আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত

ছেলে চান বাবার দাফন হোক বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২২ জানুয়ারি ভোর সোয়া ৪টার দিকে আফতাব নগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মিঠু হালদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫৭ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:২৬
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:৫৭ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:২৬


আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) সদ্য প্রয়াত গুণী শিল্পী আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছেলে সামির আহমেদ বলেছেন, তিনি তার বাবার দাফন আজই সম্পন্ন করতে চান। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ জানান, তার বাবাকে যেন রাজধানীর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত স্থানে দাফন করা হয়।

রাজধানীর আফতাব নগরের বাসায় আজ সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন সামির আহমেদ।

বরেণ্য গীতিকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ২২ জানুয়ারি, মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে আফতাব নগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

সকাল ৭টার দিকে এই শিল্পীর ব্যক্তিগত সহকারী রোজেন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘স্যার ভোর সোয়া ৪টার দিকে মারা গেছেন। এর আগে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে জানান, ‘‘তাড়াতাড়ি বাসায় আসো, আমার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।’ তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি স্যারের বাসায় যাই। পরে মহাখালীর রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল) নিয়ে যাই।’

চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সাড়ে ৫টার দিকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান রোজেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে শিল্পী বুলবুলের মরদেহ। আগামীকাল বুধবার সকাল ১১টায় তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ থাকবে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদে জানাজা। সেখানে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে, সর্বস্তরের জনগণ জানাবেন শ্রদ্ধা। পর্বটি পরিচালনা করবে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

গোলাম কুদ্দুছ জানান, তার জানাজার বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একমাত্র ছেলের সঙ্গে কথা বলে আরও পরে সিদ্ধান্ত আসবে। তার দুই বোনের একজন থাকেন বিদেশে। তিনি ফিরবেন বুধবার সকালে।

গত প্রায় এক বছর ধরে নানা অসুস্থতায় ভোগা এই সুরকারের বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদযন্ত্রের জটিলতায় ভুগছিলেন।

২০১৮ সালের মাঝামাঝি বুলবুলের হার্টে আটটি ব্লক ধরা পড়ে। তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বুলবুলকে ভর্তি করা হয় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। সেখানে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা বুলবুলের বাইপাস সার্জারি না করে শরীরে রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন। এরপর চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেন তিনি।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল তিন শতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করে দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

‘এই দেশ আমার সুন্দরী রাজকন্যা’, ‘উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘মাঝি নাও ছাইড়া দে’, ‘ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘সেই রেল লাইনের ধারে’, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবনা’- এমন বহু কালজয়ী গানের স্রষ্টা এই শিল্পী।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...