হবিগঞ্জে দুটি ভাঙারির দোকান থেকে চার হাজার নতুন পাঠ্যবই উদ্ধার করে পুলিশ। দোকানিরা এসব বই কেজি দরে কিনেছিল। ছবি: সংগৃহীত

বিনামূল্যের নতুন বই কেজি দরে বিক্রি

হবিগঞ্জে কেজি দরে বিক্রি করা ৪ হাজার বই উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৬ দিন আগে বাগেরহাটে ভাঙারি দোকান থেকে ৫ বস্তা বই উদ্ধার করা হয়েছে।

জনি রায়হান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৮ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৯
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৮ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৯


হবিগঞ্জে দুটি ভাঙারির দোকান থেকে চার হাজার নতুন পাঠ্যবই উদ্ধার করে পুলিশ। দোকানিরা এসব বই কেজি দরে কিনেছিল। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নতুন ক্লাসের নতুন বই সরকারিভাবে দেওয়া হবে। বছরের প্রথম দিনই দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বই উৎসব। এটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই পাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও থাকে উৎফুল্ল। কিন্তু অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কিছু শিক্ষক বই শিক্ষার্থীদের না দিয়ে বিক্রি করছেন। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বই বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়ে কিংবা বিক্রিত বই জব্দ করা হয়।

গতকাল ১৪ জানুয়ারি, সোমবার হবিগঞ্জের একটি দোকান থেকে ৪ হাজার সরকারি নতুন বই বিক্রির সময় উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই দোকানের দুই কর্মচারীকেও আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত হলেন-লাখাই উপজেলা পশ্চিম বুল্লা গ্রামের আমির আলীর ছেলে রাসেল মিয়া (২২) ও একই এলাকার নূর মিয়ার ছেলে হাসিম (১৭)।

হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ৫ম থেকে ১০ম শ্রেণির সবধরনের সরকারি নতুন বই খোলাবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে দোকানে নিয়ে এসেছে বলে খবর পায় পুলিশ। পরে সফর উদ্দিন মনা মিয়া নামে একজনের ভাঙারি দোকানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চার হাজারেরও বেশি নতুন বই পাওয়া যায়। দোকান মালিক পালিয়ে গেলেও দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়।

পুলিশ স্থনীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদে তারা জানতে পেরেছেন, আটককৃত দুই ব্যক্তিই ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী। তারা বইগুলো কেজি হিসেবে ক্রয় করে দোকানে রেখেছিলেন। আবার এই বইগুলো কেজি দরেই বিক্রি করবে বলে সংরক্ষণ করেছিল। উদ্ধার হওয়া বইগুলোর মধ্যে অষ্টম, পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির বইয়ের সংখ্যাই বেশি।

উদ্ধার হওয়া বইগুলো ভাঙারির দোকানে আসলে কোন স্কুল বা কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে, আটককৃত ব্যক্তিরা সেই বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছুই জানাননি। হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া হাসান বলেন, ‘কোথা থেকে বইগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি। সেটা জানার চেষ্টা চলছে।’

কেজি দরে বই বিক্রি করতে গিয়ে আটক মাদরাসার সুপার

৯ জানুয়ারি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা সদরে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই কেজি দরে ভাঙারি দোকানে বিক্রি করতে গিয়ে আটক হয়েছেন এক মাদরাসার সুপার।

উপজেলার কাঠালতলা গিয়াসিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুল হালিম বিভিন্ন শ্রেণির ৫ বস্তা নতুন বই কলেজ রোডের ভাঙারি বিক্রেতা খাঞ্জা মিয়ার দোকানে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান পুলিশ নিয়ে অভিযান চালিয়ে ৫ বস্তা বই উদ্ধার করেন। বিক্রেতা আব্দুল হালিম ও বই ক্রেতা খাঞ্জা মিয়াকেও আটক করা হয়।

এই বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আটককৃতদের বুধবার সন্ধ্যার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বেআইনিভাবে সরকারি বই বিক্রির ঘটনায় ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে আমি তদন্ত শুরু করেছি। ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বই বিক্রির ঘটনা ঘটেছে আগেও

ময়মনসিংহের নান্দাইলের সিংরইল উচ্চ বিদ্যালয়ে রক্ষিত ১৮ মণ সরকারি নতুন বই কেজি দরে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মর্তুজ আলী প্রকাশ্যে এসব বই বিক্রি করেন বলে অভিযোগ উঠে।

এলাকার স্থানীয় কাগজ ক্রেতা মো. বজলুর রহমান বই কেনার কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কেজি হিসাবে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় ওই স্কুল থেকে ১৮ মণ বই কিনেছেন।

বাগেরহাট জেলা শহরের আল-ইসলাহ একাডেমি স্কুল থেকে হালনাগাদ নতুন বই কেজি দরে বিক্রি করার ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল।

২০১৭ সালে ঝালকাঠির রাজাপুরের উত্তর কাঠিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস্কেন্দার আলী ফরাজির বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় ৩শ বই বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে। 

প্রধান শিক্ষকের বিক্রি করে দেওয়া বইগুলো ক্রেতা স্কুল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বইগুলো উদ্ধার করে এবং ইউএনওকে অবহিত করে। এরপর ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল স্থানীয় পুলিশ ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠালে বই উদ্ধার করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...