ফাইল ছবি

চমক থাকছে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনেও

একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৩টিই পাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৯ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১২
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৯ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:১২


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকে আলোচনা জমে উঠেছে সংরক্ষিত মহিলা আসন নিয়ে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আসতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পদের প্রত্যাশীরা দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন। রাজনৈতিক আমলনামা হাতে নিয়ে ‘ঢুঁ’ মারছেন কখনো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, কখনো ধানমন্ডির দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় আবার কখনো বা কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসাবাড়িতে; বাদ যাচ্ছে না নেতাদের রাজনৈতিক চেম্বারও।

এদিকে একাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ১৫ জানুয়ারি, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি অফিসে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মনোনয়ন ফরম বিক্রির উদ্বোধন করেন। প্রথম ফরমটি দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক নার্গিস রহমানকে।

সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আটটি বিভাগে মনোনয়ন ফরম দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নতুন ও পুরনো ভবনে চারটি করে বিভাগ করে এই ফরম দেওয়া হচ্ছে। এই অফিসেই মনোনয়ন ফরম জমা দিতে হবে। আজ সারা দিন এই কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি ফরমের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। জমা দেওয়া যাবে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত। আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ এমপি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৪৩টিই পাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পাবে ৪টি। সংরক্ষিত নারী আসনের আইন অনুযায়ী তারা এ সংখ্যক আসন পাবে।

আইনে বলা আছে, সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে যে দলের যতটি আসন, তার আনুপাতিক হারে ৫০ আসন দলগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৫৭ আসন পেয়েছে। এ হিসাবে তারা পাবে ৪৩ আসন। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ২২ আসন। এর বিপরীতে তারা পাবে ৪ নারী আসন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পেয়েছে ৮ আসন। এই অনুপাতে তারা পাবে ১ আসন। বাকি ২ আসন পাবে অন্য দলগুলো।

আইন অনুযায়ী, যে দলের অনুকূলে যতটি আসন নির্ধারিত হবে, দলগুলো সেই আসনপ্রতি এক বা একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে। একজন করে প্রার্থী দেওয়া হলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে না।

এদিকে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মনোনীত করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সে লক্ষ্যে এখন থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করেই ৪৩টি আসনে মনোনীত করা হবে। আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করবে বলে জানান নেতারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ও জেলা পর্যায়ে দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত জনপ্রিয় নারীদের অনুসন্ধান করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলটির বিভিন্ন নেতা ও সংস্থার মাধ্যমে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে। পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় আহত, এক-এগারো-পরবর্তী সময়ে ভূমিকা, বিভিন্ন সময়ে দলের জন্য ত্যাগ, বিভিন্ন সেক্টরে অবদান আছে ও অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে। এসব গুণাবলির পাশাপাশি জাতীয় সংসদে কথা বলতে পারবেন এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

দলটির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিসভার মতোই চমক থাকতে পারে এবারের সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে। নবম বা দশম সংসদে থাকা সংরক্ষিত নারী আসনের অধিকাংশ সদস্যই থাকছেন না। আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলর, পেশাজীবীসহ অনেকেই। অধিকাংশ আসনে দেখা যেতে পারে একেবারেই নতুন মুখ। সরাসরি আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাননি—এমনদের মাঝে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলীর স্ত্রী সায়েরা মহসীন, সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সাবেক সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন ভবনে ১৪ জানুয়ারি বিকেলে অনুষ্ঠিত কমিশনের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ

সচিব বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার আগে ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাইবে, তারা একক, নাকি জোটগতভাবে নির্বাচন করবে। দলগুলোকে এ বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত ৩০ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। এরপর ইসি ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে। ১৭ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিলে মনোনয়নপত্র দাখিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় জানানো হবে।’

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

শর্মি ভৌমিকের ‘পরকীয়া’

প্রিয় ১১ ঘণ্টা, ৫৬ মিনিট আগে

loading ...