তাহসান খান। ছবি: শামছুল হক রিপন

‘প্রতিভাবান মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে, প্রতিভার কদর কমে যাচ্ছে’

সংগীতাঙ্গনের প্রতিভাবান মানুষরা ‘সঠিক মূল্যায়ন’ পাচ্ছেন না বলে মনে করেন সংগীতশিল্পী-অভিনেতা তাহসান খান।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৮ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৮
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৮ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:০৮


তাহসান খান। ছবি: শামছুল হক রিপন

(প্রিয়.কম) সংগীতাঙ্গনের প্রতিভাবান মানুষরা ‘সঠিক মূল্যায়ন’ পাচ্ছেন না। আর মূল্যায়নের অভাবে এক সময় তারা হারিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে প্রতিভার কদর দিন দিন কমে যাচ্ছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে মূল্যায়নের নতুন মাপকাঠি, যেখানে ভাইরাল হওয়ায়ই তথাকথিত কদর পাওয়ার একমাত্র মানদণ্ড। বর্তমান সময়ের সংগীতাঙ্গনের সার্বিক দিক নিয়ে এমনটাই মনে করেন সংগীতশিল্পী-অভিনেতা তাহসান খান

১৫ জানুয়ারি বিকেলে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরে একটি ওয়েব ফিল্মের শুটিংয়ের বিরতিতে প্রিয়.কমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

তাহসান খান বলেন, ‘এখন অ্যাডভারটাইজাররা তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেই তাকেই খুঁজে, যার ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ফলোয়ার বেশি। যাদের ফলোয়ার বেশি তাদের হায়ার করার টেনডেনসিও বেশি। এটাকে এখন অনেকে ভালোভাবে দেখে, অনেক খারাপ ভাবে দেখে। পাঁচ বছর আগে কিন্তু এভাবে চিন্তা করা হতো না। এখন মানুষ টিভির চেয়ে ফেসবুকে বেশি সময় কাটায়। এটাই বড় একটা কারণ।’

বর্তমান সংগীতাঙ্গনের দুরাবস্থার উদাহরণ টানতে গিয়ে তাহসান অতীতের কথা স্মরণ করে জানান, আজ থেকে পনের বছর আগে কে কী কাজ করছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মেধা শ্রম দিয়ে গান, নাচ শিখেছে। প্রতিভার কারণে মানুষ শিল্পীকে ভালোবাসত এবং চ্যানেলও প্রতিভার পেছনে ছুটত। এই যুগে প্রতিভাবান মানুষ যে রকম ফেমাস হয় তেমনি প্রতিভা ছাড়া মানুষও অনেকভাবে ফেমাস হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এখন প্রতিভা আছে কী নেই সেটা বিষয় না। একজনকে নিয়ে হাস্যরস করা হলো, ভাইরাল হয়ে গেল। ফেমাস হয়ে গেল। তাকেই নিয়েই করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও মাতামাতি শুরু করে দিল।’

তাহসান মনে করেন এ সময়ের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো—প্রতিভাবান মানুষ হারিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিভার কদরও দিন দিন কমে যাচ্ছে। কেউ গান কাভার করে হিট হচ্ছে। কিন্তু অরিজিনাল গান লিখে, সুর করে কেউ হিট হচ্ছে না।

তাহসান খানিকটা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আসলেই যার প্রতিভা আছে, লিখতে পারে, সুর করতে পারে সেই মানুষগুলোকে কেউ প্রমোট করছে না। আমার মনে হয় এই জায়গাটাতেই আমরা হেরে যাচ্ছি।’

বর্তমানে গান লেখার চর্চা, সুর করার চর্চার জায়গাটা হারিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য তাহসানের। এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘গত ২০-৩০ বছরে অনেক শিল্পী ও গীতিকবি এসেছে বাংলাদেশে, আসছেনও। কিন্তু আমি দেখছি ফেসবুকে অনেক ভালো লিখে, সুর করে, গান করে কিন্তু তাদের গান ভাইরাল হচ্ছে না বলে তাদের কেউ প্রমোট করছে না।’

‘আবার দেখা যাচ্ছে, তাদের মতো না। কিন্তু তাদের নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়ে গেছে। এটার ভালো দিকও আছে, খারাপ দিকও আছে। আমরা প্রতিভার মানদণ্ড ঠিক করেছি ভাইরাল হওয়া!’

ভালো কিছু ভাইরাল হচ্ছে না বলে মনে করেন তাহসান। তিনি বলেন, ‘কঠিন হচ্ছে তাদের জন্য যারা প্রতিভার চর্চা করে। প্রতিদিন গিটার বাজায় চার-পাঁচ ঘণ্টা করে। আপনি গত দশ বছরে একজনের নাম বলেন, যে আইয়ুব বাচ্চুর জায়গাটা নিবে। ওটা হয়নি, হবেও না।’

‘কারণ আমরা কেউ ভালো গিটার বাজালে সেটাকে ভাইরাল করি না। বাচ্চু ভাইকে আমরা আর অনেক মিস করব, কারণ আরেকটা বাচ্চু ভাই বাংলাদেশে হবে না যদি না আমরা চেঞ্জ হই’।

তাহসানের মতে ভাইরাল তাদের করতে হবে, যারা আইয়ুব বাচ্চুর মতো বাজায় কিংবা তার চেয়েও ভালো বাজায়। এ ছাড়া আর কোনো উপায় নাই। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে, আপনি সেটাকেই ভাইরাল করেন, যেটার পেছনে প্রতিভা ও শ্রম আছে। যা থেকে মানুষ কিছু শিখবে।

গান ছাড়াও তাহসানের বর্তমানের ব্যস্ততা নির্মাতা শিহাব শাহীনের ওয়েব চলচ্চিত্র ‘দ্বিতীয় কৈশোর’ নিয়ে। এটি প্রযোজনা করেছে গুড কোম্পানি। ৬০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ওয়েব চলচ্চিত্রটি দেখা যাবে বায়োস্কোপে। ২৩ জানুয়ারি সবার জন্য উন্মুক্ত হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে।

বিনোদন/গোরা

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...