একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে সংলাপে যান। ফাইল ছবি

আবারও সংলাপ হচ্ছে?

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপের বিষয়টি প্রথমে ‘হাস্যকর’ বললেও পরে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৮ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৯
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৮ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৯


একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গণভবনে সংলাপে যান। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ একাধিকবার সংলাপে বসেছে। এরপর নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন থেকেই সরকারবিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এনে নির্বাচন প্রত্যাহার করেছেন। তারা আবারও নির্দলীয় সরকারের অধীনে আরেকটি নির্বাচনের দাবি করেছেন। সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপের বিষয়টি প্রথমে ‘হাস্যকর’ বললেও পরে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৩ জানুয়ারি, রবিবার সাড়ে ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যৌথসভা শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যে ৭৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছিল, শিগগিরই তাদের নিয়ে আবারো গণভবনে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

তবে কবে নাগাদ এ সংলাপ হতে পারে সে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন ‘সংলাপে আসলে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারি। বিএনপির প্রতি আমাদের অনুরোধটা রিনিউ করতে পারি। বলতে পারি, সংসদে আসুন। সম্পর্কটা রিনিউ করতে পারি।’

এর এক দিন আগেই ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোট নিয়ে কোনো প্রশ্ন কিংবা বিতর্ক নেই, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সরকার গঠনের আগেই শেখ হাসিনাকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে, সেখানে নির্বাচন নিয়ে সংলাপের দাবি হাস্যকর।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন বিষয়ক এজেন্ডা থাকলেই কেবল প্রধানমন্ত্রীর সংলাপে অংশ নেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ১৪ জানুয়ারি, সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী আবার সংলাপের ডাক দিয়েছেন। তবে সংলাপের এজেন্ডা কী হবে সেটা জানানো হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, এজেন্ডায় যদি বিগত নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচনের বিষয় থাকে তাহলে আমরা সংলাপ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করব। কারণ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যে সংলাপ হয়েছিল তা অর্থবহ হয়নি।

৮ জানুয়ারি সংলাপের আহ্বান জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। ওই দিন সরকারবিরোধী এই জোটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনটি কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এগুলো হলো জাতীয় সংলাপ, নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করা ও নির্বাচনে সহিংসতা হওয়া এলাকায় গণসংযোগ।

কামাল হোসেনের দাওয়াতে এবং তার নেতৃত্বে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দলকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘সর্বদলীয় জাতীয় সংলাপ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ জোটের কয়েকজন নেতা জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভুক্তভোগী প্রায় সব দলই। পরবর্তী সময় কী করা উচিত বা কী ধরনের কর্মসূচিতে যাবে, সেসব বিষয়ে এ সংলাপ হবে।

সংলাপ ইস্যুতে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, পুনঃনির্বাচনের জন্য সংলাপের প্রস্তাব ঐক্যফ্রন্টের নতুন ভাঁওতাবাজি। নির্বাচনে হেরে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য এবং জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য ঐক্যফ্রন্ট এ নতুন ভাঁওতাবাজি শুরু করেছে। কিন্তু দেশের জনগণ এত বোকা নয়। অতীতের মতো আপনাদের এই ভাঁওতাবাজিও জনগণ ধরে ফেলেছে। ১২ জানুয়ারি সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসতে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে সংলাপে যোগ দেওয়ার আগে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, তা জানতে চান কামাল হোসেন।

বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এ সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা এ ব্যাপারে কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেব।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সংলাপের আমন্ত্রণ এলে সাড়া দেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমি একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করব। কিন্তু সেটা জানতে হবে কী প্রেক্ষাপটে এটার (সংলাপ) আয়োজন করা হচ্ছে, কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।’

বার্তা সংস্থা ইউএনবির কাছেও একই কথা বলেছেন ড. কামাল হোসেন। সংলাপের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কার্যকর পথে আরেকটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই। এখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করি এবং নিশ্চতভাবেই এটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত।’

উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসনে জয়ী হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির রয়েছে ২২টি আসন। অন্যদিকে বিএনপি পেয়েছে ৬টি আসন।

নির্বাচনের শুরু থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির নেতারা এ নির্বাচনকে ‘ভোট চুরির নির্বাচন’ বলে অভিযোগ করে আসছেন। এমনকি নির্বাচনে জয়লাভ করার পর ঐক্যফ্রন্টের জয়ী সংসদ সদস্যরা শপথগ্রহণ করেননি।

প্রিয় সংবাদ/রিমন