সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নুরজাহান বেগম মুক্তা (বামে), জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা (ডানে)। ফেসবুক থেকে ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে

সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে চান তারা

আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন নারী আইনজীবী।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১১
প্রকাশিত: ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৬ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:১১


সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নুরজাহান বেগম মুক্তা (বামে), জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা (ডানে)। ফেসবুক থেকে ছবিগুলো নেওয়া হয়েছে

(প্রিয়.কম) জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এরপর শপথ গ্রহণ করেছেন নবনির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রীপরিষদের সদস্যরা। এবার সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে জোর চেষ্টা-তদবির করছেন সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবী।

চেষ্টা-তদবিরে থাকা ওইসব আইনজীবীর অনেকেই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।

সংসদে মোট ৫০ জন নারী এমপি হিসেবে দলীয়ভাবে মনোনীত হবেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের বেশ কয়েকজন নারী আইনজীবী। তাদের মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা, চাঁদপুরের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নুরজাহান বেগম মুক্তা, জেসমিন সুলতানা, নাসরিন সিদ্দিকা লিনা, সালমা হাই টুনীসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবীর নাম শোনা যাচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা বগুড়া থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে চান। জানতে চাইলে তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘এবারের সংসদ নির্বাচনে আমি বগুড়া-৫ (শেরপুর ধুনট) আসন থেকে অংশ নিতে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলাম। পরে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচনে প্রার্থী না হয়ে দলের জন্য কাজ করেছি।’

এই আইনজীবী ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, ‘১৯৮৫ সালে বগুড়ার সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেই। সে সময় এই প্রতিষ্ঠানে এক হাজার সাতশ মেয়ে পড়ালেখা করত। সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে পাস করি।’

‘এরপর আমাকে ভিপি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি সেটি না নিয়ে একটি সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় মুন্নুজান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি ১৯৮৯ থেকে ’৯৪ সাল পর্যন্ত।’

‘১৯৯৪ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হই। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে এসে ২০০৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হই এ যাবৎ কালের সর্বোচ্চ ভোটে। ২০১০ সাল থেকে মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’

জান্নাতুল ফেরদৌস রুপা ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের আইনি সহায়তা দেন।

সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী নূরজাহান বেগম মুক্তা চাঁদপুরের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন।

পারিবারিকভাবেই রাজনীতির হাতেখড়ি আইনজীবী নূরজাহান বেগম মুক্তার। বাবা ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা। সেই সুবাদে ছাত্রজীবনেই জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে। ঢাবিতে পড়ালেখার সময় শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদিকা ও পরে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ লাভ করেন তিনি। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত। চাঁদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আরেক  আইনজীবী জেসমিন সুলতানা সংরক্ষিত মহিলা আসনে চাঁদপুর থেকে এমপি হতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কমিশনের আইন সহায়তা পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সহ-সভাপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের আইন বিভাগের আইনজীবী।

জেসমিন সুলতানা ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান), ১৯৮৫ সালে এমএ এবং ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি সম্পন্ন করেন। তিনি দুই সন্তানের জননী। তার মেয়ে প্রমা লন্ডনে সিএ এবং তাপসী ব্যারিস্টার।

জেসমিন সুলতানা ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং সৌদি আরব ভ্রমণ করেছেন এবং আইন বিষয়ে শিক্ষা অর্জন করেছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য কাজ করে যাব। সেই সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রাখব।’

মুন্সীগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হতে চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সালমা হাই টুনী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু দলের হাইকমান্ডে পরবর্তীতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ওয়ান ইলেভেনের সময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই করেছি। প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, লন্ডনে অবস্থানরত আশরাফুজ্জামান, মইনুদ্দিনের মামলা পরিচালনায় ছিলাম। সে সময় কেউ এই মামলাগুলো করতে সাহস পাননি।’

সালমা হাই টুনী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক। তিনি আওয়ামী যুবলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মুন্সীগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   

চট্টগ্রাম থেকে এমপি হতে চান সুপ্রিম কোর্ট বারের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা লিনা। তিনি চট্টগ্রাম বারের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দুল হকের কন্যা এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান লিখনের সহধর্মিণী।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেসমিন সুলতানা (বামে), নাসরিন সুলতানা সিদ্দিকা লিনা (ডানে)। ফেসবুক থেকে নেওয়া ছবি 

এমপি হতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন অনেকেই। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগের নেত্রী ছাড়াও জেলার নেত্রীরাও এখন ঢাকায়।

আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবারের মন্ত্রিসভার মতোই সংরক্ষিত নারী আসনে চমক দিতে চান। সে কারণে ক্লিন ইমেজের ত্যাগী নেত্রীদের স্থান দিতে চান প্রধানমন্ত্রী।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...