ্রে রাসেল ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। রাজশাহীর আরাফাত সানি দুটি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ, কাইস আহমেদ ও মোহাম্মদ হাফিজ একটি করে উইকেট নেন।   

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...