আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (বামে) সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন (ডানে)। ছবি: প্রিয়.কম

সংসদে আইন পাসে দরকার অভিজ্ঞতা নাকি আইনজ্ঞ হওয়া

আইন পাসে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হওয়া জরুরি নাকি আইনজ্ঞ হওয়া বেশি প্রয়োজন?

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৩ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৭
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৩ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৭


আইনমন্ত্রী আনিসুল হক (বামে) সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন (ডানে)। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া ৩০০ সংসদ সদস্যের মধ্যে আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন ২৭ জন। গত ৩ জানুয়ারি নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। এরপর ৭ জানুয়ারি শপথ গ্রহণ করেছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। বাকি রয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপিদের মনোনয়ন ও তাদের শপথ। 

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩৫০ জন এমপি জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নেবেন। তারাই আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনায় সংসদে বিভিন্ন আইন পাসে মূখ্য ভূমিকা পালন করবেন। আইন পাসে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ হওয়া জরুরি নাকি আইনজ্ঞ হওয়া বেশি প্রয়োজন?

এ বিষয়ে সাংসদ এবং আইন বিশেষজ্ঞরা নানা বিশ্লেষণধর্মী মতামত দিয়েছেন। কেউ বলছেন অভিজ্ঞতা বেশি প্রয়োজন, কারও মতে আইনজ্ঞ হওয়া জরুরি।

সরকারে টানা দ্বিতীয় মেয়াদের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রিয়.কমকে বলেন, ‘চলতি সংসদে বেশির ভাগ সংসদ সদস্য দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। অনেকেই আছেন তৃতীয়বারের মতো। আরও কিছু আছেন চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যদি ধরেন, আমার মনে হয় উনি সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের যে অভিজ্ঞতা নতুন আইন প্রণয়নে আইনজীবী হইতেই হবে, এই কথাটা আমার মনে হয় না ঠিক। ব্যাপারটা হচ্ছে যে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অভিজ্ঞতা এই সংসদে আমার মনে হয় কম নাই।’

সংসদে তুলনামুলকভাবে আইনজ্ঞ অনেক কম, এ জন্য আইন পাসে কোনো সমস্যা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সাড়ে ১২ পার্সেন্ট মাত্র আইনজীবী। আর বাকিরা মোটামোটি ব্যবসায়ী। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৮০ পার্সেন্ট ল ইয়ার। এই জন্য আমাদের দেশের আইন তৈরি হয় না। আইনের প্রয়োগ হয় না। পার্লামেন্টে আইনজীবীদের সংখ্যা বাড়ানো দরকর।’

সিনিয়র সাংবাদিক কাজী আব্দুল হান্নান বলেন, ‘পার্লামেন্টে আইনজীবীর সংখ্যা বেশি দরকার নাই। আইন প্রয়োগকারীরাই যদি আইন প্রণেতা হয়ে থাকে তাহলে চলবে না। বরং এটা না হওয়াই ভালো। বিভিন্ন সেকশন অব পিপলের মানুষ তাদের প্রয়োজনে আইন তৈরি করবে। সেই আইন অনুযায়ী চলবে রাষ্ট্র এবং সেইটার জন্যই আইনজীবীরা তাদের নিজেদের ইচ্ছামতো আইন বানালে তাহলে আইনের শাসন হবে কীভাবে? 

তিনি বলেন, ‘সারা ‍দুনিয়ায় হলো বিভিন্ন পেশার লোকদের মধ্য থেকে এসেমব্লিতে আসবে। সংসদ সদস্যরা আইন প্রণয়নে সহায়তা করবে। আইনের ড্রাফটিং তো হয় আইন মন্ত্রণালয় থেকে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা থেকে সংসদে আসা দরকার। যেমন শিক্ষক, ব্যবসায়ী, প্রকৌশলী ইত্যাদি শ্রেণি-পেশার মানুষ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭ আইনজীবী নির্বাচিত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য পেশার।’

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আগামী ৩০ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল