ক্রিস গেইলকে ফেরানোর পর সিলেট সিক্সার্সের ক্রিকেটারদের উদযাপন। ছবি: প্রিয়.কম

ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচেই দুর্বার সিলেট

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে মোটেও সময় নেয়নি ডেভিড ওয়ার্নারের দল।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৭ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৭ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫


ক্রিস গেইলকে ফেরানোর পর সিলেট সিক্সার্সের ক্রিকেটারদের উদযাপন। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) আগের ম্যাচেই রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে। তবে ঘুরে দাঁড়াতে মোটেও সময় নেয়নি সিলেট সিক্সার্স। ঘরের মাঠে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের দল। তাতে কপাল পুড়েছে রংপুর রাইডার্সের। দাপুটে প্রত্যাবর্তনের দিনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ২৭ রানে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে সিলেট।

বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লিটন দাস ও ডেভিড ওয়ার্নারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৮৭ রানের বড় সংগ্রহ পায় সিলেট সিক্সার্স। জবাবে সিলেটের বোলাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং রংপুরের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ১৬০ রানেই থামে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় রংপুর। স্কোরকার্ডে মাত্র ১১ রান যোগ করতেই টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। একে একে সাজঘরে ফেরেন মেহেদী মারুফ, অ্যালেক্স হেলস ও ক্রিস গেইল। শুরুর ধাক্কা সামাল দেন মোহাম্মদ মিথুন ও রিলে রুশো।

চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৮৯ রানের জুটি। এই জুটিতেই দলীয় সংগ্রহ ১০০ পেরোয় রংপুর। জুটি গড়ার পথে ২৭ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন রুশো। হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে অবশ্য বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। ইনিংসের ১২তম ওভারে তাকে সাজঘর দেখান তাসকিন আহমেদ। আউট হওয়ার আগে ৩২ বলে তিনটি চার ও চারটি ছক্কায় ৫৮ রান করেন রুশো।

নিজের পরের ওভারে মিথুনকেও ফেরান তাসকিন। ১৭ রানের ব্যবধানে সাব্বির রহমানের ক্যাচে পরিণত হন ২৯ বলে ৫টি চারে ৩৫ রান করা মিথুন। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি রংপুর। ১১ বলে ১৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন বেনি হাওয়েল। এ ছাড়া ছয় নম্বরে নেমে ২৭ বলে ৪টি চারে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে পরাজয়ের ব্যবধান কমান অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

সিলেটের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান রানা। এ ছাড়া সোহেল তানভীর ও সন্দ্বীপ লামিচানে নেন একটি করে উইকেট।

এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সিলেটকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন লিটন কুমার দাস ও সাব্বির রহমান। রংপুরের বোলারদের তুলোধুনো করে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে স্কোরকার্ডে দুজন মিলে জমা করেন ৬১ রান। সাব্বির কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও অপরপ্রান্তে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন লিটন। ২৯ বলে তুলে নেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি।

লিটন-সাব্বিরের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭৩ রান। ভয়ঙ্কর হতে থাকা এই জুটি ভেঙে রংপুর রাইডার্সকে ব্রেকথ্রু এনে দেন বেনি হাওয়েল। ইনিংসের নবম ওভারে সাব্বিরকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ডানহাতি পেসার। আউট হওয়ার আগে সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ২০ রান। এরপর লিটন দাসের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রান যোগ করেন দুজন।

এই জুটি ভাঙে লিটনের বিদায়ে। ইংনিসের ১৫তম ওভারে ২ রান নিতে গিয়ে রান আউটের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা লিটন। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৭০ রান করেন তিনি। তাতেও লাগাম টানা যায়নি সিলেটের রানের চাকায়।

লিটনের বিদায়ের পর যেন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন ওয়ার্নার। রংপুরের বোলারদের উপর শাসন অব্যাহত রেখে ৩৩ বলে তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান অপরাজিত থাকেন ৬১ রানে। ৩৬ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ রান করেন তিনি। এ ছাড়া ১৬ বলে ৩ চার ও এক ছক্কায় ২৬ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন নিকোলাস পুরান।

রংপুরের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন শফিউল ইসলাম। এ ছাড়া বেনি হাওয়েল নেন এক উইকেট।

প্রিয় খেলা/রুহুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...