১৪৮ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীকে ১৭৬ রানের পড় সংগ্রহ এনে দেন ডেসকাট ও ইভান্স। ছবি: প্রিয়.কম

ইভান্স-ডেসকাটের ব্যাটে রাজশাহীর দারুণ জয়

রাজশাহীর দুই বিদেশি ব্যাটসম্যানের তোপে কুমিল্লার বোলারদের নাভিশ্বাস অবস্থা হয়ে গিয়েছিল।

শান্ত মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৭ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৯
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৭ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৯


১৪৮ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীকে ১৭৬ রানের পড় সংগ্রহ এনে দেন ডেসকাট ও ইভান্স। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) পুরো ইনিংসে দুটি নাম; লরি ইভান্স ও রায়ান টেন ডেসকাট। রাজশাহী কিংসের আউট হওয়া তিন ব্যাটসম্যানের কেউ-ই পারেননি ব্যাট হাতে সামান্যতম লড়াই চালাতে। অবশ্য দরকারও পড়েনি। এই দুই ব্যাটসম্যানের তোপেই কুমিল্লার বোলারদের নাভিশ্বাস অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। বিদেশি এই দুই ব্যাটসম্যানের তোলা রান নিয়ে লড়াই চালানো রাজশাহীর বোলাররা দলের মুখে হাসি এনে দিয়েছেন। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নিজেদের সপ্তম ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ৩৮ রানে হারিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।     

সোমবার মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও সেটা ভুলিয়ে দিয়েছেন রাজশাহী কিংসের দুই বিদেশি ব্যাটসম্যান। ম্যাচসেরা লরি ইভান্সের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও রায়ান টেন ডেসকাটের দারুণ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩ উইকেটে ১৭৬ রান তোলে রাজশাহী। জবাবে কামরুল ইসলাম রাব্বি-মুস্তাফিজুর রহমানদের বোলিংয়ের সামনে ১৮.২ ওভারে ১৩৮ রানে শেষ হয় কুমিল্লার ইনিংস। চলতি বিপিএলে রাজশাহীর এটা চতুর্থ জয়।  

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শুরুটা একেবারে মন্দ হয়নি। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান যোগ করেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। বিজয় দেখেশুনে ব্যাটিং করলেও মারকুটে মেজাজের তামিমের দেখা মেলে। যদিও সেই ধারায় থাকতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। রাজশাহীর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বিকে ছক্কা মারতে গিয়ে মার্শাল আইয়ুবের হাতে ধরা পড়তে হয় ২৫ রান করা তামিমকে।

দ্বিতীয় উইকেটে বিজয়ের সঙ্গে যোগ দিয়ে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সামসুর রহমান শুভ। তিনিও পারেননি, ১৫ রান করে বিদায় নিতে হয় ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানকে। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে দিয়ে উইকেট হারিয়েছে কুমিল্লা। দলীয় ৯৩ রানে জিয়াউর রহমান ফেরার পরও কুমিল্লাকে অগোছালো মনে হয়নি।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে ১৪তম ওভারে। উইকেটে গিয়েই তেড়েফুঁড়ে শুরু করা কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েসকে ফিরিয়ে দেন রাজশাহীর আফগান লেগ স্পিনার কাইস আহমেদ। পরের বলে থিসারা পেরেরাকেও থামিয়ে দেন কাইস। আশা জাগিয়ে ফিরে যান ১৯ রান করা শহীদ আফ্রিদিও। এরপর ১৭ রান করা লিয়াম ডসন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, ওয়াহাব রিয়াজরা পারেননি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে। ৩ ওভারে মাত্র ১০ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন রাজশাহীর পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। এ ছাড়া কাইস, ডেসকাট ও মুস্তাফিজ ২টি করে উইকেট নেন।   

এরআগে ব্যাটিংয়ে নামা রাজশাহী কিংসের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলীয় ৭ রানেই ফিরে যান ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস। শুরুর এই চাপ কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও ধাক্কা খেতে হয় রাজশাহীকে। পুরো ইনিংসে রাজশাহীকে পথ দেখানো লরি ইভান্স একপাশ সামলে নিলেও অন্য পাশে ভাঙনের সুর বেজেছে আরও কিছুটা সময়। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ রানের খাতাই খুলতে পারেননি। দলীয় ২৮ রানে ফিরে যান মার্শাল আইয়ুবও।

দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যাওয়া রাজশাহী পাওয়ার প্লের ৬ ওভার থেকে মাত্র ২৮ রান পায়। তবে শুরুর এই অংশটুকু ভুলিয়ে দিতে সময় নেননি বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান লরি ইভান্স ও রায়ান টেন ডেসকাট। এই দুই ব্যাটসম্যান ইনিংস শেষ করে মাঠ ছাড়েন। মাঝে গড়েন ১৪৮ রানের জুটি। যা চলতি আসরে সর্বোচ্চ রানের জুটি। বিপিএলের ইতিহাসে এটা ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রানের জুটি।

১৪৮ রানের জুটি গড়ার পথে কুমিল্লার বোলারদের ওপর দিয়ে রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়েছেন রাজশাহীর এই দুই বিদেশি ব্যাটসম্যান। শেষ ১১ ওভারে ১২.৩৬ গড়ে ১৩৬ রান তুলেছেন তারা। শেষ ৫ ওভারে গিয়ে তাণ্ডব আরও বেড়েছে। শেষ ৩০ বলে ১৪.৮ গড়ে তুলেছেন ৭৪ রান। কুমিল্লার কোনো বোলারই তাদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া লরি ইভান্স ৯টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১০৪ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। ইংলিশ এই ব্যাটসম্যানের সঙ্গে সমানে ব্যাট চালিয়েছেন ডেসকাটও। নেদারল্যান্ডসের ডানহাতি এই অলরাউন্ডার ৪১ বলে ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলেন।

কুমিল্লার লিয়াম ডসন ২টি ও মেহেদী হাসান একটি উইকেট নেন। উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি কম খরুচেও ছিলেন এই দুই বোলার। কুমিল্লার সবচেয়ে খরুচে বোলার থিসারা পেরেরা। ৩ ওভারে ১৪.৩৩ ইকোনমিতে ৪৩ রান দিয়েছেন লঙ্কান এই পেসার। কুমিল্লার আরেক বিদেশি ওয়াহাব রিয়াজ চার ওভারে ১১.০০ ইকোনমিতে খরচা করেছেন ৪৪ রান।

প্রিয় খেলা/শান্ত মাহমুদ    

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...