বগুড়া এলাকা থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা। ছবি: প্রিয়.কম

‘নেত্রীর ভিশন বাস্তবায়ন করতে চাই’

ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। এসব বিবেচনায় দল ও নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৪ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৫
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৪ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৫


বগুড়া এলাকা থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বগুড়া এলাকা থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নির্বাচিত হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়ন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের একসময়ের তুখোড় নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা।

২১ জানুয়ারি, সোমবার তিনি প্রিয়.কমের কাছে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন।  

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র আন্দোলন, দুর্দিনে মানুষের পাশে থেকে সামাজিক কাজ, নারীদের সমস্যার সমাধান, সংসদে গিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে আইন পাসে ভূমিকা, এলাকার স্থানীয় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণসহ নানা ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছেন আওয়ামী লীগ থেকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়ন-প্রত্যাশী এই আইনজীবী জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের জন্য কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন? সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হিসেবে কাজ করতে পারবেন কি না? আইন পেশার পাশাপাশি তিনি কীভাবে সংসদে ভূমিকা রাখবেন? স্থানীয়ভাবে কোনোদিন নেতৃত্ব দেননি, এমপি নির্বাচিত হলে কীভাবে সাধারণ জনগণের নেতৃত্ব দেবেন? প্রিয়.কমের কাছে জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

প্রিয়.কম: এমপি নির্বাচিত হলে কীভাবে কাজগুলো করতে চান?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা: একজন এমপি মহান সংসদে গিয়ে আইন পাসে সহযোগিতা করে থাকেন। আমি একজন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, পড়ালেখাও করেছি আইন বিষয়ে। আশা করছি এমপি হলে সংসদে গিয়ে জনকল্যাণে আইন পাসে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে পারব। কোনো সমস্যা হবে না। কারণ আমি ও আমার পরিবারের বাকি সদস্যরাও আইনের সঙ্গে জড়িত। সংসদে গিয়ে জনবান্ধব, জনকল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে এমন আইন তৈরিতে সহযোগিতা করব। অনেক আইনের কার্যকারিতা নাই। যেমন ২০১১ সালের জাতীয় নারী নীতিমালার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে চাই। নারীদের সঠিকভাবে পরামর্শ দিয়ে সচেতনভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

প্রিয়.কম: আপনি বগুড়ার মানুষ, নদীভাঙনকবলিত এলাকার জন্য কোন কাজগুলোকে গুরুত্ব দেবেন?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা:  এমপি নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে নদীভাঙনকবলিত এলাকার গরিব-অসহায়-দুস্থ মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। নদীভাঙন এলাকার মানুষরা অনেক কষ্ট করে। তাদের পাশে দাঁড়াতে শহররক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেব। বন্যার সময় তাদেরকে কষ্ট থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করব। যেটি আমি অতীতেও করেছি। আমি তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। ভবিষ্যতেও থাকতে চাই।

প্রিয়.কম: স্থানীয় রাস্তাঘাট নির্মাণে কী ধরনের উদ্যোগ নেবেন?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা: আমরা উত্তরবঙ্গের মানুষ। আমাদের এই বঙ্গটি অনেক দিক থেকেই অবহেলিত। কারণ এটি বন্যাকবলিত এলাকা। এর আগে উত্তরবঙ্গ থেকে যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, তারা অনেক দিক থেকেই রাস্তাঘাট-ব্রিজের কাজ করেছেন। কিন্তু এখনো আমরা সব সুযোগ-সুবিধা পাইনি। আমি সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি নির্বাচিত হলে, আমার প্রথম কাজ হবে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত প্রতিটি গ্রামকে শহরে বাস্তবায়ন করা।

সেই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য নিরলসভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। অনেক রাস্তা কাঁচা রয়েছে, অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ আসেনি। অন্ধকারে নিমজ্জিত। সেই এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব। যারা বেকার, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে চাকরির ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করব।

প্রিয়.কম: নারীদের বিষয়ে কী করতে চান?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা: জননেত্রী শেখ হাসিনা নারীদের প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের স্বাবলম্বী করেছেন। আমিও নেত্রীর মতো সে কাজগুলো করার চেষ্টা করব। জননেত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল যে কাজটি করে গেছেন প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে। আমি তাকে ফলো করব। আমি নির্বাচিত হলে আমার উত্তরবঙ্গে একটি প্রতিবন্ধী শিশুদের  জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব। যেসব নারী খেলাধুলায় ভালো করছে তাদের বিষয়ে কাজ করব।

প্রিয়.কম: আপনি প্রফেশনাল একজন আইনজীবী, এমপি নির্বাচিত হলে কাজের ক্ষেত্রে আইন পেশায় বিঘ্ন ঘটবে কি না?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা: প্রফেশনের পাশাপাশি রাজনীতিতে সময় দেওয়া আমার জন্য কঠিন হবে না। কারণ আপনারা জানেন আমি ছোটবেলা থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত। এমপি নির্বাচিত হলে প্রফেশনে কোনো সমস্যা হবে না আশা করি।

প্রিয়.কম: ইতোপূর্বে আপনি কখনো স্থানীয়ভাবে নেতৃত্ব দেননি। নতুনভাবে নেতৃত্ব পেলে কীভাবে কাজ করবেন?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা: আমি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী। আমি বারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পাস করেছি। আইনজীবীরা যেহেতু শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের অংশ, তাদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। আশা করছি এমপি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেও কাজ করে যেতে পারব।

প্রিয়.কম: দলের হাইকমান্ড ও নেত্রী আপনাকে কেন মূল্যায়ন করবেন বলে মনে করছেন?

জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপা: আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ১৯৮৫ সালে বগুড়ার সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশ নেই। সে সময় এই প্রতিষ্ঠানে এক হাজার সাতশ মেয়ে পড়ালেখা করত। সেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমি বিপুল ভোটে পাস করি। এরপর আমাকে ভিপি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমি সেটি না নিয়ে একটি সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার সময় মুন্নুজান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করি ১৯৮৯ থেকে ’৯৪ সাল পর্যন্ত।

১৯৯৪ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হই। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টে এসে ২০০৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হই। ভোট পেয়েছিলাম সবচেয়ে বেশি। সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনের ইতিহাসে এ রকম ভোট দ্বিতীয় কেউ পাননি। ২০১০ সাল থেকে মহিলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। এসব বিবেচনায় দল ও নেত্রী আমাকে মূল্যায়ন করবেন বলে আশা করছি।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...