তৃতীয় উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়ার পথে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও রাইলি রুশো। ছবি: প্রিয়.কম

ভিলিয়ার্স এলো, জিতলো রংপুর

হারের বৃত্তে বন্দী থাকা রংপুরের জন্য যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

মুশাহিদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:১৭ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪৭
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:১৭ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৪৭


তৃতীয় উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়ার পথে এবি ডি ভিলিয়ার্স ও রাইলি রুশো। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পঞ্চম আসরের মতো এবারও তারকানির্ভর দল গড়েছে রংপুর রাইডার্স। মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোহাম্মদ মিঠুনদের পাশাপাশি দলে রয়েছেন ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলসের মতো তারকা ও মারকুটে ব্যাটসম্যান। তবুও যেন সাফল্য মিলছিল না! বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের প্রথম ছয় ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এর মাঝেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে এসেছেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। সেই স্বস্তিই জয় হয়ে ধরা দিলো হারের বৃত্তে বন্দী থাকা রংপুরের হাতে।

শনিবার বিপিএলে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এদিন সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে সাব্বির রহমানের হাফ সেঞ্চুরি এবং নিকোলাস পুরানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৯৪ রান তোলে ডেভিড ওয়ার্নারের দল। জবাবে ম্যাচসেরা রাইলি রুশোর হাফ সেঞ্চুরি, অ্যালেক্স হেলস ও ডি ভিলিয়ার্সের তিরিশোর্ধ্ব ইনিংস এবং শেষদিকে ফরহাদ রেজার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রংপুর। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন ক্রিস গেইল। পরের ওভারে সাজঘরে ফিরতে পারতেন রুশোও। কিন্তু সিলেটের উইকেটরক্ষক নিকোলাস পুরান ক্যাচ ছেড়ে দেওয়ায় জীবন পান বাঁহাতি এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে অ্যালেক্স হেলসের সঙ্গে ৬৩ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন তিনি।

ইনিংসের সপ্তম ওভারে হেলসকে ফিরিয়ে বড় হতে থাকা এই জুটি ভাঙেন অলোক কাপালি। ২৪ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৩ রান করে লিটন কুমার দাসের ক্যাচে পরিণত হন হেলস। ততক্ষণে তিনবার জীবন পাওয়া রুশো উইকেটে সেট হয়ে যান। ব্যক্তিগত ১, ১২ ও ২০ রানে জীবন পাওয়ার পর ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন প্রোটিয়া এই ব্যাটসম্যান। একই সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে গড়েন ৬৭ রানের জুটি।

রুশোকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন ৪ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদ। ৩৫ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬১ রান করা রুশোকে লিটনের ক্যাচে পরিণত করেন ডানহাতি এই পেসার। এই ওভারের শেষ বলেই তাসকিনের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন ডি ভিলিয়ার্স। আউট হওয়ার আগে ২১ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ আসে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাট থেকে। তবে পঞ্চম উইকেটে ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে রাখেন মোহাম্মদ মিঠুন ও নাহিদুল ইসলাম।

১৮তম ওভারে দুজনকে ফিরিয়ে দিয়ে সিলেটকে যেন জয়ের স্বপ্নই দেখিয়েছিলেন তাসকিন। আউট হওয়ার আগে মিঠুন ১৪ ও নাহিদুলের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। শেষ দিকে ফরহাদ রেজা ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর। ৬ বলে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন ফরহাদ রেজা। ৩ বলে একটি চারে ৫ রানে অপরাজিত থাকেন মাশরাফি।

৪ ওভারে ৪২ রান খরচ করলেও সিলেটের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন তাসকিন। এ ছাড়া একটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ ইরফান ও অলোক কাপালি।

এরআগে টস হেরে ব্যাটিং করতে নামা দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি তার চোখ জুড়ানো ব্যাটিং। স্কোরকার্ডে মাত্র ১৩ রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন ডানহাতি এই ওপেনার। আউট হওয়ার আগে ৮ বলে একটি চার ও একটি ছক্কায় ১১ রান করেন লিটন। এরপর আফিফ হোসেন ধ্রুবকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন সাব্বির রহমান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ৩৯ রান। ধ্রুবর বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। ১৯ রান করে আউট হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন সাব্বির। রান তোলার মিশনে সাব্বিরের সঙ্গে যোগ দেন অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ৫১ রানের জুটি। এই জুটি গড়ার পথে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাব্বির। ৩৪ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। আগের দুই ম্যাচে ব্যাক টু ব্যাক হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিলেও এদিন হাসেনি ওয়ার্নারের ব্যাট। জ্বলে ওঠার আগেই মাশরাফি বিন মুর্তজার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে ২১ বলে তিনি করেন ১৯ রান।

শেষদিকে সাব্বিরের পাশাপাশি ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন নিকোলাস পুরান। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দুজন মিলে যোগ করেন ৮২ রান। সেঞ্চুরির পথে হাঁটা সাব্বিরকে থামান রংপুর পেসার শফিউল ইসলাম। ৫১ বলে ৫টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৮৫ রান করে থামেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। সাব্বিরের বিদায়ের পর জাকের আলীকে নিয়ে বাকিটা পথ পাড়ি দেন পুরান। শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৪টি চার এবং ৩টি ছক্কায় ৪৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি।

৪ ওভারে ৩১ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট নেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। এ ছাড়া শফিউল ইসলাম নেন একটি উইকেট।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...