ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি

নিয়ন্ত্রণকারী না, আমরা সহায়তাকারী: মোস্তাফা জব্বার

বর্তমান সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে আইসিটি রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৯ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৪৪
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৯ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৪৪


ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে ডিজিটালাইজ করতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার

১৬ জানুয়ারি, বুধবার রাজধানীর আইসিটি টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে দেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য ফাস্ট ট্রাক সার্ভিস চালুর বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের অধীন বিসিসির লিভারেজিং আইসিটি ফর গ্রোথ, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড গভর্নেন্স (এলআইসিটি) প্রকল্পের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সমঝোতা স্মারক সই হয়।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘আমরা (আইসিটি বিভাগ) নিয়ন্ত্রণকারী না, আমরা সহায়তাকারী। আমরা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সহায়তা করব। আমরা প্রয়োজন হলে যা যা করে দেওয়া দরকার করে দেবো। তবে যাদের জন্য করে দেওয়া হচ্ছে তাদেরকেই দায় দায়িত্ব বহন করতে হবে। তাদেরকেই পরিচালনা করতে হবে।’

আইসিটি বিভাগের সঙ্গে বিডার চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভালো ধারণা তৈরির লক্ষ্যে বিডার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি খাত যুক্ত হচ্ছে। আমরা আজ যে উদ্যোগটি নিয়েছি এতে যেসব বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবেন, তারা দেশে পা ফেলেই যাতে স্বাগত বাণী শুনতে পান, একটি শুভেচ্ছা শুনতে পান, তারা একটি ভালো পরিবেশে প্রবেশ করছেন এটি যেন অনুভব করতে পারেন।’

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০২৩ সালের মধ্যে আইসিটি রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। এর আগে নির্ধারিত ২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী।’

ফাস্ট ট্রাক সল্যুশনে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ফাস্ট ট্রাক সল্যুশনে প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। প্রায় প্রতিটি সমস্যার সমাধান প্রযুক্তি দিয়ে করা সম্ভব। এয়ারপোর্টে লাগেজ ট্রাকিং সিস্টেম ডেভেলপসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে হ্যাকথন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। এতে বিডাকে সহযোগিতা করবে আইসিটি বিভাগ।

পলক বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য আমাদেরকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নির্ধারণ করে এখনই কাজ শুরু করতে হবে।’

স্বল্প মেয়াদী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত পাঁচটি অন্তরায় চিহ্নিত করে তা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

৪ মাসের রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি থাকবে দেশে তৈরি স্যামসাং ফোনে

দেশে মোবাইল তৈরির অ্যাসেম্বলিং কারখানা স্থাপন করছে স্যামসাং। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন মোস্তাফা জব্বার।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি স্যামসাংয়ের স্টকে গিয়েছি এবং দেখেছি যে, বাংলাদেশে তৈরি করা স্মার্টফোনের গায়ে লিখে রাখছে ১২০ দিন রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি। তবে দেশের বাইরের যেসব স্মার্টফোন রয়েছে সেসব স্মার্টফোন এটি লেখা নেই।’

মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্যামসাং কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করলে তারা জানান, এখানে (দেশে) যেসব মোবাইল তৈরি করা হয় সেসবের সঙ্গে অন্য দেশে তৈরি মোবাইলের অনেক পার্থক্য। এ ছাড়া বাংলাদেশে তৈরি মোবাইল অনেক মানসম্মত।

এই চুক্তির আওতায় যে সুবিধা পাবেন বিনিয়োগকারীরা

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, বিডা ও এলআইসিটি প্রকল্প দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদরে ঝামেলাবিহীন দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার জন্য ফাস্ট ট্রাক সার্ভিস চালু করবে। সমঝোতা স্মারকে উল্লেখ করা হয়, বিডা আইসিটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন অ্যারাইভাল ভিসা, নিবন্ধন ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ডকুমেন্টস সংগ্রহের ব্যাপারে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের মধ্য থেকে আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিডা এলআইসিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে।

স্মারকে আরও বলা হয়, এলআইসিটি প্রকল্প বাংলাদেশকে বিদেশে ব্রান্ডিং করা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইভেন্টে বিডার সুবিধাগুলো তুলে ধরে ব্রান্ডিং ও বিপণনের ডকুমেন্টস তৈরি করবে। এ ছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনাময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় এবং নীতিমলার চ্যালেঞ্জ বিশ্লেষণ করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপারে বিডাকে পরামর্শ সহায়তা দেবে এলআইসিটি।

প্রিয় প্রযুক্তি/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

এক নজরে রেডমি ৭

প্রিয় ২ দিন, ৩ ঘণ্টা আগে

loading ...