ঢাকা ডায়নামাইটসের উল্লাস। ছবি: প্রিয়.কম

মাশরাফি-সাকিব দ্বৈরথে শেষ হাসি ঢাকার

মাঠে উত্তাপের কমতি ছিল না। ব্যাটে-বলে তারকাদের লড়াইয়ে ফুটে উঠেছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্যই। তবে শেষ হাসি হেসেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০১
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০১


ঢাকা ডায়নামাইটসের উল্লাস। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্স। শিরোপার লড়াইয়ে সেদিন শেষ হাসি হেসেছিল রংপুরই। ষষ্ঠ আসরের পঞ্চম দিনে আবারও মাঠের লড়াইয়ে মুখোমুখি এই দুই দল। এবার অবশ্য শেষ হাসি হাসা হলো না মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্সের। বরং বিপিএলের নবম ম্যাচে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে দুই রানে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা। 

চলতি আসরে এর আগের খেলাগুলোর মধ্যে কেবল একটা ম্যাচকে ঘিরে সকলেরই ছিল অন্যরকম আগ্রহ-উন্মাদনা। সিলেট সিক্সার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ম্যাচ ছাপিয়ে সবার চোখ ছিল সেদিন স্টিভেন স্মিথ আর ডেভিড ওয়ার্নারের দিকে। অবশ্য সেদিন এই দুজনের কেউই জ্বলে উঠতে পারেনি। ফলে সেদিন লো-স্কোরিং ম্যাড়ম্যাড়ে একটা ম্যাচই দেখেছিল বিপিএলের দর্শকরা।

বিদেশি তারকাদের ওই দ্বৈরথের ম্যাচকে ছাপিয়ে গেছে আজকের ম্যাচ। দুটি দলই তারকায় ঠাঁসা। তবে দল দুটির অধিনায়ক যে দেশের দুই মহাতারকা। একজন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। আরেকজন বাংলাদেশ টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। দুজনই বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম কাণ্ডারি। তাই তো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের মোড়কে অন্যরকম আগ্রহ-উন্মাদনা ছড়িয়েছে বিপিএলের সাকিব-মাশরাফির দ্বৈরথ।

মাঠে উত্তাপের কমতি ছিল না। ব্যাটে-বলে তারকাদের লড়াইয়ে ফুটে উঠেছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্যই। তবে শেষ হাসি হেসেছে ঢাকা। আগে ব্যাট করতে নেমে কাইরন পোলার্ড ও অধিনায়ক সাকিবের ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে নয় উইকেট হারিয়ে ১৮৩ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় ঢাকা। জবাবে গেইলের ব্যাট কথা না বললেও রিলি রুশো-মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাটে রংপুর থামে ১৮১ রানে।

ঢাকা তুলে নেয় দুই রানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়। এই জয়ের মধ্য দিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থান আরও মজবুত করলো ঢাকা। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয় তুলে নেওয়া ঢাকা ডায়নামাইটসের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৬। অন্যদিকে দুই জয় ও সমান সংখ্যক হারে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের পয়েন্ট চার, অবস্থান দুইয়ে।

লক্ষ্যমাত্রা ১৮৪ রান। তবে যে দলে ক্রিস গেইল-অ্যালেক্স হেলস-রিলি রুশো-রবি বোপারাদের মতো তারকারা আছেন তাদের কাছে কোন লক্ষ্যমাত্রাই মাথা-ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়ানোর কথা নয়। অবশ্য শুরুতে বিপাকেই পড়েছিল রংপুর। চার ওভারের মধ্যে সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার গেইল ও মেহেদী মারুফ। শুরুতেই বিপাকে পড়া দলকে অবশ্য টেনে তোলেন রিলি রুশো ও মোহাম্মদ মিথুন।

চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং উপহার দিতে থাকেন দুজনই। তবে মিথুনের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন রুশো। মাত্র ২৯ বলেই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। হাঁটছিলেন সেঞ্চুরির পথেও। তবে ৪৪ বলে চারটি চার ও আটটি ছক্কার মারে ৮৩ রান করে স্টাম্পিংয়ে সাজঘরে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ভাঙে তৃতীয় উইকেটে ১২১ রানের জুটি। রুশো ফিরে গেলেও আরেক প্রান্ত আগলে রাখেন মিথুন।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে খেলার মোড় ঘুরিয়ে নিজেদের দিকে টেনে নেন ঢাকার আল ইসলাম। ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের শেষ তিন বলে এই অফ স্পিনার একে একে সাজঘরে ফেরান মোহাম্মদ মিথুন (৪৯), মাশরাফি ও ফরহাদ রেজাকে। বিপিএলের অভিষেকেই করেন হ্যাটট্রিক। পরের ওভারের তৃতীয় বলে নারাইনের বলে সাজঘরে ফেরেন সোহাগ গাজীও। ওই ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকান বেনি হাওয়েল।

রিলি রুশো-মোহাম্মদ মিথুনের ব্যাটে জয়ের কক্ষপথেই ছিল রংপুর রাইডার্স। ছবি: প্রিয়.কম

ওভারের শেষ বলে অবশ্য হাওয়েলকে বোল্ড করেন সুনীল নারাইন। ফলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ৬ বলে ১৪ রানের। তবে আল ইসলামের করা শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে চার হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন শফিউল ইসলাম। পরের দুই বল থেকে অবশ্য এক রান নিতে পারেন শফিউল। শেষ বলে চার রান লাগতো। এক রানের বেশি হয়নি। ঢাকা পায় দুই রানের শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়।

ঢাকার হয়ে হ্যাটট্রিক ম্যাচ আল ইসলাম একাই নেন চার উইকেট। এ ছাড়া সুনীল নারাইন নেন দুই উইকেট।  

হোম অব ক্রিকেটে টস ভাগ্যটা পাশে ছিল না সাকিবের। তবে আগে টসে হেরেও খুশি ছিলেন সাকিব। কেননা এর আগে চলতি আসরে খেলা দুই ম্যাচেই আগে ব্যাট করে রানপাহাড় গড়ে ঢাকা। এই ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। যদিও আগের দুই ম্যাচে ঢাকাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেওয়া হযরতুল্লাহ জাজাই এদিন ব্যর্থ। রান পাননি আরেক ওপেনার সুনীল নারাইনও। তবে এদিন ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন কাইরন পোলার্ড।

চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে পোলার্ড ফিরেছিলেন ৩ রান করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও সাজঘরে ফিরেছিলেন ২৭ রানে। তৃতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দে এই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান। চার-ছক্কার ফুলঝুড়িতে মাত্র ২১ বলেই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে পাঁচ চার ও চার ছক্কায় ৬২ রান করে সাজঘরে ফেরেন পোলার্ড। ভাঙে চতুর্থ উইকেটে ৭৮ রানের এই বিধ্বংসী এই জুটি।

পোলার্ডকে যোগ্য সঙ্গই দিচ্ছিলেন সাকিব। যদিও পোলার্ড ফিরে যাওয়ার পর বিদায় নেন সাকিবও। আউট হওয়ার আগে ঢাকা অধিনায়ক ৩৭ বলে চার চারে করেন ৩৬ রান। পোলার্ড-সাকিব ফিরে গেলে থামেনি ঢাকার ঝড়। চার-ছক্কার বৃষ্টিতে ঝড় তোলেন আরেক ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল। মাত্র ১২ বলে তিন ছক্কায় করেছিলেন ২৩ রান। তবে শফিউলের বলে ফেরেন এই উইন্ডিজ তারকা।

এবারের বিপিএল ভুগছে রান খরায়, যদিও ব্যতিক্রম ঢাকা। প্রতি ম্যাচেই রান পাহাড় গড়ছে দলটি। আগের দুই ম্যাচে ঢাকার সংগ্রহ ছিল ১৮৯ ও ১৯২। এই ম্যাচে সেগুলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগই ছিল দলটির সামনে। কিন্তু শেষ দিকে শুভাগত হোম (৩), নুরুল হাসান সোহানরা (৪) ঠিকমতো ব্যাটে-বলে না করতে পারায় ঢাকার স্কোর থামে ১৮৩ রানেই। সোহাগ গাজী ও বেনি হাওয়েল নেন দুটি করে উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ও শফিউল নেন একটি করে উইকেট।

প্রিয় খেলা/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...