গ্রাফিক্স প্রিয়.কম

১৪ বছর পার হলেও এখনো পিছিয়ে টেলিটক

‘আগামী ছয় মাসে ঢাকা শহরে আমরা বলতে পারব অন্য অপারেটরের চেয়ে ভালো। যেটা আমরা থ্রিজিতে করেছি।’

রাকিবুল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৫ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪০
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৫ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৪০


গ্রাফিক্স প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর হিসেবে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করে টেলিটক। গত ১৪ বছরে মোবাইল ব্যবহারকারীদের ধরে রাখার অভিজ্ঞতা থাকার কথা এই অপারেটরটির। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে না লাগিয়ে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গত চার বছর পার করেছে রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটক। এক বছর গ্রাহক বাড়লে পরের বছর কমে যায়, এভাবে সময় অতিবাহিত করছে রাষ্ট্রীয় এই অপারেটরটি। এর জন্য মূলত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিকে দুষছে টেলিটক কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ (২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত) পরিসংখ্যান বলছে, চার বছর আগের অবস্থানেও নেই টেলিকম ব্যবসায় টেলিটক। অথচ এই চার বছরে অন্যান্য অপারেটরে সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার চেয়ে বৃদ্ধির হার বেশি।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫ কোটি ৬৯ লাখ, যা ২০১৪ সালে ছিল ১২ কোটি সাড়ে তিন লাখ। এর মধ্যে ২০১৪ সালে টেলিটকের মোট সিম ব্যবহারকারী ছিল ৩৮ লাখ ৬০ হাজার, যা ২০১৮ সালে কমে হয়েছে ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার।

চার বছরের মধ্যে ২০১৪ সালের চেয়ে ২০১৫ সালে দুই লাখ ৮৩ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছিল টেলিটকের। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে পাঁচ লাখের বেশি গ্রাহক হারিয়েছে এই অপারেটরটি। ফের ২০১৭ সালে সাড়ে আট লাখের বেশি গ্রাহক বাড়লেও ২০১৮ সালে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ গ্রাহক হারিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই অপারেটরটি।

অপরদিকে ২০১৪ সালে গ্রামীণফোনের মোট সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি ১৫ লাখ। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে সাত কোটি ২৭ লাখের বেশি। ২০১৪ সালে বাংলালিংকের মোট সিম ব্যবহারকারী ছিল তিন কোটির কিছু বেশি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে তিন কোটি ৩৫ লাখ। এ ছাড়া এয়ারটেলের সঙ্গে এক হওয়ার আগে রবির মোট সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৫২ লাখ। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে চার কোটি ৬৮ লাখের বেশি।

পর্যাপ্ত তরঙ্গ থাকলেও পরিধি বাড়ছে না টেলিটকের

তরঙ্গের দিক থেকে বাংলালিংকের কাছাকাছি রয়েছে টেলিটক। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী বাংলালিংকের রয়েছে ৩০ দশমিক ৬ মেগাহার্টজ তরঙ্গ এবং টেলিটকের রয়েছে ২৫ দশমিক ২০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ।

বাংলালিংকের এই তরঙ্গ ব্যবহার করেন তিন কোটির বেশি গ্রাহক। তুলনার দিক থেকে বাংলালিংকের চেয়ে টেলিটকের ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ কম থাকলেও সিম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে না রাষ্ট্রীয় এ অপারেটরটির।

দেশের অন্যান্য অপারেটরের মধ্যে গ্রামীণফোনের মোট তরঙ্গ রয়েছে ৩৭ মেগাহার্টজ এবং রবির রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ।

এমএনপিতেও সুফল পায়নি টেলিটক

মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল বা এমএনপি সেবা চালু হলে ছোট অপারেটররা লাভবান হবে—এমন মত দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এমএনপি চালুর কয়েক মাসেও গ্রাহক ধরে রাখতে পারেনি ছোট অপারেটর টেলিটক। উপরন্তু এমএনপি চালুর তিন মাসে ৭৭১ জন গ্রাহক হারিয়েছে এই অপারেটরটি।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসে টেলিটক এক হাজার ৫২২ জন নতুন গ্রাহক পেলেও হারিয়েছে দুই হাজার ২৯৩ জন নিজস্ব গ্রাহক।

এ ছাড়া তিন মাসে গ্রামীণফোন হারিয়েছে ৪৯ হাজার ৬৫৮ জন, পেয়েছে ১০ হাজার ৪৯১ জন। রবি হারিয়েছে ১৮ হাজার ২২৮ জন, পেয়েছে ৭২ হাজার পাঁচ জন এবং বাংলালিংক হারিয়েছে ৩২ হাজার ২৫৬ জন, পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৫ জন।

টেলিটকের ভাষ্য

গ্রাহক কমার অন্যতম কারণ হিসেবে ২০১৬ সালে শুরু হওয়া বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম রেজিস্ট্রেশনকে দুষছেন টেলিটকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহাব উদ্দিন।

টেলিটকের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বায়োমেট্রিক যখন এলো তখন আমাদের বেশ বড় একটি সংখ্যা কমে গেছে। এরপর থেকে স্টিল নাউ (এখন পর্যন্ত) প্রতি মাসে আনুপাতিক হারে না বাড়লেও গ্রাহক বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মাসের তুলনায় এই মাসে আমাদের গ্রাহক বেড়েছে। আমাদের গ্রাহক অ্যাক্টিভ আছে কিন্তু রেভিনিউ আসছে না।’

নতুন পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কিন্তু ফোরজি চালু হয়ে গেছে। আগামী মাসেই চট্টগ্রামে চলে যাবে। আমরা আমাদের নিজস্ব ফাইনান্সে ছোট করে করেছি, যা ক্রমান্বয়ে বাড়বে।’

‘আগামী ছয় মাসে ঢাকা শহরে আমরা বলতে পারব অন্য অপারেটরের চেয়ে ভালো, যেটা আমরা থ্রিজিতে করেছি।’

টেলিটকের বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মাস ছয়েক আগে আমরা একটি প্রজেক্ট পেয়েছি ৮-১০ কোটি টাকার। আরও কিছু বিষয় পাইপলাইনে রয়েছে। “প্রতিটি গ্রাম হবে শহর” প্রধানমন্ত্রীর এই স্বপ্ন পূরণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিষয়টি মন্ত্রীর নলেজেও রয়েছে।’

প্রিয় প্রযুক্তি/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...