ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সমাবেশকে কীভাবে দেখছে বিএনপি

বিএনপি নেতারা বলছেন, জনগণের কাছে বিএনপির নৈতিকভাবে বিজয় হয়েছে, পরাজয় হয়েছে আওয়ামী লীগের।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৯ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৫
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৩:৪৯ আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৫


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন উপলক্ষে ‘বিজয় উৎসব’ উদযাপনে মহাসমাবেশ করছে আওয়ামী লীগ। এতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। পক্ষান্তরে নির্বাচনে নৈতিক পরাজয় ঢাকতেই আওয়ামী লীগ মহাসমাবেশের কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছে বিএনপি।

১৯ জানুয়ারি, শনিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ।

মহাসমাবেশস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেশের বরেণ্য বিশিষ্ট নাগরিকদের।

১৯ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির নেতা–কর্মীরা। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৈতিক পরাজয় ঢাকতেই আওয়ামী লীগ বিজয় উৎসবের আয়োজন করেছে।এ বিজয় উৎসবের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরাতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মূল অবদান ছিল, একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে দেশকে বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায় নিয়ে আসা। তিনি গণতন্ত্রের বহুমাত্রিকতাকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন। গণতন্ত্র, ভোট প্রদানের অধিকার, সর্বোপরি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন। আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য যে এই মহান ব্যক্তির জন্মদিনের দিনেই আওয়ামী লীগ তাদের ভয়াবহ ভোট ডাকাতির মধ্যে দিয়ে যে ক্ষমতা দখল করেছে সেটার উৎসব পালন করছে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি। এ দলের নেতাকর্মীরা সাহসী আন্তরিক, এই নির্বাচনে তারা প্রমাণ করেছে। এবার আমাদের অঙ্গীকার জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। যারা বলেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির পরাজয় হয়েছে, আমি মানতে পারি না। জনগণের কাছে আমাদের নৈতিকভাবে বিজয় হয়েছে, পরাজয় হয়েছে আওয়ামী লীগের।’

আরেকজন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এটাকে কখনোই নির্বাচন বলা যায় না। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের মনে রাখতে হবে। এটা কখনই আমাদের সংবিধান সম্মত নির্বাচন হয়নি। আজকে ৯৭ শতাংশ আসন মহাজোট পেয়েছে। আপনারা যদি নিউইয়র্ক টাইমস পড়েন, ওয়াশিংটন পোস্ট পড়েন, গার্ডিয়ান পড়েন, লন্ডনের অবজারভার পড়েন, সারা দুনিয়ার কেউ বিশ্বাস করে না সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। এটা ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফল ঘটেনি।’

১৮ জানুয়ারি, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির এই দুই প্রবীণ নেতা এসব বলেন।

বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় টানা তৃতীয়বার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের শোডাউনের প্রথম সুযোগ আজকের সমাবেশ। এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেছেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমাবেশ প্রাঙ্গণের আশেপাশের এলাকা। লালসবুজ টি-শার্ট, ক্যাপ পরে সমাবেশ স্থলে বিজয় উদযাপনে আসছেন নেতাকর্মীরা। সমাবেশকে ঘিরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ১২টায়। বেলা ১১টায় সমাবেশস্থলে প্রবেশের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

১৭ জানুয়ারি দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতির মাধ্যমে বিজয়ী হওয়ার পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে শুরু করে থানায় থানায় উৎসব চলছে। কেন এই উৎসব? এখন তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পদক দেওয়া হবে কেন, এগুলো জাতি তা জানতে চায়। এটা কি গায়েবি মামলার পুরস্কার? মৃত ব্যক্তিকে আসামি করার পুরস্কার? বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে জেলে ঢোকানোর পুরস্কার? বিরোধী নেতাকর্মীদেরকে এলাকা ছাড়া করার পুরস্কার? বিরোধী দলকে নির্বাচনি মাঠে নামতে না দেওয়ার পুরস্কার? পোস্টার লাগাতে না দেওয়ার পুরস্কার? ধানের শীষের প্রার্থীদের গুলি করা, হামলা করা, জেলে ঢোকানোর পুরস্কার? ধানের শীষের এজেন্টদের গ্রেফতার করা, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, মারধর করার পুরস্কার? সর্বোপরি ভোটের আগের রাতে ভোটকেন্দ্র দখলে নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারদেরকে বাধ্য করে রাতভর ব্যালটে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার পুরস্কার? বাংলাদেশ থেকে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কৃতিত্বের জন্যই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।’

প্রিয় সংবাদ/রিমন

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...