খেলোয়াড়দের মাথা ন্যাড়া করা এই ছবিটাই ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

মাথা ন্যাড়া করে হারের শাস্তি, তোপের মুখে কোচ

খেলোয়াড়দের ওজর-আপত্তিতে কান দেননি কোচ। উল্টো হুমকি দেন, ন্যাড়া না হলে ভবিষ্যতে আর খেলা হবে না।

সৌরভ মাহমুদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:২৯ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৪
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:২৯ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৪


খেলোয়াড়দের মাথা ন্যাড়া করা এই ছবিটাই ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়া। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) হারার শাস্তি কিনা মাথা ন্যাড়া করে ফেলা! এমনই বিরল ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে।

সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে হকি ইন্ডিয়া জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১৯ (বি-বিভাগ)-এর কোয়ার্টার  ফাইনালে হরিয়ানার কাছে ১-৫ গোলে ধরাশায়ী হয় পশ্চিম বাংলা। খেলা শেষে কোচ পঙ্কজ আনন্দ তিরস্কার করেন। একই সঙ্গে বলেন, ‘হারের শাস্তিস্বরূপ তোমাদের ন্যাড়া হতে হবে।’

খেলোয়াড়দের ওজর-আপত্তিতে কান দেননি কোচ। উল্টো হুমকি দেন, ন্যাড়া না হলে ভবিষ্যতে আর বাংলার হয়ে খেলা হবে না। এর প্রতিবাদ করলেও লাভ হয়নি। কলকাতা ফেরার সময়ে স্টেশনে ডেকে খেলোয়াড়দেরবলেন, ‘প্রত্যেককে বাড়ি গিয়ে ন্যাড়া হয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোবাইলে ছবি পাঠাতে হবে।’

দলটি শুক্রবার রাতে কলকাতায় ফেরে। ভীত খেলোয়াড়রা শনিবার ন্যাড়া হয়ে ছবি পাঠান কোচের মোবাইলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা যায়, দলের ১৮ জন সদস্যের মধ্যে দুই জন ছাড়া বাকি সকলেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন। ওই ছবিই ছড়িয়ে পড়ে নেট দুনিয়ায়। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ক্রীড়া মহলে।

দলের ১৮ জন সদস্যের মধ্যে দুই জন ছাড়া বাকি সকলেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলার জুনিয়র হকি খেলোয়াড়দের মাথা কামানো বিতর্কে তোলপাড় গোটা দেশ। দেশের ক্রীড়ামহলে ছি ছি পড়ে গেছে। এই অবস্থায় গোটা ঘটনার তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করে ফেলল রাজ্য হকি সংস্থা। যাতে থাকছেন অলিম্পিয়ান গুরবক্স সিং। তদন্ত কমিটির সামনে ডাকা হচ্ছে অভিযুক্ত কোচ আর ম্যানেজারকে।

শোনা হবে খেলোয়াড়দের বক্তব্যও। তারপরই অভিযুক্ত কোচের ব্যাপারে নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। কোচ আনন্দ অবশ্য এসব অস্বীকার করছেন। তার মতে, কোনো রাজনীতি চলছে তাকে ঘিরে। ছেলেরা লজ্জিত হয়ে নিজেদের ইচ্ছাতেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছে বলে মত হকি দলের এই কোচের।

এ নিয়ে আনন্দর ভাষ্য, ‘আমি কখনও কাউকে এরকম করতে বলিনি। আর আমি যদি ন্যাড়া করাতামই, তাহলে জব্বলপুরেই করাতাম। এখানে এসে কেন? সবচেয়ে অবাক লাগছে, গত শুক্রবার আমরা ফিরেছি। আর সেটা নিয়ে কথা হচ্ছে দু’দিন পর। আমার মনে হয় এখানে কোনো রাজনীতি চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অধিনায়ক রাহুল কুমারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ও নিজে আমাকে বলেছে, লজ্জিত হয়ে নিজেদের ইচ্ছায় এই কাজ করেছে। আজকাল ছেলেরা বাবা-মায়ের কথাই শোনে না, কোচের কথায় ন্যাড়া হয়ে যাবে? আমি খেলোয়াড়দের চাঙ্গা করতে, ওদের মধ্যে জোশ আনতে বকাবকি করি। এটা তো সব কোচই করে থাকে।’

দলের অনেকে অবশ্য বলছেন, কোচের নির্দেশের প্রতি সম্মান জানাতেই নাকি মাথা কামিয়েছেন তারা। এখানে কারও কোনো চাপ ছিল না।

বেঙ্গল হকি অ্যাসোসিয়েশনের সচিব স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ঘটনাটি জেনেছি, অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। অনুসন্ধান করে দেখা হবে দোষী কে। ২৩ তারিখের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রিয় খেলা/রুহুল