কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন এনামুল হক বিজয়। ছবি: প্রিয়.কম

স্মিথকে ছাড়াও দুর্দান্ত কুমিল্লা

স্মিথের অনুপস্থিতি কুমিল্লার পারফরম্যান্সে কোনোরকম প্রভাব ফেলতে পারেনি।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩২ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪০
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩২ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪০


কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন এনামুল হক বিজয়। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) হঠাৎ করেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স শিবিরে ধাক্কা। কনুইয়ের ইনজুরি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে গেছেন দলটির অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে মাঠে নামে তামিম-ইমরুলরা। তবে স্মিথের অনুপস্থিতি কুমিল্লার পারফরম্যান্সে কোনোরকম প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে রাজশাহীকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে তারা।

স্মিথের পরিবর্তে দলের নেতৃত্ব পেয়েছেন ইমরুল কায়েস। এরপর জয় পেয়েছেন টস ভাগ্যে। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান রাজশাহীকে। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত সঠিক প্রমাণ করেছেন কুমিল্লার বোলাররা। শহীদ আফ্রিদি-আবু হায়দার রনি- মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও লিয়াম ডসনের দাপুটে বোলিংয়ে সাত বল বাকি থাকতেই গুটিয়ে যায় রাজশাহীর ইনিংস।

গুটিয়ে যাওয়ার আগে স্কোরকার্ডে ১২৪ রান যোগ করতে সক্ষম হয় মেহেদী হাসান মিরাজে দল। জবাবে এনামুল হক বিজয়ের ৪০, এভিন লুইসের ২৮ ও তামিম ইকবালের ২১ রানে ভর করে ৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।

১২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এনামুল হক বিজয় ও এভিন লুইসের ব্যাটে দুর্দান্ত সূচনা পায় কুমিল্লা। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ৬৫ রান। অষ্টম ওভারে লুইসকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন কায়েস আহমেদ। লুইস ২৮ রানে ফিরলেও বড় ইনিংসের দিকে এগোচ্ছিলেন বিজয়।

অপরপ্রান্তে তামিম ইকবাল কিছুটা রয়ে-সয়ে খেললেও হাত খুলে খেলছিলেন ডানহাতি এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪০ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে ৪টি চার ১টি ছক্কায় ৪০ রান আসে বিজয়ের ব্যাট থেকে। আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন তামিম। ব্যক্তিগত ২১ রানে তাকে লরি ইভান্সের ক্যাচে পরিণত করেন মিরাজ।

এরপর ইমরুল কায়েস ও শোয়েব মালিক মিলে যেন রাজশাহীর বোলারদের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। কিন্তু সাফল্য আসেনি। উল্টো বেড়েছে জয়ের অপেক্ষা। পরাস্ত হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে শোয়েব-ইমরুল দুজনকেই। শোয়েব ৮ বলে ২ এবং ইমরুল ১২ বলে করেন ৬ রান।

তবে সেই পথে পা বাড়াননি লিয়াম ডসন-শহীদ আফ্রিদি। টি-টোয়েন্টি খেলেছেন টি-টোয়েন্টির মতোই। দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তারা। ডসন ৯ বলে ১২ ও আফ্রিদি ৫ বলে ৯ রানে অপরাজিত থাকেন। রাজশাহীর হয়ে একটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান ও কায়েস আহমেদ।

আগের ম্যাচে তিন নম্বরে ব্যাট করা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এদিন নামেন ওপেনিংয়ে। ব্যাটিং অর্ডার বদলেও বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দলকে এনে দিতে পারেননি লড়াইয়ের পুঁজি। তৃতীয় ওভারেই ভাঙে রাজশাহীর উদ্বোধনী জুটি। স্কোরকার্ডে ২০ রান যোগ হতেই মুমিনুল হককে সাজঘরে ফেরান সাইফউদ্দিন। আউট হওয়ার আগে মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩ রান। পরের বলেই বিদায় নেন সৌম্য সরকার।

এরপর মোহাম্মদ হাফিজকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু হাফিজকে ফিরিয়ে সে চেষ্টাও সফল হতে দেননি ডসন। হাফিজ ১৬ রানে ফিরলে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে তাদের ১৬ রানের জুটি। সঙ্গীর বিদায়ে খেই হারিয়ে বসেন মিরাজও। দুই বলের ব্যবধানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ৩০ রান করা মিরাজ।

পরের বলে লরি ইভান্সও পড়েন এলবিডব্লিউর ফাঁদে। ৫৩ রানেই নেই রাজশাহীর ৫ উইকেট। এরপর ইনিংস মেরামত করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন জাকির হাসান। কিন্তু অপরপ্রান্তে চলতে থাকে ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিল। সেই মিছিলে নাম লেখান ফজলে রাব্বি ও কায়েস আহমেদও।

রাজশাহীর সংগ্রহ তখন ৭ উইকেটে ৬৩ রান। তাতে দেখা দেয় একশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা! তবে দলকে এই লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন ইসুরু উদানা ও জাকির হোসেন। অষ্টম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৩০ রানের জুটি। জাকির ২৭ রানে ফিরলেও ৩০ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে দলকে ১২৪ রানে পুঁজি এনে দেন উদানা।

কুমিল্লার পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন আফ্রিদি। এ ছাড়া দুটি করে উইকেট নেন রনি, সাইফউদ্দিন ও ডসন।

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...