সিলেটের কোনো বোলারই পাত্তা পাননি সাকিব ও রাসেলের কাছে। ছবি: প্রিয়.কম

জয়ে ফেরার ম্যাচে সাকিব-রাসেলের খুনে ব্যাটিং

তাসকিনের বলে আন্দ্রে রাসেল এত বড় ছক্কা হাঁকান যে, বলই হারিয়ে যায়।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩১ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩১ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:৫০


সিলেটের কোনো বোলারই পাত্তা পাননি সাকিব ও রাসেলের কাছে। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) এক ম্যাচ না যেতেই ছন্দ খুঁজে নিল ঢাকা ডায়নামাইটস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে গিয়ে প্রথম হারের স্বাদ পাওয়া সাকিব আল হাসানের দল পরের ম্যাচেই স্বরুপে ফিরল। এবার তাদের শিকার ঘরের মাঠের দল সিলেট সিক্সার্স। ব্যাটে-বলে শাসন করে শুক্রবার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ইতোমধ্যেই শিরোপার দাবিদার হয়ে ওঠা ঢাকা।   

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নারের হাফ সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ১৫৮ রান তোলে স্বাগতিক সিলেট। জবাবে ভালো শুরু না পেলেও জয় তুলে নিতে সমস্যা হয়নি ঢাকা ডায়নামাইটসের। ম্যাচসেরা সাকিব আল হাসান ও আন্দ্রে রাসেলের খুনে ব্যাটিংয়ে ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল ঢাকা। ছয় ম্যাচের মধ্যে এটা ঢাকার পঞ্চম জয়।  

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারালেও রান তোলার দিক থেকে পিছিয়ে থাকেনি ঢাকা ডায়নামাইটস। মিজানুর রহমানকে এক পাশে রেখে ঝড়ের গতিতে ব্যাটিং শুরু করেন ওপেনার সুনীল নারিন। এমন ব্যাটিংয়ে ২ ওভারেই ২৩ রান যোগ হয়ে যায় ঢাকার স্কোরকার্ডে। তবে ক্যারিবীয় এই অলরাউন্ডারের ব্যাটিং ঝড় দীর্ঘ হয়নি। ১০ বলে ৩টি চার ও একটি ছক্কায় ২০ রান করে থামেন তিনি।

নারিনের বিদায়ে বিপদ নেমে আসে ঢাকা ডায়নামাইটস শিবিরে। পরের ওভারেই ফিরে যান এক রান করা মিজানুর। তেড়েফুঁড়ে শুরু করা রনি তালুকদারও উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ১৩ রান করা রনির স্টাম্প উপড়ে নেন সিলেটের লেগ স্পিনার সন্দ্বীপ লামিচান। ৩৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া ঢাকাকে দিক হারাতে দেননি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ঢাকার আফগান রিক্রুট দারউইশ রসুলিকে সঙ্গে নিয়ে ভয়ডরহীন ব্যাটিং করতে থাকেন সাকিব।

তার ব্যাটিং দেখে মনে হয়নি ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিপদে পড়েছিল ঢাকা। রসুলিও কাম যাননি। এ দুজনের এমন ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লের ৬ ওভার থেকে ৫৩ রান পায় ঢাকা। এরপর ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে শুরু করেন সাকিব। তৃতীয় উইকেটে রসুলির সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। এ সময় ১৯ রান করা রসুলি ঠান্ডা মেজাজে খেললেও সাকিব রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন সিলেটের বোলারদের ওপর দিয়ে।

রসুলি ফেরার পর ছক্কা মেরে বল হারিয়ে ফেলা আন্দ্রে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ঢাকার অধিনায়ক। ৪১ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস খেলেন ম্যাচসেরা সাকিব। তবে ২১ বলে ২টি চার ৪টি ছক্কায় ঝড়োগতির ৪১ রান করা আন্দ্রে রাসেল ছিলেন আরও ভয়ঙ্কর চেহারায়। ১৬তম ওভারে তাসকিন আহমেদের একটি ডেলিভারিতে রাসেল এত বড় ছক্কা হাঁকান যে, বলই হারিয়ে যায়। সিলেটের মোহাম্মদ ইরফান দুটি এবং তাসকিন ও লামিচান একটি করে উইকেট নেন।

এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা সিলেট সিক্সার্সের শুরুটা মন্দ হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান রান যোগ করেন সিলেটের দুই ওপেনার লিটন দাস ও সাব্বির রহমান। যদিও এই শুরুর ধারায় থাকতে পারেনি দলটি। ১৪ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় ২৭ রান করে লিটন ফেরার পর সাব্বিরও খেই হারান। পরের ওভারে আন্দ্রে রাসেলের শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ১৬ বলে ১১ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান।

আফিফ হোসেন ধ্রুবকে সঙ্গে নিয়ে এই চাপ কাটিয়ে তোলেন ৬৩ রানের ধুন্ধুমার এক ইনিংস খেলা সিলেটের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৪০ রান যোগ করেন তারা। দারুণ শুরু করেও অধিনায়ককে বেশি সময় সঙ্গ দিতে পারেননি আফিফ। ঢাকার হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতেই নেমেই ৩ উইকেটে নেওয়া প্রোটিয়া অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু বার্চের বলে আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ১৯ রান করেন তরুণ বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বাকিটা সময় একাই লড়েছেন ওয়ার্নার। ব্যাট চালাতে পারেননি অলোক কাপালি, নিকোলাস পুরানরা। তবে সাত নম্বরে ব্যাটিং করতে নামা জাকের আলীর সঙ্গ হয়তো উপভোগ করেছেন ওয়ার্নার। অষ্টম উইকেটে ৬৩ রানের জুটি গড়েন এই দুই ব্যাটসম্যান। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ৬৩ রান করেন ওয়ার্নার।

১৮ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ২৫ রান করেন জাকের। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন বার্চ। অবশ্য এই ৩ উইকেট নিতে তাকে বেশ খরচা করতে হয়। চার ওভারে ১০.৫০ ইকোনমিতে ৪২ রান ব্যয় করেন ডানহাতি এই পেসার। এ ছাড়া সাকিব ২টি এবং রাসেল, নারিন ও রুবেল হোসেন একটি করে উইকেট নেন।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ  

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...