নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ছবিটি সংগৃহীত

ভাল্লাগে-খুশিতে-ঠেলায়-ঘোরতে

আনন্দ-উল্লাস আর দুষ্টমিতেও ‘ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’। আবার তীর্যকতাতেও ‘ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’।

কাকন রেজা
সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৩ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৩
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৩ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:৩৩


নাসিরুদ্দিন হোজ্জার ছবিটি সংগৃহীত

‘ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’ এই শব্দগুলো এখন বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘হট আইটেম’। যে কেউ, অপছন্দের যেকোনো বিষয়ে প্রয়োগ করছেন এমন সব শব্দের। ফেসবুকে আমার সাথে সদ্য যোগ হওয়া একজনের প্রোফাইল দেখছিলাম। একটি মেলার আয়োজন নিয়ে লিখতে গিয়ে বাঁকা কারণে তিনি লিখলেন, ‘খুশিতে, ঠ্যালায়, ঘোরতে’। এক অধ্যাপক বন্ধুজনও কোনো এক অপ্রাপ্তিকে সামনে এনে লিখলেন, ‘ না পেলেও কেনো আবেদন করেন? মনে করেন ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’। এমন শব্দসমূহের প্রকাশ হওয়া উচিত ছিল মূলত আনন্দে, উল্লাসে বা দুষ্টুমিতে, উল্টো ক্ষোভের তীর্যক প্রকাশের অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সকল শব্দরাজি। সামাজিকমাধ্যম অন্তত তাই বলে।

এই তীর্যকতার মূলটা খুঁজতে গেলে বিব্রত হতে হয়। সত্যিকার অর্থে মানুষ হিসেবে খুবই ক্ষুদ্র আর নাগরিক পরিচয়ে বড় অসহায় মনে হয়। এমন ক্ষুদ্রতা আর অসহায়ত্বের ফলাফল হলো হতাশা। প্রতিটা মানুষের ভেতরেই এক ধরনের ডিফেন্স মেকানিজম কাজ করে। হতাশায় সক্রিয় হয় সেই মেকানিজম। ক্ষোভ বহিঃপ্রকাশের স্বাভাবিক পথ যখন রুদ্ধ হয়, সেই মেকানিজম তখন কাজ করে। করে ‘ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’। স্যাটায়ারের উদ্ভবও সেই মেকানিজমে। গোপাল ভাঁড়, বীরবল, নাসিরুদ্দিন হোজ্জাদের জন্মও একই ভাবে।

নাসিরুদ্দিন হোজ্জার একটি গল্প বলি। এক পাবলিক নাসিরুদ্দিন হোজ্জার কাছে আসলেন জ্ঞান শিক্ষার জন্য। হোজ্জা বললেন, থাকো আমার সাথে কিছুদিন, এমনিতেই অনেক কিছু শিখে যাবে।

একদিন প্রচণ্ড ঠান্ডায় হোজ্জার স্ত্রী ঘর গরম রাখার জন্য একটি পাত্রে কয়লার আগুন দিয়ে গেলেন। একসময় কয়লার আগুন প্রায় নিভু নিভু, হোজ্জা ফুঁ দিয়ে তা জ্বালানোর চেষ্টা করতে লাগলেন। শিখতে আসা সেই পাবলিক বললেন, হোজ্জা সাহেব কী করছেন? ঘর গরম করার জন্য ফুঁ দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছি।

আরেকদিন হোজ্জার স্ত্রী কাপ ভর্তি গরম চা দিয়ে গিলেন হোজ্জার জন্য। হোজ্জা আয়েশ করে কাপে ফুঁ দিয়ে দিয়ে চা পান করছিলেন। এমন সময় সেই পাবলিক জিজ্ঞেস করলেন, চায়ের কাপে ফুঁ দিচ্ছেন কেন? হোজ্জা বললেন, ঠান্ডা করার জন্য।

পাবলিক বেচারা আশ্চর্য হয়ে বললেন, একবার ফুঁ দিয়ে গরম করছেন, আবার ঠান্ডা, ঘটনা কী? এক ফুঁয়ে গরম, আবার সেই ফুঁয়েই ঠান্ডা, আমারে বোকা ঠাউরেছেন, না আপনি নিজেই বোকা।

আনন্দ-উল্লাস আর দুষ্টমিতেও ‘ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’। আবার তীর্যকতাতেও ‘ভাল্লাগে, খুশিতে, ঠেলায়, ঘোরতে’। দুটোর দুরকম অর্থ না বুঝলে, হয় আমি বোকা, নয় আপনি।

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। প্রিয়.কম লেখকের মতাদর্শ ও লেখার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত মতামতের সঙ্গে প্রিয়.কম-এর সম্পাদকীয় নীতির মিল না-ও থাকতে পারে।]