ফাইল ছবি

কাউন্সিল নয়, নেতা নির্বাচিত হবে ভোটে

সম্প্রতি বিএনপির নীতি নির্ধারকদের এক বৈঠকে দলের নির্বাহী কমিটির শূন্য পদসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচন করা হবে সরাসরি কমিটির সদস্যদের ভোটে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৭ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২০
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৭ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:২০


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম (স্থায়ী কমিটি) বিএনপির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন। যার সমন্বয় করে যাচ্ছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ জন্য হয়তো খালেদা জিয়ার জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে অনড় থাকা বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত দলীয় চেয়ারপারসনকে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে হয়েছে। দলের নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছিল। অবশ্য তখনো দলটির দাবি ছিল-গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে একাদশ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচনে চরম ‘ভরাডুবি’র পর এখন আবারও দল গোছানোর দিকে মনযোগ বিএনপির। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে আলোচনায় এমনটাই উঠে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট নেতাদের ভাষ্য, কারাবন্দী দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া জাতীয় কাউন্সিল করার কথা ভাবছে না বিএনপি। তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির পাঁচটি শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে সম্মতিও দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। কেননা স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য রাজনীতি থেকে অবসর নিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে পরীক্ষিত ও ত্যাগী প্রবীণ নেতার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতাদেরও স্থায়ী কমিটিতে স্থান দিতে চায় দলটি। একইসঙ্গে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ, দলের ভাইস-চেয়ারম্যানসহ নির্বাহী কমিটির ফাঁকা পদও পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, দলকে সুসংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই। তারপরও দল গোছানোর কাজ শেষ না করেই শেষ পযন্ত নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। ফলে জেলা-উপজেলা কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া থমকে যায়। একইসঙ্গে দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা গ্রেফতার কারণে পর্যুদস্ত হয়ে পড়ে বিএনপি। তাই নির্বাচনেও প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের বিপরীতে তাদের দল কোনো ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

সম্প্রতি, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ড্যাব নেতারা এক বৈঠক করেন। জানা যায় বৈঠকে পুরো সময় স্কাইপিতে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন ড্যাবের একজন নেতা জানান, বৈঠকের শুরুতে তারেক রহমান সবার সহযোগিতায় বিএনপিসহ সকল অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

দল পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা বলছেন, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দীর এক বছর পূর্ণ হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও দেশের বাইরে রয়েছেন। লাখ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, তারা ঘরে থাকতে পারছেন না। হাজারও নেতাকর্মী রয়েছেন কারাগারে। এমন অবস্থায় নতুন করে দলের জাতীয় কাউন্সিল করার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই এখন স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির শূন্য পদ পূরণের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরামর্শ দিয়েছেন। তবে দলের কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে চূড়ান্ত রুপ দিতে এবার নির্দিষ্ট কোনো সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে না। সময়-সুযোগমতো কেন্দ্রসহ সব জেলা-উপজেলা কমিটি দ্রুত পুনর্গঠন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘নতুন করে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে। বিএনপির অঙ্গ সহযোগি সংগঠনগুলোর পাশাপাশি শিগগিরই উপজেলা-জেলা পর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠনের মূল কাজ শুরু হচ্ছে।’

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় নির্বাহী কমিটি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হবে এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাহী কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত এই কমিটিই দায়িত্ব পালন করবে। কমিটি ঘোষণার সময়ই ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটির দুটি পদ ফাঁকা ছিল। বাকি ১৭ সদস্যের মধ্যে তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও এম কে আনোয়ার মারা গেছেন। ফলে বর্তমানে পাঁচটি পদ ফাঁকা। লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থতার কারণে নিয়মিত সময় দিতে পারছেন না। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ কমিটি ঘোষণার আগে থেকেই ভারতের শিলংয়ে আছেন।

এদিকে গত মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) খালেদা জিয়ার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নীতি নির্ধারকদের এক বৈঠকে দলের জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে অলোচনা হয়। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য বিষয়টি উত্থাপন করেন। তবে বেশির ভাগ সদস্যদের এ ব্যাপারে আগ্রহ না থাকায় এ নিয়ে বেশি আলোচনা হয়নি। বৈঠকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির শূন্য পদসহ দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয় এবং এবার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা নির্বাচন হবে সরাসরি কমিটির সদস্যদের ভোটে এমন সিদ্ধান্ত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নেয়ার কথা ভাবছেন। এ নিয়ে ওই দুই নেতা তাদের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। ফলে স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে আসতে পারেন ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সেলিমা রহমানের মতো প্রবীণ নেতা। তবে দুজন অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতাকেও এই পদে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র জানায়, দলটির ৭৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটির বেগম সরোয়ারি রহমান, হারুনার রশিদ খান মুন্নু, ফজলুর রহমান পটলসহ সাতজন মারা গেছেন। ৩৭ জন ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং ইনাম আহমেদ চৌধুরী দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। নির্বাহী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ দুটি কমিটি ঘোষণার পরই ফাঁকা। নির্বাহী কমিটির সাতটি আন্তর্জাতিক সম্পাদকের মধ্যে দুটি ফাঁকা। সহ-যুববিষয়ক সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হলেও যুববিষয়ক সম্পাদকের পদটি এখনো ফাঁকা। এ ছাড়া নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে মারা গেছেন চারজন। নির্বাহী কমিটির সদস্য নুর মোহাম্মদ মণ্ডল দলত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এসব ফাঁকা পদে নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ছাত্রদলসহ মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ঢেলে সাজানোর উদ্যোগও নিয়েছে বিএনপি। পর্যায়ক্রমে তাদের নতুন কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি আর প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘সুপার ফাইভ’ বা ‘সুপার সেভেন’ নামে নয়, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ফোরামে কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সরাসরি ভোটে নেতা নির্বাচন হবে।

এদিকে ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বেচ্ছাসেবক দলেরও একই অবস্থা। কৃষক দল, শ্রমিক দল, তাঁতী দল ও মৎস্যজীবী দলের আরও বেহাল অবস্থা। এসব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের দাবি অনেক আগে থেকেই করে আসছে নেতাকর্মীরা।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল