জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বেলুন উড়িয়ে পাখি মেলার উদ্বোধন করেন। ছবি: প্রিয়.কম

জাহাঙ্গীরনগরে পাখি মেলা অনুষ্ঠিত

পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১৮ তম ‘পাখিমেলা-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্য বছরের ন্যায় এবারও পাখি মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।

ইউসুফ জামিল
কন্ট্রিবিউটর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৯ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৯
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৯ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৯


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বেলুন উড়িয়ে পাখি মেলার উদ্বোধন করেন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ১৮ তম ‘পাখিমেলা-২০১৯’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্য বছরের মতো এবারও পাখি মেলার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। 

১১ জানুয়ারি, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গনে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বেলুন উড়িয়ে এ মেলার উদ্বোধন করেন। 

‘পাখিমেলা-২০১৯’র আহ্বায়ক এবং বাংলাদেশের অন্যতম বন্যপ্রাণি গবেষক জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুল হাসান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনের সামনের লেক, পরিবহন চত্বর সংলগ্ন লেক পাখির সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। দর্শনার্থীদের উৎপাত বৃদ্ধির কারণে এই দুই লেকে পাখির সংখ্যা কমে গেছে। তবে অতিথি পাখিগুলো ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারের লেকে আশ্রয় নিয়েছে।’

উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি পাখি থাকলে গাছ থাকবে, গাছ থাকলেই ফুল থাকবে, ফল থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ধরে রাখছে একটি সুন্দর পরিবেশ, প্রয়োজনীয় পরিবেশ এবং নিজেদের জন্য ও বিশ্বের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ। আমরা সেটি এই মেলার মাধ্যমে পাব। আমরা লক্ষ্য করছি যে মেলার একটি আয়োজন রয়েছে ছবি তোলার প্রতিযোগিতা, ভালো লেখার প্রতিযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক জার্নাল লেখার প্রতিযোগিতা। এগুলোই হচ্ছে সাধারণ মানুষ এবং বিজ্ঞানীদের বা বিশ্ব সাহিত্য কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তাদের সঙ্গে একটি যোগসূত্র তৈরি করা। আমরা সবাই মিলেই এই কাজটি করছি। এটা সচেতনতা বৃদ্ধির আন্দোলন।’

ওই সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, পাখি মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান প্রমুখ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমান।

এদিকে পাখি মেলার উদ্বোধনের আগে বিগ বার্ড বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড, কনজার্ভেশন মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ও সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ প্র্রদান করা হয়। নতুন ও দুর্লভ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়ায় এবার বিগ বার্ড বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন যথাক্রমে শফিকুর রহমান শুভ্র, মো. কায়েস ও তৌকির হাসান হৃদয়। কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাহুল এম ইউসুফ, আদিব মুমিন আরিফ ও আব্দুল্লাহ আল ওয়াহিদ। এ ছাড়া সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মুনতাছির আকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বিজয়ীদের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন।

পাখি মেলার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলারস দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে পাখি চেনা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

প্রিয় সংবাদ/নোমান/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...