সাভারে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছবি: সংগৃহীত

পোশাক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ১২ কারখানায় ছুটি

ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্রায় এক সপ্তাহ থেকেই উত্তরা, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছিল। বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন।

আবদুল কাইয়ুম
কন্ট্রিবিউটর, সাভার
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৮ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৬
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৮ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৬


সাভারে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে ১২টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও রাজধানীর মিরপুরের কালশী, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও গাজীপুরে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

৯ জানুয়ারি, বুধবার সকাল থেকেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকে সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানা এই শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তারা বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কে চলে আসে। ফলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় ।

বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ছবি: প্রিয়.কম

সাভারের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে বেতন বৃদ্দির দাবিতে সাভারের উলাইল ও আশুলিয়ার কাঠগড়া, আমতলা, জামগড়া, বাইপাইল এলাকায়সহ বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইট নিক্ষেপ করলে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ১৮ জন পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ শ্রমিকদের উপর টিয়ারশেল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

সাভারে পোশাক কারখানাগুলোর সামনে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা জোনের শিল্প পুলিশের সুপার সানা শামিনূর রহমান জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে সাভারের আশুলিয়া এলাকায় অন্তত ১২টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন সময় টিভির জেলা সংবাদদাতা মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশ শ্রমিকদের সরাতে লাঠিচার্জ করে। এ সময় তিনি তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন তিনি। মনিরুল দাবি করেছেন, তার শরীরে লাঠি নয়, লোহার রডের পিটুনি পড়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে পিটিয়েছে।

মিরপুরের কালশীতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

সড়ক থেকে পোশাক শ্রমিকদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। ছবি: প্রিয়.কম

গত বছরের ২৫ নভেম্বর তৈরি পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়, যা ১ ডিসেম্বর থেকেই কার্যকরের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। তবে শ্রমিকরা দাবি করেছেন, ডিসেম্বর থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। মালিকরা সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি দিচ্ছেন না। এ ছাড়াও শ্রমিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবি ছিল, ন্যূনতম মজুরি দিতে হবে ১৬ হাজার টাকা।

ডিসেম্বর মাসের বেতন নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী না দেওয়ায় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই রাজধানীর উত্তরা, মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছিলেন। এরইমধ্যে ৮ জানুয়ারি, মঙ্গলবার বিক্ষোভরত এক শ্রমিক গুলিতে আহত হয়ে মারা যান। শ্রমিকদের দাবি, পুলিশের গুলিতে তিনি মারা গেছেন। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে বাণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী কারখানার মালিক, শ্রমিক নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি মজুরি পর্যালোচনা কমিটিও গঠন করা হয়।

বৈঠক শেষে নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, পর্যালোচনা কমিটি এক মাসের মধ্যে মজুরির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করবে এবং সেই অনুযায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। যারা ধ্বংসাত্মক কাজ করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও জানান তিনি। পর দিন (আজ) আবারও বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা।

ন্যূনতম বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই বিক্ষোভ করেন পোশাক শ্রমিকরা।রাজধানীর মিরপুরের কালশী থেকে মঙ্গলবার তোলা ছবি 

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...