১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট করছেন মুশফিকুর রহিম। ছবি: প্রিয়.কম

সুপার ওভারের রোমাঞ্চে জয়ে ফিরল চিটাগং

ংরুদ্ধশ্বাস এই লড়াই আরও জমজমাট হয়ে ওঠে ম্যাচ টাই হওয়ায়। তাতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৫ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫১
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫৫ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫১


১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট করছেন মুশফিকুর রহিম। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এখন পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি খুলনা টাইটান্স। ওদিকে প্রথম ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেলেও নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের সঙ্গী হয় ৫ রানের হার। শনিবারের ম্যাচটি দুই দলের জন্য ছিল জয়ে ফেরার লড়াই। জয়ে ফেরার মিশনে দুই দলই লড়েছে সমানে সমান। 

রুদ্ধশ্বাস এই লড়াই আরও জমজমাট হয়ে ওঠে ম্যাচ টাই হওয়ায়। তাতে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় সুপার ওভারে। এই ম্যাচ দিয়েই প্রথমবারের মতো সুপার ওভারের সাক্ষী হলো বিপিএল। সুপার ওভারের রোমাঞ্চে এক রানের জয় পেয়েছে মুশফিকুর রহিমের চিটাগং।

সুপার ওভারে আগে ব্যাটিং করে ১১ রান তোলে চিটাগং। জবাবে সুপার ওভারের নায়ক রবি ফ্রাইলিঙ্কের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে এই লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা। সব চেষ্টা দিয়ে স্কোরকার্ডে ১০ রান জমা করে তারা।

শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করা খুলনা টাইটান্স দাইউদ মালান ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে ১৫১ রানের সংগ্রহ পায়। জবাবে ইয়াসির আলী ও মুশফিকুর রহিমের লড়াই এবং রবি ফ্রাইলিঙ্কের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সমান ১৫১ রান করে চিটাগং।

১৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় চিটাগং। স্কোরকার্ডে ১২ রান যোগ হতেই বিদায় নেন ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়ে ধাক্কা সামাল দেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট ও ইয়াসির আলী। ডেলপোর্টকে ১৭ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন খুলনার স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ইয়াসিরের জুটি জমে উঠতে দেননি শরিফুল ইসলাম। দারুণ খেলতে থাকা ইয়াসিরকে ফিরিয়ে ৩৫ রানের জুটি ভাঙেন এই তরুণ পেসার। ৩৪ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪১ রান করে কার্লোস ব্রাথওয়েটের তালুবন্দী হন মোহাম্মদ আশরাফুলের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। পরের ওভারে সিকান্দার রাজাকে ফেরান ব্রাথওয়েট।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়েছিলেন মুশফিক। পঞ্চম উইকেট জুটিতে দুজন যোগ করেন ৩২ রান। কিন্তু এই জুটিও ব্যর্থ হয় দলকে জেতাতে। ১২ বলে ১২ রান করে আউট হন মোসাদ্দেক। মাত্র ২ রানের ব্যবধানে ব্রাথওয়েটের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন অধিনায়ক মুশফিক। ২৬ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

তাতেও পথ হারায়নি চিটাগং। দলকে জয়ের পথে রাখেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক ও নাঈম হাসান। জয়ের জন্য শেষ ওভারে চিটাগংয়ের দরকার ছিল ১৯ রান। আরিফুল হকের করা এই ওভার থেকে ১৮ রান আদায় করেন ফ্রাইলিঙ্ক ও নাঈম। তাতে দুই দলের স্কোর সমান হয়ে যায়। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। 

খুলনার হয়ে দুটি করে উইকেট নেন ব্রাথওয়েট ও শরিফুল। এ ছাড়া জুনায়েদ খান, তাইজুল ইসলাম ও আরিফুল হক নেন একটি করে উইকেট।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা খুলনাকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন পল স্টার্লিং ও জুনায়েদ সিদ্দিকী। কিন্তু শুরুর সেই পারফরম্যান্স বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে ১০ বলে ১৮ রান করা স্টার্লিংকে ফেরান চিটাগংয়ের তরুণ স্পিনার নাঈম হাসান। ১০ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন জুনায়েদ সিদ্দিকীও। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।

দাইউদ মালান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে শুরুর এই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে খুলনা। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৭৭ রানের জুটি। মালানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আবু জায়েদ রাহি। ইনিংসের ১৭তম ওভারে সিকান্দার রাজার ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৪৩ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ৪৫ রান করেন মালান। 

ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগেই কার্লোস ব্রাথওয়েটকে ফেরান সানজামুল ইসলাম। ৫ বলে ১২ রান করে নাঈমের তালুবন্দী হন এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার। পরের বলেই বিদায় নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ৩১ বলে ৪টি চারে ৩৩ রান করে রাজার ক্যাচে পরিণত হন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। বাকি ব্যাটসম্যানরা খুলনার সংগ্রহ খুব বেশি বড় করতে পারেননি।

চিটাগংয়ের পক্ষে সর্বোচ্চ দুই উইকেট নেন সানজামুল। রবি ফ্রাইলিঙ্ক, নাঈম হাসান, খালেদ আহমেদ, ও আবু জায়েদ রাহি নেন একটি করে উইকেট।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...