ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন। ফাইল ছবি

ডাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা ছিলেন ভিপি-জিএস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জট খোলার প্রেক্ষাপটে এখন বিরোধী সব পক্ষই একযোগে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ চাইছে।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৪ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২১
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৪ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২১


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) এদেশের সব স্বাধিকার আন্দোলনে গৌরবজনক ভূমিকা পালন করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। আর ছাত্র আন্দোলনে সব সময় সোচ্চার ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নেতৃত্বের বিকাশও ঘটত ডাকসু মাধ্যমে। এ জন্যই ডাকসুকে নেতা তৈরির আঁতুড় ঘর বলা হয়। সেখানে ডান, বাম, মধ্যপন্থা- সব দলেরই নেতাদের সক্রিয়-সগৌরব অংশগ্রহণ ছিল। ডাকসুর নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতারাই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতিতে রেখে চলেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। অথচ দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে হচ্ছে না সেই ডাকসু নির্বাচন। যদিও ফের ডাকসুকে সক্রিয় করতে ছাত্র নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের জট খোলার প্রেক্ষাপটে এখন বিরোধী সব পক্ষই একযোগে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ চাইছে। একদিকে সেই আলোচনা চলছে, অন্যদিকে ছাত্র-শিক্ষক থেকে শুরু করে ছাত্র রাজনীতিতে ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে ডাকসু নির্বাচনের হাওয়া। এই নির্বাচনে এবার সম্ভাব্য ভোটার রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান গতকাল (২১ জানুয়ারি) ১৪টি ছাত্রসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে দ্বিতীয় দফা পরিবেশ পরিষদের বৈঠক করেছেন।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সৃষ্টি হয়। ডাকসুর প্রথম ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। এক বছর মেয়াদকালের জন্য নির্বাচিত কমিটিগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়সীমার বেশি সময় দায়িত্ব পালন করে।

১৯২৮-২৯ সেশনে ভিপি ও জিএস হিসেবে নির্বাচিত হন এ এম আজহারুল ইসলাম ও এস চক্রবর্তী, ১৯২৯-৩২ সময়কালে রমণী কান্ত ভট্টাচার্য ও কাজী রহমত আলী ও আতাউর রহমান, ১৯৪৭-৪৮ সেশনে অরবিন্দ বোস ও গোলাম আযম, ১৯৫৩-৫৪ সালে এস এ বারী এটি ও জুলমত আলী খান, ফরিদ আহমেদ।

এরপর ভিপি ও জিএস নির্বাচিতদের মধ্যে যথাক্রমে রয়েছেন নিরোদ বিহারী নাগ ও আব্দুর রব চৌধুরী, একরামুল হক ও শাহ আলী হোসেন, বদরুল আলম ও মো. ফজলী হোসেন, আবুল হোসেন ও এটিএম মেহেদী, আমিনুল ইসলাম তুলা ও আশরাফ উদ্দিন মকবুল, বেগম জাহানারা আখতার ও অমূল্য কুমার, এস এম রফিকুল হক ও এনায়েতুর রহমান, শ্যামা প্রসাদ ঘোষ ও কে এম ওবায়েদুর রহমান, রাশেদ খান মেননমতিয়া চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন ও আসাফুদ্দৌলা, ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী ও শফি আহমেদ, মাহফুজা খানম ও মোরশেদ আলী, তোফায়েল আহমেদ ও নাজিম কামরান চৌধুরী, আ স ম আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুস মাখন।

স্বাধীন বাংলাদেশে ডাকসুর ভিপি-জিএস ছিলেন যারা

১৯৭২-৭৯ সময়কালে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে দায়িত্ব পালন করেন ছাত্র ইউনিয়নের মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও মাহবুব জামান। ১৯৭৯, ১৯৮০ ও ১৯৮২ সালে ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল। প্রথম দুটি নির্বাচনে যথাক্রমে জাসদ-ছাত্রলীগের এবং বাসদ-ছাত্রলীগের প্রার্থী হয়ে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জিতেছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না ও আখতারুজ্জামান।

১৯২২ সালে ডাকসু প্রতিষ্ঠিত হওয়া পরে এক নাগারে দুই মেয়াদে ডাকসুর ভিপি-জিএস পদে নির্বাচিত হন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আখতারুজ্জামান। যে দুটি মেয়াদে তারা নির্বাচিত হন সে দুটি মেয়াদ ছিল (১) ১৯৭৯-৮০, ১৯৮০-৮১ এবং ১৯৮১-৮২।

১৯৮২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৮৯ পর্যন্ত ভিপি ও জিএস পদে যথাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন আখতারুজ্জামান ও জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। ১৯৮৯-৯০ সেশনে দায়িত্ব পালন করেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং মুশতাক আহমেদ। ১৯৯০ সালের ৬ জুন ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ১৯৯০-৯১ সেশনের জন্য ভিপি ও জিএস পদে যথাক্রমে নির্বাচিত হন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান ও খায়রুল কবির খোকন। এরপর বিভিন্ন সময়ে ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়া হলেও আর নির্বাচন হয়নি।

গতকাল (২১ জানুয়ারি) ডাকসুর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদের বৈঠক শেষে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বেশির ভাগ ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা ভোটার হবেন, তারাই যেন প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পান৷ এই পয়েন্টে আমরা সবাই একম ৷ তবে সব বিষয়ে সিন্ডিকেটের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’  

ওই সভায় কারা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, কারা পারবেন না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের মতামত দিয়েছেন।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...