ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামে এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক প্রেমিকা জেসমিন লিনার্ড। ছবি: সংগৃহীত

‘রোনালদো একটা পাষণ্ড, মিথ্যুক ও মানসিক রোগী’

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ ব্রাদার’-এর এই তারকার দাবি, রোনালদোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ আছে তার কাছে এবং তা এই কেসে কাজে দেবে।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৬


ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নামে এমনই ভয়ঙ্কর অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক প্রেমিকা জেসমিন লিনার্ড। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপক্ষে ধর্ষণের পুরনো অভিযোগ নতুন করে আনার পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয় ফুটবল-দুনিয়ায়। ক্যাথরিন মায়োর্গের করা গত বছরের ওই মামলার তদন্ত চলছে। এর মাঝেই জুভেন্টাসের পর্তুগিজ এই তারকার বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের হুমকির অভিযোগ আনলেন তার সাবেক প্রেমিকা জেসমিন লিনার্ড। 

শুধু তা-ই নয়, রোনালদোকে মানসিক রোগী ও মিথ্যাবাদী হিসেবেও অভিহিত করেন যুক্তরাজ্যের রিয়েলিটি শো’র এই তারকা। সম্প্রতি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পোস্টে রোনালদোর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে মায়োর্গাকে সহায়তা করার কথা প্রকাশ করেছেন লিনার্ড। ওই পোস্টগুলোতে তিনি দাবি করেন, রোনালদোর বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ আছে তার কাছে এবং তা এই কেসে কাজে দেবে।

ধারাবাহিক টুইটে জেসমিন লিখেছেন, ‘আপনি যখন কাউকে যৌন কাজে জোর করবেন, আপনি ধর্ষক এবং দানব। আপনি ফুটবলে কত ভালো কিক করতে পারেন কিংবা ভালো গান গাইতে পারেন তা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। তিনি মনে করেন আইনের ফাঁক গলে পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু এবার তা হবে না। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল প্রায় এক যুগের। গত বছর পর্যন্তও নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তার মেসেজ ও রেকর্ডিং—সব আছে।’

ধর্ষণের মামলা করা ক্যাথরিনকে সব ধরনের সহায়তা করার আশ্বাস দিয়ে জেসমিন আরও লিখেছেন, ‘ক্যাথরিন এবং তার দল রোনালদোর আসল চেহারা ও চরিত্র ফাঁস করে দিয়েছে। আমি আর বসে থাকতে পারছি না। এতে আমার নিজেকেই অপরাধী বলে মনে হচ্ছে। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করো ক্যাথরিন। আমি তোমাকে সহায়তা করব। সে হয়তো তোমাকে থামাতে চেষ্টা করবে কিন্তু এটা এখন সবাই জানে, ফলে সে বাজেভাবে ব্যর্থ হবে।’

রোনালদোকে মিথ্যাবাদী ও মানসিক রোগী আখ্যা দিয়ে জেসমিন আরও লিখেছেন, ‘রোনালদোর ভয়ানক মানসিক সমস্যা আছে। তার সন্তান ও তার সন্তানের মায়ের চারপাশ মিথ্যে ঘিরে আছে। সে একটা পাষণ্ড এবং মিথ্যুক। তার পুরো জীবনটাই একটা মিথ্যে। ও একটা মানসিক রোগী। সে আমাকে একবার বলেছিল আমি যদি অন্য কারো সঙ্গে ডেট করি কিংবা বাড়ির বাইরে যাই, তাহলে সে আমাকে অপহরণ করবে এবং আমার দেহ টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেবে।’

সব প্রমাণই রয়েছে এবং রোনালদোকে ভয় পান না বলে দাবি জেসমিনের। ‘বিগ ব্রাদার’ রিয়েলিটি শো’র এই তারকা এ নিয়ে লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, আমি যা বলছি তার প্রমাণ আছে আমার কাছে। না, আমি তাকে ভয় পাই না। প্রায় এক যুগ ধরে আমি তার বহু ভণ্ডামি গোপন রেখেছিলাম। কিন্তু এটা (মায়োর্গাকে ধর্ষণ) ছিল এগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। আমি আদালতে এসব অভিযোগের জন্য তার পাশে দাঁড়াব না, যখন আমি বিশ্বাস করি সে অপরাধী।’

২০০৯ সালে লাস ভেগাসের হোটেলে রোনালদো, ক্যাথরিন মায়োরগা নামের এক নারীকে ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে স্কুলশিক্ষিকা ক্যাথরিন নিজেই জার্মান সংবাদমাধ্যম ডার স্পেইগেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি ওই ঘটনা প্রকাশ করেছেন। এরপরে স্থানীয় পুলিশ সেই মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করে।

ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়া ও রোনালদো-ভক্তদের কাছ থেকে হয়রানির কথা ভেবে তিন লাখ ৭৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ মেনে নেন ক্যাথরিন ও তার আইনজীবী। সে সঙ্গে এ তথ্য কখনো প্রকাশ করা যাবে না—চুক্তিপত্রে এই স্বীকারোক্তি আদায় করা হয় তার কাছ থেকে।

মাঝের সময়টাতে এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য না হলেও ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ আন্দোলনের পর আবারও নতুন করে অভিযোগ তোলেন ক্যাথরিন। এর পরিপ্রেক্ষিতে লাস ভেগাস পুলিশ এই মামলার পুনঃতদন্ত শুরু করেছে। এ ছাড়া জার্মান সংবাদমাধ্যম ডার স্পেইগেল এ নিয়ে ফলাও করে প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। এরপর এই ঘটনা আলোড়ন তোলে ফুটবল-বিশ্বে।

প্রিয় খেলা/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...