উইকেট পাওয়ার পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আলিস আল ইসলামের উদযাপন। ছবি: প্রিয়.কম

নেট বোলার থেকে আলোর মিছিলে আল ইসলাম

ঢাকাকে জিতিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া আল ইসলামও হতে পারতেন আজকের ম্যাচের খলনায়ক।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৮ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৫
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৮ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৫


উইকেট পাওয়ার পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে আলিস আল ইসলামের উদযাপন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) একে তো শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি, তার উপর রংপুর রাইডার্স-ঢাকা ডায়নামাইটসের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসরের দুই ফাইনালিস্টের ম্যাচটি ঘিরে আগে থেকে যেন বাড়তি আগ্রহ ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের। শুধু তাই নয়, এই ম্যাচ দিয়েই কেটেছে বিপিএলের এবারের আসরে চলমান দর্শকখরা।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দর্শকের উপস্থিতি বলে দিচ্ছিল যেন প্রাণ ফিরেছে হোম অব ক্রিকেটে। দুই দলের ক্রিকেটাররাও হতাশ করেননি মাঠে ছুটে আসা দর্শকদের। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে দুই দল উপহার দিয়েছে জমজমাট লড়াই। এ লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস।

শেষ বলের রোমাঞ্চে মাশরাফি বিন মুর্তজার রংপুর রাইডার্সকে ২ রানে হারিয়েছে গেল আসরের রানার্সআপরা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয়ের দিনে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন আলিস আল ইসলামের। ইনিংসের ১৮তম ওভারে ২২ বছর বয়সী এই অফ স্পিনারের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকেই জয়ের পথ থেকে ছিটকে যায় রংপুর।

ওভারের শেষ তিন বলে তরুণ এই স্পিনার তুলে নেন মোহাম্মদ মিথুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ফরহাদ রেজার উইকেট। এই ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় জয়ের পথে থাকা রংপুর। এরপর শেষ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাকি কাজটুকুও সারেন এই ম্যাচ দিয়ে বিপিএলে অভিষেক হওয়া ইসলাম।

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে সাকিবের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া আল ইসলাম ছিলেন ঢাকা ডায়নামাইটসের নেট বোলার। নেট থেকে তাকে দলে নিয়ে আসেন ঢাকার কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। সেখান থেকে সুযোগ পেয়ে যান রংপুরের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিপিএলে সুযোগ পাওয়ায় সেই গল্পটাই শুনিয়েছেন আল ইসলাম, ‘আমি প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলতাম। এরপর এবার ঢাকার নেটে বোলিং করি। নেট বোলার হিসেবে বোলিং করছিলাম তখন সুজন স্যারের চোখে পড়ি। স্যার আমার বোলিং দেখে পছন্দ করেন। পরে আমার উপর ভরসা রেখে দলে নিয়ে আসেন।’

ঢাকাকে জিতিয়ে ম্যাচের নায়ক বনে যাওয়া আল ইসলামও হতে পারতেন আজকের ম্যাচের খলনায়ক। ইনিংসের অষ্টম ওভারে সুভাগত হোমের বলে জীবন পান মোহাম্মদ মিথুন ও রিলে রুশো। দুবারই ক্যাচ পড়েছে আল ইসলামের হাত থেকে। তবে ১৬তম ওভারে বোলিংয়ে এসে ৮৩ রান করা রুশোকে সাজঘর দেখিয়ে রংপুরের রান চাকায় লাগাম টানেন তিনি। পরের ওভারে পাল্টে দেন ম্যাচের গতিপথ।

নেটে দেখেই আল ইসলামের প্রতিভার সন্ধান পেয়েছিলেন সুজন। সেই প্রতিভা মুক্তো হয়ে ঝরে পড়েছে মিপুরের হোম অব ক্রিকেটে। আল ইসলামের ভাষ্য, ‘উনি (সুজন) বিশ্বাস করতেন, আমি পারবো। এরপর তিনি দলে সুযোগ দিয়েছেন। এখন সেটা হয়ে গেছে। ভালো করে ফেলেছি।’

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...