সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী শাহ মঞ্জুরুল হক। ছবি প্রিয়.কম।

ছয়বার পরাজিত আওয়ামী লীগ এবার পারবে?

এ নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টানা ছয়বার পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৫ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৫১
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:৫৫ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৫১


সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী শাহ মঞ্জুরুল হক। ছবি প্রিয়.কম।

(প্রিয়.কম) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৯-২০ সেশনের নির্বাচন কিছু দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টানা ছয়বার পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা। আর টানা ছয়বার জয়ী হয়েছেন বিএনপিপন্থি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তবে সভাপতিসহ অন্যান্য পদে এমনটি হয়নি।

২০১৯-২০ সেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় এ পদে বিজয় অর্জন করতে। ইতোমধ্যে এ পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাজও শুরু করেছেন। প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র আহ্বান করেছে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।

সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকেই। তাদের মধ্যে শাহ মঞ্জুরুল হক অন্যতম। আওয়ামী লীগ এই পদে নির্বাচন করতে একজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের আইনজীবী খুঁজছে। কারণ ছয়বার হেরে যাওয়া এই পদটি উদ্ধার করতে চান তারা। আইনজীবীদের কাছে যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরা এবারের নির্বাচনে পুরো প্যানেলে বিজয় অর্জন করতে চাই। সেই পরিকল্পনা নিয়েই কাজ করছি।’

সম্পাদক পদে আপনাদের সংগঠনের প্রার্থীরা টানা ছয়বার পরাজিত হয়েছেন। এ পদে এবারের নির্বাচনটি কিভাবে দেখছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ পদে একজন সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ক্লীন ইমেজের আইনজীবী খুঁজছি আমরা।’

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিচ্ছেন শাহ মঞ্জুরুল হক। ছবি: প্রিয়.কম

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন শাহ মঞ্জুরুল হক। ২১ জানুয়ারি, মঙ্গলবার মনোনয়ন পেতে সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের কাছে আবেদন করেন তিনি।

এই আইনজীবী কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি ১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভুক্ত হন। এরপরের বছর সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হন। আর অপিল বিভাগে তালিকাভুক্ত হন ২০০৯ সালে।

বেক্সিমকো গ্রুপ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেড, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি, রিহ্যাব ও বোর্ড অব এয়ারলাইন্সসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট কোম্পানির আইনজীবী হিসিবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ কেন আপনাকে মনোনয়ন দেবে— এমন প্রশ্নের জবাবে শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আমি দলের একজন নিবেদিত কর্মী। দলের সকল কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, কাজ করছি। দলীয়ভাবেও অনেক কিছু করেছি। সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেক আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছি, তাদেরকে আইনি সেবা দিয়েছি। আমার কাজ ও দক্ষতা দেখে দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দেবেন বলে বিশ্বাস করি।’

শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, আমি দেশ বরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের কাছে সুপ্রিম কোর্টের আইন পেশায় হাতেখড়ি। তাকেই বেছে নিয়েছি সিনিয়র হিসেবে। ওকালতির সব কিছুই স্যারের কাছে শিখেছি। ওকালতির সব অর্জনই রফিক-উল হক স্যারের কারণে। আমার জীবনে দুজন ব্যক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, একজন রফিক-উল হক, আরেকজন ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। আমার পেশা শুরু করেছি এই দুজনের মাধ্যমে। লোটাস কামাল (আ হ ম মুস্তফা কামাল), সালমান এফ রহমান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ অনেকের পক্ষে মামলা করছি। এসব বিবেচনায় আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবো।’

প্রিয় খেলা/রুহুল