মুরগি চুরির অভিযোগে কিশোরকে নির্যাতন করা হয়। ছবি সংগৃহীত

মুরগি চুরির অভিযোগে নির্যাতন: ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

মুরগি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোর রুবেলকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে সেটি মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৬ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৭
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:০৬ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৭


মুরগি চুরির অভিযোগে কিশোরকে নির্যাতন করা হয়। ছবি সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) ভোলার চরফ্যাশনে মুরগি ‍চুরির অভিযোগে রুবেল নামে এক কিশোকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ওই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল ও মামলা হওয়ার পরেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনাটি অনুসন্ধান করে সাত দিনের মধ্যে একটি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

২১ জানুয়ারি, সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত পত্রিকার প্রতিবেদনটি তুলে ধরে নির্যাতনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে অমিত দাস গুপ্ত প্রিয়.কমকে বলেন, ‘চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নে মুরগি চুরির অপবাদে রুবেলকে নির্যাতন করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদের নেতৃত্বে ওই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে ওই পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। আমি পত্রিকার প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনি। বিষয়টি আমলে নিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।’

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, ‘গত ১৫ নভেম্বর নির্মম এই ঘটনা ঘটলেও নির্যাতনকারীদের হুমকি আর আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করতে পারেনি। নির্যাতনের নির্মম দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় ঘটনার দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও পুলিশ ভুক্তভোগীর মাকে ডেকে নিয়ে নির্যাতনকারী হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আমজাদ হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করে গত শনিবার শশীভূষণ থানায় মামলা করে।

অমিত দাশ বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হবে আমাদের অভিভাবক। বিপদ-আপদের সঙ্গি। তাদের দ্বারা দাত্বিজ্ঞানহীন কাজ কোনোমতেই আশা করতে পারি না। এ ধরনের মধ্যযুগীয় বর্বরতা মেনে নেওয়া যায় না।’

সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার প্রিয়.কমকে জানান, এ ঘটনায় শশীভুষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সমন্বয়ে ওই অনুসন্ধান প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে দাখিল করতে বলেছে।

তিনি জানান, বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত।

২১ জানুয়ারি, সোমবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মানুষ এত নিষ্ঠুর হয়!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত আদালতের নজরে আনেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী রুবেলের মা বিলকিছ বেগমের উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘রুবেল জেলে নৌকার বাবুর্চি। ঘটনার আগের দিন বনভোজন খাওয়ার জন্য রুবেলসহ বেশ কয়েকজন মুরগি কিনে আনেন। এই মুরগি চুরি করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন স্থানীয় মেম্বার। ১৫ নভেম্বর ঘটনার দিন মুরগি চুরির অপবাদে স্থানীয় মেম্বার বাড়ি থেকে রুবেলকে ডেকে নিয়ে ৭নং ওয়ার্ডের হাজারীগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্রামবাসীর সামনে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধর করে। রুবেলকে বাম পায়ের সাথে ডানহাত এবং ডান পায়ের সাথে বাম পা বেঁধে বদ্ধ হাত-পায়ের মাঝখানে মোটা লাকড়ির চলা ঢুকিয়ে পাছায় পেটানো হয়।

চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের রুবেল (১৪) নামের এক কিশোরকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আমজাদের নেতৃত্বে মুরগি চুরির অপবাদে নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় রুবেলের মা বিলকিছ বেগম বাদি হয়ে শশীভুষণ থানায় একটি মামলা করেছেন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

জেলার যখন নিজেই জেলে...

প্রিয় ৮ ঘণ্টা, ১১ মিনিট আগে

loading ...